বৃহস্পতিবার গাজা উপত্যকার ক্ষমতাসীনগোষ্ঠী হামাস-নিয়ন্ত্রিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, গাজায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত ফিলিস্তিনিদের সংখ্যা ৭ হাজার ২৮ জনে পৌঁছেছে।
গত ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ২০ দিনের এ যুদ্ধে আহত হয়েছেন ১৭ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি। ইসরায়েলের হামলায় গাজায় একদিনে সর্বোচ্চ ৭৫৬ ফিলিস্তিনির প্রাণহানি ঘটনা বুধবার ঘটে।
.png)
অন্যদিকে হামাসের হামলায় ইসরায়েলিদের প্রাণহানির সংখ্যা ১ হাজার ৪০৫ জনে পৌঁছেছে। নিহতদের মধ্যে ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীর ৩০৮ সৈন্য ও ৫৮ পুলিশ কর্মকর্তা রয়েছেন। এছাড়া হামাসের অব্যাহত হামলায় ইসরায়েলে আহত হয়েছেন আরও ৫ হাজারের বেশি মানুষ।
দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে ইসরায়েলি হামলায় অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়কর পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, গাজার প্রায় ৩০ শতাংশ হাসপাতাল বন্ধ হয়ে গেছে। এসব হাসপাতালে আহত ও মুমূর্ষু রোগীদের আর চিকিৎসা দেওয়া যাচ্ছে না।
জাতিসংঘের তথ্যানুযায়ী, গাজার ৩৫টি হাসপাতালের মধ্যে এক তৃতীয়াংশ (১২টি) এবং ৭২টি স্বাস্থ্যসেবা ক্লিনিকের প্রায় দুই তৃতীয়াংশই (৪৬টি) বন্ধ হয়ে গেছে। ইসরায়েলি বিমান হামলায় ক্ষয়ক্ষতির শিকার অথবা জ্বালানির সংকটের কারণে এসব হাসপাতাল ও ক্লিনিক বন্ধ হয়ে পড়েছে।
গত ৭ অক্টোবর হামাস-ইসরায়েল যুদ্ধ শুরু হওয়ার একদিন পর গাজা উপত্যকায় সর্বাত্মক অবরোধ আরোপ করে ইসরায়েল। এই অবরোধ আরোপের কারণে গাজায় বিদ্যুৎ, খাবার, ওষুধ, পানি ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসামগ্রীর চালান সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। জাতিসংঘসহ পশ্চিমা বিভিন্ন দেশ গাজায় ইসরায়েলের সর্বাত্মক অবরোধের তীব্র সমালোচনা করে সেখানে মানবিক ত্রাণ সহায়তা পৌঁছানোর চেষ্টা করছে।