বৃহস্পতিবার (২ জানুয়ারি) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ অস্ত্র ব্যবহার শুরু করলে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া কী হবে, তা নিয়েই ছিল এই বৈঠক।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানের শীর্ষ সামরিক কমান্ডার কাসেম সোলাইমানির হত্যার পঞ্চম বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক স্মরণসভায় যুক্তরাষ্ট্রকে পরাজিত করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।
.png)
২০২০ সালের ৩ জানুয়ারি বাগদাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মার্কিন ড্রোন হামলায় নিহত হন ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড কুদস ফোর্সের প্রধান কাসেম সোলাইমানি এবং ইরাকি মিলিশিয়া নেতা আবু মাহদি আল-মুহানদিস। এই ঘটনাকে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদ হিসেবে আখ্যা দেয় ইরান। এই ঘটনার পঞ্চম বার্ষিকী উপলক্ষে বৃহস্পতিবার ইরানের বিভিন্ন শহরে বিশেষ অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়।
রাজধানী তেহরানে আয়োজিত এক সমাবেশে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিকে তীব্র সমালোচনা করে তাদের শোষণমূলক আচরণের বিরোধিতা করেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। এছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের দুর্বল দেশগুলোকে শোষণ করে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করছে দাবি করে তাদের পরাজিত করারও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
এসময় সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন বিচার বিভাগীয় প্রধান গোলামহোসেইন মোহসেনি-ইজেই এবং সংসদের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফসহ শীর্ষস্থানীয় নেতারা।
মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেন, সোলাইমানির মৃত্যু প্রমাণ করে মানবাধিকারের দাবি করা দেশগুলো কতটা অমানবিক। ইরান সত্যের পক্ষে থাকবে এবং আমরা এই পথে তাদের পরাজিত করব।
এদিকে ইরানের এই হুঁশিয়ারির মুখে এরইমধ্যে উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের নিয়ে বৈঠক করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।
হোয়াইট হাউজ সূত্র জানায়, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জ্যাক সুলিভান প্রেসিডেন্ট বাইডেনকে বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা জানালেও এখন পর্যন্ত সামরিক পদক্ষেপের কোনো অনুমোদন দেয়া হয়নি ওই বৈঠকে। তবে এরইমধ্যে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলার পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র বলে দাবি অ্যাক্সিওসের।
এর আগে ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তি বা জেসিপিওএ-এর পর ইরান তার কর্মসূচি সীমিত করলেও ২০১৮ সালে ট্রাম্প প্রশাসনের সময় যুক্তরাষ্ট্র একতরফাভাবে এই চুক্তি থেকে সরে আসে। এর পর থেকেই ইরান পারমাণবিক অস্ত্রে ইউরেনিয়ামের ব্যবহার বাড়াতে শুরু করে। আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার দাবি, এখন পর্যন্ত ৬০ শতাংশ পর্যন্ত ইউরেনিয়ামের ব্যবহার বাড়িয়েছে ইরান।