ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ আন্তর্জাতিক ]

মৃত্যুর হুংকার ছাপিয়ে নতুন প্রাণের সাড়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৩:০১, ২৮ অক্টোবর ২০২৩
মৃত্যুর হুংকার ছাপিয়ে নতুন প্রাণের সাড়া
ছবি: সংগৃহীত

এক মাস আগে গাজার বাসিন্দা জুমানা এমাদ গর্ভাবস্থার শেষ পর্যায়ে ছিলেন। তিনি আনন্দ নিয়ে সন্তান আগমনের অপেক্ষায় ছিলেন। তিনি জানতেন যে তার মেয়ে হবে। উত্তেজিত ছিল জুমানার স্বামী। প্রস্তুত ছিল হাসপাতালে যাওয়ার ব্যাগও। তার চার বছরের মেয়ে তুলিনও বোনের আগমনের অপেক্ষা করছিল। কিন্তু সেই আনন্দ ধুলোয় মিশে গেছে ইসরায়েল ব্যাপক হামলার পর।

গত ৭ অক্টোবর থেকে ইসরায়েলের ধারাবাহিক হামলায় গাজায় শত শত বাড়ি ধ্বংস হয়েছে। মৃত্যু হয়েছে ৭ হাজারের বেশি মানুষের। আহত ২০ হাজারের বেশি এবং বাস্তুচ্যুত লাখ লাখ ফিলিস্তিনি। 

নজিরবিহীন এ হামলার মধ্যেই প্রসববেদনা ওঠে জুমানার। বিবিসির সাংবাদিককে তিনি বলেন, আমি আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলাম।

Advertisement

ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক জুমানা ইসরায়েলি সরকারের নির্দেশ অনুযায়ী হামলা শুরুর দুই দিন পর উত্তর গাজার বাড়ি ছেড়ে উপত্যকার দক্ষিণাঞ্চলের দিকে রওনা হন। ভীতসন্ত্রস্ত ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা জুমানা তার মেয়েকে নিয়ে এক আত্মীয়ের বাড়িতে যান। সঙ্গে শুধু মেয়ের জন্য একটি বড় কাপড়, এক বাক্স দুধ ও ছোট একটি ব্যাগ নিয়েছিলেন তিনি।

সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে জুমানা বলেন, পরিস্থিতি খুব কঠিন ছিল। আমরা বাসায় রাতে ঘুমাতে পারছিলাম না। সেখানে এত বোমাবর্ষণ হচ্ছিল যে আমাদের অন্য জায়গায় যেতে হয়। আমার মতো অন্তঃসত্ত্বা নারীদের মাঝে মাঝে বাইরে হাঁটতে যাওয়া উচিত। কিন্তু যুদ্ধের কারণে আমরা খাবার কিনতে পর্যন্ত বাইরে যেতে পারছিলাম না।

বারবার বিদ্যুবিভ্রাট, ইন্টারনেট সেবায় বিঘ্ন ও পানিসংকট জুমানার জন্য পরিস্থিতিকে করে তোলে আরো দুর্বিষহ। এমন কঠিন পরিস্থিতিতে ১৩ অক্টোবর শুক্রবার সন্তান প্রসব করেন জুমানা।

জুমানা গাজা শহরের আল-শিফা হাসপাতালে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে হাসপাতালটি অত্যন্ত চাপের মুখে ছিল। পরে জুমানা গাজার ছোট আরেকটি হাসপাতালে যান। সেখানে পাশেই বোমা হামলা করা হচ্ছিল। তীব্র শব্দের মধ্যে অত্যন্ত উদ্বেগে ছিলেন তিনি। তিনি জানান, আমি শুধু ভেবেছিলাম যে, যাই হোক না কেন আমি আমার সন্তানের জন্ম দিতে চাই।

ডেইলি-বাংলাদেশ/আরএএইচ
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!