ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ আন্তর্জাতিক ]

যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে ৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র কিনছে তাইওয়ান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০:৫৫, ১৮ এপ্রিল ২০২৩
যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে ৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র কিনছে তাইওয়ান
ফাইল ছবি

তাইওয়ানকে ঘিরে চীনের আক্রমণাত্মক সামরিক মহড়া শেষ। এরপরেই চীনকে সতর্ক করতে সর্বকালের সবচেয়ে বড় সামরিক মহড়ার আয়োজন করে তিন দেশ। যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে এই মহড়ায় অংশগ্রহণ করেন জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া। 

চীন ও তাইওয়ানের চলমান উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে ৪০০টি জাহাজ-বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র কিনতে যাচ্ছে তাইওয়ান। চীন এই ভূখণ্ডটিকে দেশের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করতে কার্যত আগ্রাসী মনোভাব পোষণ করছে। 

মঙ্গলবার (১৮ এপ্রিল) এক প্রতিবেদনে বার্তাসংস্থা রয়টার্স এই তথ্য জানিয়েছে। মূলত বাণিজ্য গোষ্ঠীর একজন নেতা এবং তাইওয়ানের ক্ষেপণাস্ত্র কেনার বিষয়টি জানেন এমন ব্যক্তিদের বরাত দিয়ে মার্কিন এই সংবাদমাধ্যমটি এই তথ্য প্রকাশ করেছে।

Advertisement

ইউএস-তাইওয়ান বিজনেস কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট রুপার্ট হ্যামন্ড-চেম্বার্সের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাইওয়ানের পক্ষে ইউএস নেভাল এয়ার সিস্টেম কমান্ডের জারি করা বোয়িং-এর সাথে একটি চুক্তির ফলে (তাইওয়ান) প্রথমবারের মতো এই মিসাইলের ভ্রাম্যমাণ স্থল-চালিত সংস্করণটি পাবে। এর আগে তাইওয়ান এই মিসাইলের জাহাজ থেকে নিক্ষেপযোগ্য সংস্করণ কিনেছিল।

রয়টার্স বলছে, গত ৭ এপ্রিল ক্রেতার নাম না জানিয়ে ৪০০টি জাহাজ-বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রের জন্য ১.১৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের চুক্তির কথা ঘোষণা করে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন। দপ্তরটি বলেছে, এই মিসাইলের উৎপাদন ২০২৯ সালের মার্চের মধ্যে শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আরো পড়ুন>> সুদানে দুই বাহিনীর চলমান সংঘাতে নিহত বেড়ে ২০০, আহত ১৮০০

চলতি মাসে যুক্তরাষ্ট্র সফর করেন তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট সাই ​​ইং-ওয়েন। সেসময় তিনি ক্যালিফোর্নিয়ায় মার্কিন হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভের স্পিকার কেভিন ম্যাকার্থির সঙ্গে বৈঠক করেন। আর সেই বৈঠকে চীনের ক্রমবর্ধমান হুমকির মুখে তাইওয়ানে অস্ত্র সরবরাহ ত্বরান্বিত করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন প্রেসিডেন্ট সাই।

এর আগে ২০২০ সালে তাইওয়ান বলেছিল, সামরিক আধুনিকীকরণ প্রচেষ্টার অংশ হিসাবে তারা বোয়িং-নির্মিত স্থল-ভিত্তিক হারপুন অ্যান্টি-শিপ মিসাইল কেনার পরিকল্পনা করেছে।

এদিকে ক্ষেপণাস্ত্র কেনার সংবাদ প্রতিবেদন সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সান লি-ফ্যাং বলেন, মন্ত্রণালয় এর আগেই ক্ষেপণাস্ত্র ক্রয়ের বিষয়ে তথ্য প্রকাশ করেছিল। তিনি আরও জানান, চুক্তিটি নির্ধারিত শিডিউল অনুসারে চলবে বলে ‘আত্মবিশ্বাসী’ তিনি।

উল্লেখ্য, তাইওয়ান ইস্যুতে চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-সহ পশ্চিমা দেশগুলোর দীর্ঘদিন ধরেই উত্তেজনা চলছে। তাইওয়ান পূর্ব এশিয়ার একটি দ্বীপ, যা তাইওয়ান প্রণালীর পূর্বে চীনা মূল ভূখণ্ডের দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলে অবস্থিত। অবশ্য তাইওয়ানকে বরাবরই নিজেদের একটি প্রদেশ বলে মনে করে থাকে বেইজিং।

অন্যদিকে চীনের প্রদেশ নয়, বরং নিজেকে একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র বলে মনে করে থাকে তাইওয়ান। তাইওয়ানের ভাষ্য, দেশের ভবিষ্যৎ তার জনগণের হাতেই থাকবে। তবে তাইওয়ানকে চীনের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করতে বেইজিংয়ের চেষ্টার কমতি নেই।

সূত্র: রয়টার্স

ডেইলি-বাংলাদেশ/আরটি
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!