ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ আন্তর্জাতিক ]

ইরানে পরিকল্পিত হামলা স্থগিত করলেন ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০:০০, ২ আগস্ট ২০২৬
ইরানে পরিকল্পিত হামলা স্থগিত করলেন ট্রাম্প
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

ইরানে চালানোর পরিকল্পিত সামরিক হামলা আপাতত স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে ইরানের সঙ্গে দ্রুত একটি সমঝোতা চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব হলেই এই স্থগিতাদেশ বহাল থাকবে বলে জানিয়েছেন তিনি। ফলে দীর্ঘদিন ধরে চলা যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনার মধ্যে সামরিক সংঘাতের পরিবর্তে নতুন করে কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

রোববার (২ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প জানান, ইরানের সঙ্গে দ্রুত একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় তিনি পরিকল্পিত সামরিক অভিযান আপাতত স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তার দাবি, সম্ভাব্য চুক্তির মৌলিক কাঠামো নিয়ে আলোচনা অনেক দূর এগিয়েছে এবং এই উদ্যোগের বিষয়ে ইসরায়েলেরও সমর্থন রয়েছে।

ট্রাম্পের বক্তব্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে বড় ধরনের সামরিক শক্তি প্রয়োগের প্রস্তুতি নিয়েছিল। কিন্তু ইরান এবং মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশের অনুরোধের পাশাপাশি কূটনৈতিক আলোচনায় অগ্রগতির কারণে সামরিক পদক্ষেপ থেকে আপাতত সরে এসেছে ওয়াশিংটন।

Advertisement

তবে এই সিদ্ধান্তকে স্থায়ীভাবে সামরিক অভিযান বাতিল হিসেবে দেখছেন না পর্যবেক্ষকরা। বরং এটি আলোচনার জন্য একটি সময় দেওয়ার কৌশল। ট্রাম্পের আগের ঘোষণাগুলোর মতো এবারও ইঙ্গিত রয়েছে—আলোচনায় প্রত্যাশিত অগ্রগতি না হলে যুক্তরাষ্ট্র আবারও সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারে।

চুক্তির কেন্দ্রে হরমুজ প্রণালি

সম্ভাব্য চুক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হিসেবে হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দেওয়ার বিষয়টি সামনে এনেছেন ট্রাম্প। তার দাবি, সমঝোতা হলে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হবে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য পথটি উন্মুক্ত রাখা হবে।

হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ। মধ্যপ্রাচ্যের তেল ও গ্যাসের একটি বড় অংশ এই পথ দিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে যায়। ফলে এই নৌপথে সামরিক উত্তেজনা, অবরোধ বা জাহাজ চলাচলে বাধা তৈরি হলে শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, পুরো বিশ্ব অর্থনীতিতে তার প্রভাব পড়তে পারে।

এই কারণে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে টানাপোড়েন চলছে। প্রণালিটি স্বাভাবিক রাখা এখন সম্ভাব্য যেকোনো শান্তিচুক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। সাম্প্রতিক মাসগুলোতেও হরমুজকে কেন্দ্র করে মার্কিন সামরিক ও কূটনৈতিক চাপ অব্যাহত ছিল।

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েও চাপ

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিরোধের অন্যতম প্রধান কারণ। ওয়াশিংটনের অভিযোগ, তেহরানের পারমাণবিক সক্ষমতা ভবিষ্যতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির দিকে যেতে পারে। তবে ইরান বরাবরই বলে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে এবং পারমাণবিক প্রযুক্তি ব্যবহারের অধিকার তাদের রয়েছে।

সম্ভাব্য চুক্তিতে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করা, আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের প্রবেশাধিকার এবং দেশটির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা শিথিল বা প্রত্যাহারের মতো বিষয় থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তবে এসব বিষয়ে দুই পক্ষের অবস্থান এখনো পুরোপুরি কাছাকাছি আসেনি। ইরানের জন্য পারমাণবিক কর্মসূচি একটি গুরুত্বপূর্ণ সার্বভৌম অধিকার হিসেবে বিবেচিত হলেও যুক্তরাষ্ট্র এটিকে আঞ্চলিক নিরাপত্তার প্রশ্ন হিসেবে দেখছে। ফলে চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছাতে হলে এই বিষয়টি সবচেয়ে কঠিন আলোচনার জায়গাগুলোর একটি হতে পারে।

