গত ২ জুন সন্ধ্যা ৭টার কিছু আগে বাহানাগা বাজার স্টেশনের কাছে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে চেন্নাইগামী করমণ্ডল এক্সপ্রেস। দ্রুত শুরু হয় উদ্ধারকাজ। দুর্ঘটনাস্থল থেকে শহর অনেকটা দূরে হওয়ায় অস্থায়ীভাবে মরদেহ রাখার জন্য বেছে নেয়া হয় বাহানাগা হাইস্কুলকে। স্কুলের বিভিন্ন ঘরে রাখা ছিল মরদেহগুলো।
স্থানীয়রা স্বাভাবিকভাবেই সব দেখেছিলেন। আর এখন তাদের মুখেই স্কুলে লাশ রাখার সব ঘটনা ছড়িয়ে যায়। দেহগুলো স্কুল থেকে সরিয়ে নিয়ে নেয়া হয়। কিন্তু শুরু হয়েছে নতুন সমস্যা।
.png)
স্থানীয় সূত্রে খবর, সন্ধ্যা নামলেই স্কুল চত্বরের দিকে আর কেউ পা বাড়াচ্ছেন না। স্কুলের পাশে যাদের বাড়ি তারাও রাত কাটাচ্ছেন ভয়ে ভয়ে।
স্কুলের এক শিক্ষক ভারতীয় গণমাধ্যমকে জানান, তিনি নিজে চোখে স্কুলের বর্তমান অবস্থা দেখে এসেছেন। কিছুতেই আর ঐ স্কুলে পা দেবেন না। তার ভাষ্য, এখনো মেঝেতে রক্তের দাগ রয়েছে। এছাড়া স্কুলের ছয়টি ঘরেই ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে করমণ্ডল এক্সপ্রেস দুর্ঘটনায় মৃতদের দেহাবশেষ। পাশাপাশি তীব্র গরমে মরদেহগুলোতে পচন ধরায় এখনো বাতাসে গন্ধ রয়েছে।
এদিকে, গত বুধবার থেকে স্কুলে শুরু হয় পরিষ্কারের কাজ। তারপর থেকেই নড়েচড়ে বসেন স্থানীয়রা। অভিভাবকরা বলেছেন, তারা ওই স্কুলে কিছুতেই সন্তানদের পাঠাবেন না। শিগগিরই স্কুলে পূজা-অর্চনা করে শুদ্ধ করার আবেদনও জানান তারা।
বাহানাগা হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষিকা প্রমিলা সোয়াইন জানান, ম্যানেজিং কমিটির মাধ্যমে তাকে স্থানীয়দের দাবির বিষয়ে জানানো হয়েছে। বুধ ও বৃহস্পতিবার স্কুল পরিদর্শনে যান জেলাশাসক থেকে শিক্ষা দফতরের কর্মকর্তারা। স্কুলটি ভেঙে ফেলার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে। ইতোমধ্যে বাহানাগা হাইস্কুলটি ভেঙে ফেলার কাজ শুরু হয়েছে।