ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ আন্তর্জাতিক ]

চলমান উত্তেজনার মধ্যেই সিরিয়ায় গোলা নিক্ষেপ করল ইসরায়েল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০:০০, ৯ এপ্রিল ২০২৩
চলমান উত্তেজনার মধ্যেই সিরিয়ায় গোলা নিক্ষেপ করল ইসরায়েল
সংগৃহীত - আল-জাজিরা

বেশ কয়েকবার ইসরায়েলি হামলায় ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে সিরিয়ার রাজধানী দামেস্ক। এর আগে ও কয়েক দফা হামলা চালিয়েছিল দেশটি। এবার ইসরায়েলের দিকে রকেট ছোড়ার জবাবে সিরিয়ায় পাল্টা গোলা নিক্ষেপ করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। লেবানন, গাজা, অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেন ও পশ্চিম তীরে ক্রমবর্ধমান সহিংসতার মধ্যেই সিরিয়ায় এ হামলা চালালো দখলদার ইসরায়েল।

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী বলেছে, সিরিয়ার ভূখণ্ড থেকে দুই দফায় ইসরায়েলের উদ্দেশ্যে রকেট হামলা চালানো হয়। এর মধ্যে প্রথম দফায় ছোড়া তিনটি রকেটের একটি ইসরায়েলি অধিকৃত গোলান উপত্যকায় গিয়ে পড়ে। দ্বিতীয় দফায়ও তিনটি রকেট ছোড়া হয়। এর জেরে উত্তর ইসরায়েলে সতর্কতা সাইরেন বেজে ওঠে। তবে ঐ হামলা কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

এ ঘটনার জবাবে সিরিয়ায় রকেট নিক্ষেপের স্থানে গোলা ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে ইসরায়েল। তবে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি সিরীয় সরকার।

Advertisement

একটি সংবাদমাধ্যমে, সিরীয় ভূখণ্ড থেকে ইসরায়েলে রকেট হামলার দায় স্বীকার করেছে ফিলিস্তিনি ইসলামিক জিহাদ আন্দোলনের সশস্ত্র শাখা আল-কুদস ব্রিগেড। আল-আকসা মসজিদে ফিলিস্তিনিদের হামলার প্রতিবাদে এই হামলা চালানো হয় বলে জানান তিনি।

এর আগে, গত বুধবার (৫ এপ্রিল) পূর্ব জেরুজালেমে অবস্থিত মুসলিমদের তৃতীয় পবিত্রতম স্থাপনা আল-আকসা মসজিদে ফিলিস্তিনি মুসল্লিদের ওপর হামলা চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। সে সময় গ্রেফতার করা হয় কমপক্ষে ৪০০ ফিলিস্তিনিকে।

আরো পড়ুন>> নাইজেরিয়ায় ৮০ জনকে অপহরণ করল বন্দুকধারীরা

এর পরের দিন আল-আকসায় ফের তাণ্ডব চালায় ইসরায়েলিরা। এসময় মসজিদে ইবাদত করতে যাওয়া ফিলিস্তিনিদের ওপর স্টান গ্রেনেড ও রাবার বুলেট ছোড়া হয়। আল-আকসা থেকে জোর করে বের করে দেওয়া হয় ফিলিস্তিনি মুসল্লিদের। এ ঘটনা পরিপ্রেক্ষিতে ইসরায়েলে হামলা করে লেবানন ও গাজা।

পবিত্র মসজিদটিতে ইসরায়েলি তাণ্ডবের পর অবরুদ্ধ পশ্চিম তীরে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। এতে আহত হন বহু ফিলিস্তিনি। এছাড়া নাবলুসে ইসরায়েলি বাহিনীর ছোড়া বিষাক্ত গ্যাসে অন্তত ১২ ফিলিস্তিনি আহত হন। হেবরনের উত্তর সিটি সংলগ্ন বাইত উমর, জেনিন-বেথেলহেমেও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

পাশাপাশি, ইসরায়েলি বাহিনী দাবি করেছে, বৃহস্পতিবার লেবানন থেকে ইসরায়েলের উদ্দেশ্যে ৩৪টি রকেট ছোড়া হয়েছে। এর মধ্যে ২৫টি আকাশেই ধ্বংস করা হয় এবং অন্তত চারটি রকেট ইসরায়েলের ভূমিতে গিয়ে আঘাত হানে। এগুলো ছিল লেবানন থেকে চলতি বছরে প্রথম এবং ২০০৬ সালে হিজবুল্লাহ বাহিনীর সঙ্গে ৩৪ দিনের যুদ্ধের পর থেকে ইসরায়েলের দিকে সর্বোচ্চ রকেট ছোড়ার ঘটনা।

এর পরপরই গাজা ও লেবাননে বিমান হামলা চালায় দখলদার ইসরায়েল। তাতে উত্তেজনা আরো বেড়ে যায়। শুক্রবার তেল আবিবে একটি গাড়ি-ধাক্কায় এক ইতালীয় নাগরিক নিহত এবং আরো পাঁচ পর্যটক আহত হলে চাপে পড়ে ইসরায়েলিরা। তার কয়েক ঘণ্টা আগে অধিকৃত পশ্চিম তীরে একটি অবৈধ ইসরায়েলি বসতির কাছে একজন ফিলিস্তিনির গুলিতে দুই ইসরায়েলি নারী নিহত ও আরেকজন আহত হন।

পবিত্র রমজান মাসে ইসরায়েলি নিরাপত্তাবাহিনীর এমন ন্যাক্কারজনক হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বিভিন্ন দেশ। আল-আকসায় মুসল্লিদের ইসরায়েলের হামলায় বিক্ষুদ্ধ হয়ে উঠেছে ফিলিস্তিনের সাধারণ জনগণ।

সূত্র: আল-জাজিরা

ডেইলি-বাংলাদেশ/আরটি
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!