ভারতীয় বার্তাসংস্থা পিটিআইয়ের বরাত দিয়ে মঙ্গলবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মুম্বাই থেকে দিল্লি যাওয়ার সময় মাঝ-আকাশে থাকা অবস্থায় এয়ার ইন্ডিয়ার একটি ফ্লাইটের মেঝেতে মলত্যাগ ও প্রস্রাব করার অভিযোগে দিল্লিতে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে বলে সোমবার পুলিশ জানিয়েছে। ঘটনাটি গত শনিবার এআইসি ৮৬৬ নাম্বার ফ্লাইটে ঘটে বলেও জানায় পুলিশ।
.png)
এনডিটিভি বলছে, অভিযুক্ত ঐ যাত্রীর নাম রাম সিং। আটকের পর তার বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, এয়ার ইন্ডিয়ার ঐ ফ্লাইটটির ১৭এফ নাম্বার সিটের যাত্রী রাম সিং বিমানের ৯ নং সারিতে মলত্যাগ ও প্রস্রাব করেন এবং থুথু ফেলেন।
এতে আরো বলা হয়েছে, বিমানের ভেতরে ঐ ব্যক্তির ‘অসদাচরণ’ পর্যবেক্ষণ করে কেবিন ক্রু তাকে মৌখিক সতর্কবাণী দেয় এবং একপর্যায়ে তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করে রাখা হয়। পরে ফ্লাইটের পাইলট-ইন-কমান্ডকেও পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত করা হয় এবং নিরাপত্তা চেয়ে অবিলম্বে বার্তাও পাঠানো হয়। এছাড়া ফ্লাইটের ভেতরে এই ধরনের কাজ বেশ কয়েকজন যাত্রীকে বিক্ষুব্ধ করেছে বলেও এফআইআরে বলা হয়েছে।
এনডিটিভি বলছে, গন্তব্যে পৌঁছানোর পর এয়ার ইন্ডিয়ার নিরাপত্তা প্রধান সেখানে উপস্থিত হন এবং অভিযুক্ত যাত্রীকে স্থানীয় থানায় নিয়ে যান। পরে ভারতীয় দণ্ডবিধির ২৯৪ ধারা (অশ্লীল কাজ) এবং ৫১০ (জনসমক্ষে মাতাল ব্যক্তির অসদাচরণ) ধারার অধীনে মামলা নথিভুক্ত করা হয়।
এর আগে, গত বছরের ২৬ নভেম্বর নিউইয়র্ক থেকে দিল্লিগামী এয়ার ইন্ডিয়ার ফ্লাইটের বিজনেস ক্লাসে মদ্যপ অবস্থায় এক মাতাল ব্যক্তি পাশেই থাকা এক নারী সহ-যাত্রীর গায়ে প্রস্রাব করেন বলে অভিযোগ ওঠে।
এয়ার ইন্ডিয়াকে ভুক্তভোগী নারীর দেওয়া অভিযোগের ভিত্তিতে দিল্লি পুলিশ গত ৪ জানুয়ারি অভিযুক্ত ওই যাত্রীর বিরুদ্ধে এফআইআর নথিভুক্ত করে এবং তাকে বেঙ্গালুরু থেকে গ্রেপ্তার করে। পরে আদালত তাকে ১৪ দিনের রিমান্ডে পাঠায়।
আগের সেই ঘটনার ১০ দিন পর গত ৬ ডিসেম্বর প্যারিস থেকে দিল্লিগামী এয়ার ইন্ডিয়া ফ্লাইটে এক ‘মাতাল’ পুরুষ যাত্রী অন্য এক নারী যাত্রীর কম্বলের ওপর ‘প্রস্রাব’ করে দেন বলে অভিযোগ ওঠে।
এছাড়া চলতি বছরের মার্চে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক থেকে নয়াদিল্লিতে আসার সময় পৃথক ঘটনায় ফ্লাইটে এক যাত্রী তার সহযাত্রীর গায়ে প্রস্রাব করে দেন বলে অভিযোগ উঠে। ঐ ঘটনায় অভিযুক্ত যাত্রী একজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী এবং ঘটনার সময় তিনি মাতাল ছিলেন ও ঘুমাচ্ছিলেন।
পরে ফ্লাইট অবতরণের পর সিআইএসএফের কর্মকর্তারা অভিযুক্ত যাত্রীকে আটক করেন এবং দিল্লি পুলিশের হাতে তুলে দেন।