ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ আন্তর্জাতিক ]

আগ্নেয়গিরি থেকে উড়ছে মুঠো মুঠো সোনা!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ২০:৫১, ১৩ মে ২০২৪
আগ্নেয়গিরি থেকে উড়ছে মুঠো মুঠো সোনা!
ফাইল ফটো

বরফের মহাদেশ অ্যান্টার্কটিকায় অবস্থিত আগ্নেয়গিরি মাউন্ট এরিবাস প্রতিদিন হাজার হাজার ডলার মূল্যের সোনা উড়িয়ে দিচ্ছে।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মাউন্ট এরিবাস থেকে প্রতিদিন ৮০ গ্রাম সোনা তোলা হয় যার মূল্য ৬ হাজার ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৭ লাখ টাকা)।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অ্যান্টার্কটিকার মাউন্ট এরিবাস পৃথিবীর অন্যতম সক্রিয় আগ্নেয়গিরি, যা সোনার সাথে গ্যাস এবং বাষ্প ছড়ায়। এরিবাসের প্রায় ১ হাজার কিলোমিটার দূর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে সেই লাভা। তা পরীক্ষা করেই এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন বিজ্ঞানীরা।

Advertisement

আগ্নেয়গিরি থেকে সোনা ছিটকে পড়লেও কাছে যেতে পারছেন না বিজ্ঞানীরা। দূর থেকেই পর্যবেক্ষণ করতে হচ্ছে তাদের। এর কারণ হিসেবে বিজ্ঞানীরা বলছেন, এরিবাস আগ্নেয়গিরি যেখানে রয়েছে সেখানে তাপমাত্রা যে কোনো সময়ে মাইনাস ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমে যেতে পারে। তাই সেখানে যাওয়া একেবারেই নিরাপদ নয়। মানুষের মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।

রস সাগরের মধ্যে রস দ্বীপে এই মাউন্ট এরিবাসের অবস্থান। ১৮৪১ সালে ক্যাপ্টেন স্যার জেমস ক্লার্ক রস এ দ্বীপ আবিষ্কার করেন। তার নামেই এটি রস দ্বীপ নামেও পরিচিত। অ্যান্টার্কটিকায় প্রায় ১৩৮টি আগ্নেয়গিরি রয়েছে। এগুলোর মধ্যে ৯টি সক্রিয়। তার মধ্যে উচ্চতম হলো মাউন্ট এরিবাস। এর উচ্চতা প্রায় ৩ হাজার ৭৯৪ মিটার বা ১২ হাজার ৪৪৮ ফুট।

মার্কিন মহাকাশ সংস্থা নাসার পৃথিবী পর্যবেক্ষণকারী উপগ্রহ জানিয়েছে, পাতলা ভূত্বকের ওপর রয়েছে মাউন্ট এরিবাস আগ্নেয়গিরি। ফলে গলিত পাথর, ভস্ম আরো সহজে বেরিয়ে আসছে। সেই সঙ্গেই বেরিয়ে আসছে সোনাও। মাউন্ট এরিবাসের গহ্বরে রয়েছে একাধিক লাভার হ্রদ। তার মধ্যে একটি সক্রিয় রয়েছে ১৯৭২ সাল থেকে। তার ফলে মাঝেমধ্যে এরিবাস থেকে বেরিয়ে আসছে লাভা।

এই মাউন্ট এরিবাসের ওপর একটি বিমান ভেঙে পড়েছিল। ঘটনাটি ছিল ১৯৭৯ সালের ২৮ নভেম্বর। এতে প্রাণ হারিয়েছিলেন বিমানের ২৫৭ আরোহীর সবাই। এয়ার নিউজিল্যান্ডের একটি বিমান অ্যান্টার্কটিকার বিভিন্ন জায়গা ঘুরে অকল্যান্ডে ফেরত আসার কথা ছিল। কিন্তু মেঘলা আবহাওয়ার মধ্যে বিমান দুর্ঘটনায় পড়ে। কাউকেই জীবিত উদ্ধার করা যায়নি। তবে কয়েকজন যাত্রীর ক্যামেরা উদ্ধার করা সম্ভব হয়। সেখানেই ছিল আগ্নেয়গিরির অসংখ্য ছবি।

সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট

ডেইলি-বাংলাদেশ/মাহাদী
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!