রোববার বার্তাসংস্থা আনাদোলুর এক প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয়, রাশিয়া শনিবার রাতে ১০৩টি ইরান-নির্মিত শাহেদ মনুষ্যবিহীন আকাশযান (ইউএভি) দিয়ে ইউক্রেনে আক্রমণ করেছে। অন্যদিকে রাশিয়ার ভূখণ্ডে হামলা চালাতে ইউক্রেনের পাঠানো ৬৬টি ইউএভি (ড্রোন) ধ্বংস করা হয়েছে বলে দাবি করেছে মস্কো।
সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্সে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, প্রায় প্রতিদিনই আমরা রাশিয়ান ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোনের বিরুদ্ধে লড়ে যচ্ছি। গত রাতে ইউক্রেন ১০৩টি শাহেদ ড্রোন দিয়ে আক্রমণ করেছে, যাতে ৮ হাজার ৭৫৫টি এমন উপাদান রয়েছে যা বিদেশে তৈরি।
.png)
গত সপ্তাহে রাশিয়া বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রাপ্ত ৫০ হাজারেরও বেশি নিষিদ্ধ উপাদান ব্যবহার করে ৬৩০টিরও বেশি আক্রমণকারী ড্রোন, প্রায় ৭৪০টি গাইডেড এরিয়াল বোমা এবং বিভিন্ন ধরনের প্রায় ৫০টি ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করেছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
জেলেনস্কি বলেন, বিদেশি উপাদানগুলোর সরবরাহ শৃঙ্খলে নিষেধাজ্ঞার চাপ অপর্যাপ্ত রয়ে গেছে। রাশিয়া তার প্রয়োজনীয় উপাদান এবং উৎপাদন সরঞ্জামগুলো হাতে পেয়েই চলেছে এবং সেগুলো ইউক্রেনকে আতঙ্কিত করার জন্য ব্যবহৃত অস্ত্রগুলোতে ব্যবহার করছে।
এদিকে রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রাশিয়ান সামরিক বাহিনী কিয়েভের ৬১টি ইউএভি গুলি করে ভূপাতিত করেছে, যার মধ্যে রোস্তভ অঞ্চলে ৩৭টি, ব্রায়ানস্ক অঞ্চলে ২০টি, ভোরোনেজ অঞ্চলে দুটি এবং বেলগোরড ও ওরিওল অঞ্চলে একটি করে ড্রোন ধ্বংস করা হয়েছে।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, স্থানীয় সময় সকাল ৯টার দিকে, কিয়েভের বাহিনী “দুটি ট্যাংক, একটি মাইনবিরোধী যান এবং প্যারা ট্রুপারসহ ১২টি সাঁজোয়া যান” নিয়ে বেরদিন গ্রামের দিকে হামলা চালায়। তবে দুই দফায় হওয়া ইউক্রেনীয় ওই হামলা প্রতিহত করা হয়েছে।
রাশিয়া রোববার আরো বলেছে, ইউক্রেন রাশিয়ার কুরস্ক অঞ্চলে নতুন করে হামলা চালিয়েছে। তাদের দাবি, তাদের বাহিনী ইউক্রেনীয় সৈন্যদের হটিয়ে দিয়েছে, তবে সামাজিক মাধ্যমে রুশ ব্লগারদের পোস্ট ইঙ্গিত দিয়েছে যে মস্কোর বাহিনী উল্লেখযোগ্য চাপের মধ্যে আছে।