ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ আন্তর্জাতিক ]

ইলন মাস্কের প্রেমের সম্পর্ক নিয়ে চমকপ্রদ কিছু তথ্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৫:০৪, ১১ জুলাই ২০২৪
ইলন মাস্কের প্রেমের সম্পর্ক নিয়ে চমকপ্রদ কিছু তথ্য
ইলন মাস্ক - ফাইল ফটো

চলতি বছর আবারও বাবা হয়েছেন বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ প্রযুক্তিবিদ ও ধনকুবের ইলন মাস্ক। এই নিয়ে দ্বাদশ সন্তানের পিতা হলেন মাস্ক। ১২ সন্তানের পিতা মাস্ককে নিয়ে কৌতূহলের সীমা নেই। তার একাধিক নারীর সঙ্গে সম্পর্কের কথাও অজানা নয়। শুধু সম্পর্কে থাকাই নয়, সেই সব সম্পর্কে থাকাকালীন বার বার বাবাও হয়েছেন মাস্ক।

২০২১ সালের পর সম্প্রতি আবারও চর্চায় উঠে এল মাস্ক এবং শিভন জিলিসের সম্পর্ক। এই সম্পর্কেই জন্ম নিল তাদের তৃতীয় সন্তান। তবে পুত্র না কন্যা, তা নিয়ে স্পষ্ট করে কেউই মুখ খোলেননি। অনেকেই দাবি করছিলেন, এই সন্তানকে নিয়ে ‘গোপনীয়তা’ বজায় রাখছেন মাস্ক। যদিও টেসলা কর্তা স্পষ্ট করেন, কোনও গোপন রাখার বিষয় নয়। পরিবার এবং বন্ধুবান্ধব সকলেই বিষয়টি জানতেন।

নিউরালিঙ্ক সংস্থার অপারেশন এবং বিশেষ প্রজেক্টের ডিরেক্টর জিলিস। ২০২২ সালের আগে মাস্ক-জিলিস সম্পর্কের কথা প্রায় অজানাই ছিল। এই সম্পর্ক আলোচনায় আসে, যখন তারা তাদের যমজ সন্তানের নাম পরিবর্তনের জন্য আবেদন করেন।

Advertisement

নিউরালিঙ্ক সংস্থার সহ-প্রতিষ্ঠাতা মাস্ক। এই সংস্থায় কাজ করার আগে জিলিস ওপেনএআই-তে কাজ করতেন। ওপেনএআই তৈরির ব্যাপারেও অন্যতম ভূমিকা ছিল মাস্কের। তবে পরে সেই সংস্থা থেকে বেরিয়ে আসেন তিনি।

পেশাদার বৃত্তে মাস্কের সঙ্গে জিলিসের যোগাযোগ অনেক পুরনো। তবে প্রকাশ্যে সে ভাবে তাদের কাছাকাছি আসতে দেখা যায়নি। এমনকি, এই যুগলের মধ্যে কবে থেকে প্রেমের সম্পর্কে গড়ে উঠল তাও অজানা।

অন্টারিয়োর মার্কহামে জন্ম জিলিসের। ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা করেছেন তিনি। অর্থনীতি এবং দর্শন নিয়ে পড়াশোনা শেষ করেন জিলিস। পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধূলার সঙ্গেও জড়িয়ে ছিলেন তিনি। কলেজ জীবনে খেলতেন আইস-হকি। ছিলেন গোলরক্ষক।

পড়াশোনা শেষ করে আইবিএমে কর্মজীবন শুরু করেন জিলিস। তার পর সেখান থেকে ব্লুমবার্গ বিটায় চলে যান। সেখান থেকেই ওপেনএআই। তার পর নিউরালিঙ্ক। বর্তমানে সেখানেই কর্মরত তিনি।

জিলিসের সঙ্গে সম্পর্কে থাকাকালীন এই নিয়ে তৃতীয় সন্তানের বাবা হলেন মাস্ক। জিলিসের আগে কানাডিয়ান সঙ্গীতশিল্পী গ্রাইমসের সঙ্গে সম্পর্কে ছিলেন তিনি। সেই সম্পর্কে থাকাকালীন মাস্ক তিন সন্তানের বাবা হয়েছিলেন।

২০২৩ সালে মাস্ক-গ্রাইমসের এক পুত্রকে নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছিল। সে সময় মাস্ক নিজেই তার ছেলের সঙ্গে সময় কাটানোর কিছু মুহূর্তের ছবি ভাগ করে নিয়েছিলেন সমাজমাধ্যমে। শুধুমাত্র ধনকুবেরের ছেলে বলেই যে তাকে নিয়ে চর্চা, তা কিন্তু নয়।

