ঢাকা,  সোমবার   ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ আন্তর্জাতিক ]

কুমিরের সঙ্গে লড়াই করে বেঁচে ফিরলেন নারী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৮:১৫, ৬ আগস্ট ২০২৩
কুমিরের সঙ্গে লড়াই করে বেঁচে ফিরলেন নারী
ছবি: সংগৃহীত

পাম তেলের বাগানে কাজ করছিলেন এক নারী। এমন সময় আগে থেকে ওত পেতে থাকা এক কুমিরের আক্রমণের শিকার হন তিনি। তাকে পানিতে টেনে নিয়ে যায় সেই কুমিরটি। অন্তত দেড়টা ঘণ্টা কুমিরটি কামড় দিয়ে ধরে ছিল ওই নারীকে। তবে এ ঘটনায় মারাত্মক আহত হলেও আশ্চর্যজনকভাবে বেঁচে যান তিনি।

গত ২৭ জুলাই ইন্দোনেশিয়ার ওয়েস্ট কালিমান্তান প্রদেশে এ ঘটনাটি ঘটে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইল।

প্রতিবেদনে জানানো হয়, ওয়েস্ট কালিমান্তান প্রদেশের কেতাপাং এলাকায় ৩৮ বছরের ফালমিরা ডি জেসুস একটি পাম তেলের বাগানে কাজ করছিলেন। অগভীর ও নানা জলজ উদ্ভিদে ঢাকা পড়া একটি খাল থেকে পানি সংগ্রহ করতে যান তিনি। এ সময়ই ওত পেতে থাকা একটি কুমিরের আক্রমণের শিকার হন। গাছপালার আড়াল থেকে লাফ দিয়ে বের হয়ে এসে কুমিরটি তাকে কামড়ে ধরে, তারপর জলে নিয়ে যায় টেনে।

Advertisement

এই পরিস্থিতিতে সাহস না হারিয়ে ফালমিরা জোরে চিৎকার করে ওঠেন এবং তার বাগানের সহকর্মীরা সাহায্য করতে এগিয়ে আসা পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যান ভয়ানক প্রাণীটির সঙ্গে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, কেবল মাথাটা ওপরে ভাসিয়ে সঙ্গীদের বাড়িয়ে দেওয়া লাঠি আঁকড়ে ধরে আরো গভীর পানিতে তাকে নিয়ে যাওয়া থেকে তিনি নিবৃত্ত করার চেষ্টা করছেন কুমিরটিকে। অন্যদিকে পাম বাগানের অন্য কর্মীরা লাঠি দিয়ে পানিতে বারি দিচ্ছিলেন, যেন ওটা ভয় পেয়ে সরে পড়ে। অবশ্য কুমিরটির ভয়ে পানিতে নামতে সাহস পাচ্ছিলেন না কেউ।

দুর্বিষহ সেই সময়ের স্মৃতিচারণা করে ফালমিরা বলেন, ‘কুমিরটা আমার যেখানটায় কামড়ে ধরেছিল সেখানটায় প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব করছিলাম। কোনোভাবেই নিজেকে মুক্ত করতে পারছিলাম না। তার পরই খুব দুর্বল অনুভব করতে শুরু করি। আমার মনে হচ্ছিল মারা যাচ্ছি, কারণ পানির নিচে তলিয়ে যাচ্ছিলাম।’

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কুমিরটি ৯০ মিনিটের মতো ফালমিরাকে আঁকড়ে ধরে ছিল। ওটার চেষ্টা ছিল তাক পানির নিচে টেনে নেয়ার। তবে ফালমিরার সৌভাগ্য, পানি খুব গভীর ছিল না সেখানে, আর সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে আরো বেশি মানুষ জড়ো হতে থাকে সাহায্যের জন্য। একপর্যায়ে বিশালাকারের সরীসৃপটা বুঝতে পারে পরিস্থিতি তার আয়ত্তের বাইরে চলে যাচ্ছে। শিকার ছেড়ে পিছু হটে সে। নারীর সঙ্গীদের মধ্যে সাহসী কয়েক জন পানিতে নেমে তাকে উদ্ধার করে কাছের হাসপাতালে নিয়ে যান।

ফালমিরা বলেন, ‘হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে শুয়েও কুমিরটিকেই যেন দেখতে পাচ্ছিলাম। মনে হচ্ছিল ওটা আমার শরীর আঁকড়ে ধরে আছে।’

বলেন এই নারী, ‘কুমিরটির কবল থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য যারা সাহায্য করেছেন, তাদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। তারা আমার জীবন বাঁচিয়েছেন।’

ইন্দোনেশিয়ার সাংবাদিকদের হাসপাতালের চিকিৎসক জানিয়েছেন, দুই সন্তানের জননী ওই নারীর ডান বাহু, ঊরু ও পায়ের নিচের অংশে গভীর ক্ষত তৈরি হয়েছে। তবে ধীরে ধীরে তিনি পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠবেন। আর এভাবে কুমিরের সঙ্গে দেড় ঘণ্টা জলের রাজ্যে লড়াই করে ফিরে আসাটাতে অত্যাশ্চর্য ঘটনা হিসেবেই দেখছেন সবাই।

এদিকে স্থানীয় পুলিশ, ফালমিরা যিনি ৯০ মিনিট প্রচণ্ড সাহস দেখিয়ে কুমিরের সঙ্গে লড়াই করেছেন এবং যাঁরা তাকে সাহায্য করেছেন তাদের ধন্যবাদ দিয়েছেন। একই সঙ্গে বাগানটিতে কাজ করা মানুষ এবং এই এলাকার বাসিন্দাদের পানির কাছে যাওয়ার সময় আরো সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। এখানে বলে রাখা ভালো, ইন্দোনেশিয়ায় বেশ কয়েক জাতের কুমিরের বাস।

বন্যপ্রাণী সংরক্ষণবিদেরা বলছেন, কুমির বিভিন্ন গ্রামের আশপাশের জলাধারগুলোয় বেশি করে আসছে। কারণ অতিরিক্ত মাছ শিকারের কারণে কুমিরের প্রাকৃতিক খাবার কমে যাচ্ছে। পাশাপাশি বিভিন্ন উপকূলীয় এলাকায় পামসহ বিভিন্ন বাগান তৈরির কারণে বসবাসের জায়গাও হারাচ্ছে কুমির। এদিকে এসব এলাকায় গ্রামের মানুষ নিয়মিতই নদীতে গোসল ও মাছ শিকার করে। এতে কুমিরের আক্রমণ বাড়ছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/মাহাদী
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!