আগেও হামলা স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছিলেন ট্রাম্প

ইরানকে ঘিরে সামরিক পদক্ষেপ স্থগিত করার ঘোষণা ট্রাম্পের জন্য নতুন নয়। চলতি বছর বিভিন্ন সময়ে সামরিক অভিযান ও হামলা স্থগিত রেখে আলোচনার সুযোগ দেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।

মে মাসেও ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত হামলা স্থগিতের ঘোষণা দিয়ে আলোচনার জন্য সময় দেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। সে সময় মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশের নেতারা সামরিক পদক্ষেপ না নিয়ে কূটনৈতিক সমাধানের সুযোগ দিতে অনুরোধ করেছিলেন বলে তিনি জানিয়েছিলেন। এর আগে এপ্রিলেও দুই সপ্তাহের জন্য ইরানে বোমা হামলা স্থগিতের ঘোষণা এসেছিল, যার সঙ্গে হরমুজ প্রণালি খোলার বিষয়টি যুক্ত ছিল।

জুনেও যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার প্রেক্ষাপটে সামরিক হামলা বাতিলের ঘোষণা এসেছিল। সে সময় ট্রাম্প বলেছিলেন, ইরানের নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা উচ্চপর্যায়ে পৌঁছেছে। তবে হামলা স্থগিতের পাশাপাশি সামরিক চাপ ও অবরোধ অব্যাহত রাখার কথাও বলা হয়েছিল। এতে স্পষ্ট হয়, ওয়াশিংটন একদিকে কূটনৈতিক আলোচনার সুযোগ তৈরি করলেও অন্যদিকে সামরিক চাপকে আলোচনার হাতিয়ার হিসেবে ধরে রেখেছে।

ইরানের কঠোর সতর্কবার্তা

এদিকে সম্ভাব্য মার্কিন হামলা নিয়ে কঠোর সতর্কতা দিয়েছে ইরান। দেশটির পার্লামেন্ট সদস্য ও জাতীয় নিরাপত্তা এবং পররাষ্ট্রনীতি কমিশনের সদস্য এব্রাহিম রেজায়ি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র বা তার মিত্ররা ইরানে হামলা চালালে তেহরানের জবাব শুধু ইরানের ভূখণ্ড বা পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না।

তার হুঁশিয়ারি, ইরানে হামলা পরিচালনার জন্য যেসব সামরিক ঘাঁটি বা স্থাপনা ব্যবহার করা হবে, সেগুলোও ইরানের পাল্টা হামলার লক্ষ্য হতে পারে।

ইরানের এমন অবস্থান থেকে বোঝা যায়, তেহরান সামরিক সংঘাতের জন্য প্রস্তুত থাকার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রকে বড় ধরনের ঝুঁকির কথাও স্মরণ করিয়ে দিতে চাইছে। কারণ মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি সামরিক ঘাঁটি রয়েছে এবং ইরানের সঙ্গে সরাসরি সংঘাত শুরু হলে এসব ঘাঁটি ও আঞ্চলিক মিত্র দেশগুলোও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

ইসরায়েলের অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ

যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের সঙ্গে ইসরায়েলের অবস্থানও ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত। ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা নিয়ে ইসরায়েল দীর্ঘদিন ধরে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে। ফলে তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কোনো সমঝোতা হলে সেটি ইসরায়েলের নিরাপত্তা উদ্বেগ কতটা পূরণ করতে পারবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে উঠতে পারে।

ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, সম্ভাব্য সমঝোতার উদ্যোগে ইসরায়েলের সমর্থন রয়েছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ইসরায়েল, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের পারস্পরিক নিরাপত্তা স্বার্থের মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করা সহজ হবে না।

উপসাগরীয় দেশগুলোর উদ্বেগ

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের সবচেয়ে বড় ঝুঁকিতে রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় দেশগুলো। কারণ সামরিক সংঘাত শুরু হলে ইরানের পাল্টা হামলার আশঙ্কা শুধু ইসরায়েল বা মার্কিন সামরিক স্থাপনায় সীমাবদ্ধ নাও থাকতে পারে। তেল স্থাপনা, বন্দর, জ্বালানি অবকাঠামো ও নৌপথও হামলার ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

এই বাস্তবতায় সৌদি আরব, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ উপসাগরীয় দেশগুলো সরাসরি যুদ্ধ এড়িয়ে কূটনৈতিক সমাধানের পক্ষে অবস্থান নিতে পারে। এর আগে এসব দেশের নেতারা আলোচনার জন্য সময় দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন বলেও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

মধ্যস্থতায় ওমান, কাতার ও পাকিস্তান

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ সীমিত থাকায় মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। অতীতে ওমান যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। পাশাপাশি কাতার ও পাকিস্তানের মতো দেশগুলোও বিভিন্ন সময়ে দুই পক্ষের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান ও আলোচনার সুযোগ তৈরিতে ভূমিকা রেখেছে।

সাম্প্রতিক আলোচনায়ও মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর ভূমিকা নতুন করে সামনে এসেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সরাসরি আলোচনার পাশাপাশি আঞ্চলিক দেশগুলোর কূটনৈতিক তৎপরতা এখন সমঝোতার সম্ভাবনা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

যুদ্ধ নাকি কূটনীতি—কোন পথে যাবে পরিস্থিতি?