ইলন এবং গ্রাইমস নিজেদের সন্তানের যে নাম রেখেছেন, তা নিয়েই বেশি উৎসাহ ছিল সকলের। কারণ, সে নাম উচ্চারণ করা যায় না। নামের অর্থও মাথা খাটিয়ে বার করতে পারেননি কেউ। শেষ পর্যন্ত নিজের পুত্রের নামরহস্য ভেদ করতে মাঠে নামতে হয় ইলনকেই। তিনি জানিয়েছিলেন তার ছেলের নামের উচ্চারণ হবে, ‘এক্স অ্যাশ এ টুয়েলভ’।

এ ছাড়াও মাস্ক এবং তার প্রথম স্ত্রী জাস্টিন উইলসনের পাঁচ সন্তান রয়েছে। ২০০২ সালে তাদের এক পুত্রসন্তান হয়। নাম ছিল নেভেদা। কিন্তু মাত্র ১০ সপ্তাহ বয়সে কঠিন রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয় তার। ইলন ও জাস্টিনের প্রথম সন্তান নেভেদার মৃত্যুর পরে তলানিতে যায় তাদের সম্পর্ক।

নেভেদার পর প্রথমে যমজ এবং তার পরে একসঙ্গে তিন সন্তানের জন্ম দেন জাস্টিন। ২০০৪ সালে যমজ সন্তানের জন্ম দেন জাস্টিন। তাদের নাম গ্রিফিন এবং ভিভিয়ান। ২০০৬ সালে জন্ম নেয় তাদের আরো তিন পুত্র। ২০২২ সালে চর্চায় এসেছিলেন মাস্ক-পুত্র ভিভিয়ান। লিঙ্গ পরিবর্তন করান তিনি।

২০০৮ সালে বিচ্ছেদ হয় মাস্ক এবং জাস্টিনের। ২০১০ সালে আবার বিয়ে করেন মাস্ক। অভিনেত্রী তালুলাহ রিলিকে বিয়ে করেন তিনি। তবে সেই সম্পর্ক বেশি দিন টেকেনি। ২০১২ সালে বিবাহবিচ্ছেদ হয় তাদের। কিন্তু ২০১৩ সালে আবার তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। নতুন করে সম্পর্ক শুরু করেছিলেন তারা। যদিও ২০১৬ সালে সেই সম্পর্কে ছেদ পড়ে।

বিশ্বব্যাপী জনসংখ্যা কমানোর যে প্রচার চলছে, তার বিরুদ্ধে বরাবর সরব হতে দেখা গিয়েছে মাস্ককে। তিনি বিশ্বাস করেন যে, সভ্যতার ভবিষ্যতের জন্য আরো সন্তানধারণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

মাস্কের পরামর্শ, উচ্চ আইকিউ সম্পন্ন ব্যক্তিদের এ ব্যাপারে এগিয়ে আসা উচিত। তিনি মনে করেন, বিশ্বে উচ্চ আইকিউ সম্পন্ন ব্যক্তির সংখ্যা ক্রমেই কমে যাচ্ছে। সেই সঙ্কট মোকাবিলা করতে উদ্যোগী হতে হবে উচ্চ আইকিউ সম্পন্ন ব্যক্তিদেরই। একমাত্র বেশি সন্তানধারণই সঙ্কট মোকাবিলার অস্ত্র হতে পারে বলে মনে করেন তিনি।

মাস্কের জীবন বর্ণময়। নানা সময়ে নানা বিষয়ে তিনি সংবাদমাধ্যমের শিরোনামে চলে আসেন। বহু সিদ্ধান্তের জন্য বার বার সমালোচিত হয়েছেন মাস্ক। কিন্তু এখনও পর্যন্ত তাকে কখনও পিছিয়ে আসতে দেখা যায়নি।

স্পেসএক্স এবং টেসলার মালিক মাস্কের ব্যবসায়িক বুদ্ধিও নিয়েও কম আলোচনা হয় না। ব্যবসা বৃদ্ধি করতে এক্স (সাবেক টুইটার) নিয়ে নানান পরীক্ষা চালিয়েছেন মাস্ক। কখনও নাম পরিবর্তন, কখনও আবার ব্লু টিক নীতি পাল্টে ফেলার মতো সিদ্ধান্ত নিয়েও আলোচনা হয়েছে বিশ্বে।

একই সঙ্গে মাস্কের ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা গিয়েছে। সম্প্রতি ওয়ালস্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, স্পেসএক্সের অন্তত দু’জন কর্মীর সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেছিলেন প্রতিষ্ঠানটির সিইও মাস্ক।

দু’জনই ছিলেন স্পেসএক্সের ইন্টার্ন। মাস্ক নাকি তাদের মধ্যে এক জনকে তার সন্তানধারণের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। বিষয়টি নিয়ে সমালোচনাও হয়। তার মধ্যেই প্রকাশ্যে এল মাস্কের আবার বাবা হওয়ার খবর। তবে এই সন্তান সম্পর্কে কিছুটা রহস্য রেখে দিয়েছেন ধনকুবের।

ডেইলি-বাংলাদেশ/মাহাদী
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!