ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ আন্তর্জাতিক ]

জীবিকার তাগিদে অটো চালাচ্ছে স্কুলছাত্রী!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ২০:০০, ৬ আগস্ট ২০২৩
জীবিকার তাগিদে অটো চালাচ্ছে স্কুলছাত্রী!
গায়ত্রী হালদার - ফাইল ছবি

বাবা বিছানায় শয্যাশায়ী। অভাবের সংসারে তাই লেখাপড়ার পাশাপাশি সংসারের হাল ধরতে হয়েছে গায়ত্রী হালদারকে। বছর পনেরোর এই কিশোরীর বাড়ি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার গাইঘাটার মধ্য বকচরা এলাকায়।

স্থানীয় একটি বালিকা বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির গায়ত্রী প্রতিদিন খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠে। এরপর খাওয়া-দাওয়া সেরে সকাল ৬টার মধ্যেই অটো নিয়ে বেরিয়ে পড়ে। এরপর দুপুরে বাড়ি ফিরে। গোসল ও খাবার খেয়ে আবার বেরিয়ে পড়ে। রাত ৮টায় বাড়ি ফিরে লেখাপড়া করতে বসে। এভাবেই প্রতিদিন সংগ্রাম করে বড় হচ্ছে সে।

তবে যেদিন সে স্কুলে যায় সেদিন অটো চালাতে পারে না। ফলে ওইদিন রোজগারও বন্ধ থাকে। এমন পরিস্থিতিতেই লেখাপড়া চালিয়ে যাচ্ছে গায়ত্রী।

Advertisement

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, গায়ত্রীর বাবা অটো চালাতেন। বছরখানেক আগে তার বাবার ব্রেনস্টোক হয়। এরপর থেকে তিনি শয্যাশায়ী। একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তির অসুস্থ হয়ে পড়ায় দরিদ্র পরিবারটির সংসার চালানোই দুরূহ হয়ে পড়ে।

এমন পরিস্থিতিতে সংসারের হাল ধরার সিদ্ধান্ত নেয় গায়ন্ত্রী। হাতে তুলে নেয় বাবার অটোর চাবি। দ্রুত শেখে অটো নিয়ে রাস্তায় বেরিয়ে পড়ে সে।

গায়ত্রী বলে, বাবা অসুস্থ হওয়ার পর একদিন বলেছিল, তোকে দিয়ে কিছুই হবে না। সংসারটা ভেসে যাবে। এরপর জেদ চেপে যায়। সিদ্ধান্ত নিই অটো চালানোর।

সংগ্রামী এই কিশোরী আরো জানায়, বাড়িতে তার বাবা, মা ও বোন আছে। তার বোনও অটো চালাতে পারে। কিন্তু তার বোনের ইচ্ছা পুলিশে চাকরি করবে। তাই সে একা অটো চালিয়ে সংসার চালানোর চেষ্টা করছে।

গায়ত্রীর মা কৃষ্ণা অন্যের বাড়িতে রান্নার কাজ করেন। তিনি বলেন, মেয়ে সংসার চালাচ্ছে। কিন্তু এটা আমার ভালো লাগে না। এছাড়া কোনো উপায়ও নেই। তবে সরকার যদি তার স্বামীকে চিকিৎসার দায়িত্ব নিত তাহলে মেয়েটাকে আর অটো চালাতে হতো না। মন দিয়ে পড়াশোনা করতে পারত সে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/মাহাদী
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!