ট্রাম্পের সর্বশেষ সিদ্ধান্তকে আপাতত সামরিক সংঘাত এড়ানোর একটি সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে এর অর্থ এই নয় যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সব বিরোধ মিটে গেছে।

বরং বাস্তবতা হলো, দুই দেশের মধ্যে অবিশ্বাস এখনো গভীর। ইরান চায় তার সার্বভৌমত্ব ও পারমাণবিক কর্মসূচির অধিকার স্বীকৃত থাকুক এবং নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হোক। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র চায় ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ, আঞ্চলিক সামরিক তৎপরতা সীমিত করা এবং হরমুজ প্রণালিতে অবাধ নৌ চলাচল নিশ্চিত করা।

এই দাবিগুলোর মধ্যে সমন্বয় ঘটানোই হবে আলোচনার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

বিশ্ববাজারেও নজর

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনার প্রভাব শুধু মধ্যপ্রাচ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। হরমুজ প্রণালি ঘিরে যেকোনো সামরিক উত্তেজনা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করতে পারে। তেলের সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি মূল্য বাড়ার পাশাপাশি পরিবহন ব্যয়, খাদ্যপণ্যের দাম এবং মূল্যস্ফীতির ওপরও চাপ তৈরি হতে পারে।

ফলে ট্রাম্পের হামলা স্থগিতের ঘোষণা আন্তর্জাতিক বাজারের জন্যও কিছুটা স্বস্তির বার্তা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। তবে এই স্বস্তি কতটা স্থায়ী হবে, তা নির্ভর করছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের আলোচনার ফলাফলের ওপর।

সামনে কী হতে পারে

এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো—যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান দ্রুত কোনো চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছাতে পারবে কি না। যদি দুই পক্ষ হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে একটি গ্রহণযোগ্য কাঠামোতে পৌঁছাতে পারে, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের সামরিক সংঘাত এড়ানো সম্ভব হতে পারে।

অন্যদিকে আলোচনা ব্যর্থ হলে পরিস্থিতি আবারও দ্রুত অবনতির দিকে যেতে পারে। ট্রাম্পের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তে সামরিক পদক্ষেপ স্থগিত থাকলেও সামরিক বিকল্প পুরোপুরি বাদ দেওয়া হয়নি। অতীতেও যুক্তরাষ্ট্র হামলা স্থগিত করে আলোচনার সুযোগ দিয়েছিল, কিন্তু সমঝোতা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হলে সামরিক চাপ আবার বাড়ানো হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের সর্বশেষ সিদ্ধান্তকে তাই স্থায়ী শান্তির সূচনা হিসেবে দেখার চেয়ে একটি কূটনৈতিক সুযোগ হিসেবে দেখা বেশি বাস্তবসম্মত। এই সুযোগ কাজে লাগাতে হলে উভয় পক্ষকেই কঠিন কিছু সমঝোতায় যেতে হবে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখা, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নিশ্চয়তা, নিষেধাজ্ঞা শিথিল এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা—এই চারটি বিষয়েই অগ্রগতি প্রয়োজন হবে।

সব মিলিয়ে, ইরানে পরিকল্পিত হামলা স্থগিতের মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘাতের পথ থেকে সাময়িকভাবে আলোচনার পথে ফেরার সুযোগ তৈরি হয়েছে। কিন্তু এই সুযোগ কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করছে আগামী কয়েক দিনের কূটনৈতিক তৎপরতা এবং সম্ভাব্য চুক্তির শর্ত নিয়ে দুই পক্ষের সমঝোতার ওপর। সমঝোতা সফল হলে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমার পাশাপাশি বিশ্ব জ্বালানি বাজারেও স্বস্তি ফিরতে পারে। আর আলোচনা ব্যর্থ হলে আবারও সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা জোরালো হয়ে উঠতে পারে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমকে
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!