ঢাকা,  সোমবার   ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ আন্তর্জাতিক ]

৬৬ ঘণ্টা পর নিখোঁজ বিমানের উদ্ধার অভিযান বন্ধ

ডেইলি-বাংলাদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১:৫৪, ৫ অক্টোবর ২০২৬
৬৬ ঘণ্টা পর নিখোঁজ বিমানের উদ্ধার অভিযান বন্ধ
সংগৃহীত ছবি

বারমুডা থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টনে যাওয়ার পথে নিখোঁজ হওয়া চিকিৎসা পরিবহন বিমানের ছয় আরোহীর সন্ধানে ৬৬ ঘণ্টা ধরে তল্লাশি চালানোর পর উদ্ধার অভিযান বন্ধ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের কোস্ট গার্ড।

রোববার সন্ধ্যায় কোস্ট গার্ড জানায়, ম্যাসাচুসেটসের নানটাকেট দ্বীপের উপকূলীয় এলাকায় দীর্ঘ সময় ধরে অনুসন্ধান চালিয়েও নিখোঁজদের সন্ধান পাওয়া যায়নি। এক বিবৃতিতে নিখোঁজদের পরিবার ও স্বজনদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে সংস্থাটি।

Advertisement

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন প্রশাসন (এফএএ) জানায়, স্থানীয় সময় রাত ১টার কিছু পর বিমানটির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। গ্রিনিচ মান সময় তখন ভোর ৫টা। বিমানে থাকা ছয়জনের স্বজনদের বিষয়টি জানানো হয়েছে।

নিখোঁজ ছয়জনের মধ্যে চারজন কানাডার নাগরিক এবং দুজন বারমুডার নাগরিক। বিমানে থাকা দুই পাইলট ও দুই চিকিৎসাকর্মী সবাই কানাডার নাগরিক ছিলেন।

ফ্লাইটের তথ্য অনুযায়ী, বিমানটি স্থানীয় সময় রাত ১১টা ৪০ মিনিটে বারমুডার এল এফ ওয়েড আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়ন করে। বোস্টনের লোগান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রাত ১টা ৩০ মিনিটে পৌঁছানোর কথা ছিল।

বিমানের গায়ে থাকা নম্বরের ভিত্তিতে এটি ল্যাটিচিউড এয়ার অ্যাম্বুলেন্সেসের বিমান বলে শনাক্ত করা হয়। প্রতিষ্ঠানটি বিদেশে থাকা রোগীদের নিজ দেশে ফিরিয়ে নিতে চিকিৎসা পরিবহন সেবা দিয়ে থাকে।

প্রতিষ্ঠানটির ফ্লাইট পরিচালনা বিভাগের পরিচালক ক্ল্যারেন্স টোগারেটজ কানাডার সংবাদমাধ্যম সিবিসি নিউজকে জানান, একজন রোগী ও তার এক স্বজনকে কানাডায় নিয়ে যাওয়ার জন্য বিমানের কর্মীরা বারমুডায় গিয়েছিলেন। ওই রোগী ও তার স্বজন কানাডার নাগরিক ছিলেন না।

এর আগে শনিবার সন্ধ্যায় সমুদ্রে বিমানের একটি ধ্বংসাবশেষ পাওয়ার কথা জানায় কর্তৃপক্ষ। পরে সেটি নিখোঁজ বিমানটিরই অংশ বলে নিশ্চিত করা হয়।

ফ্লাইট ট্র্যাকিং সেবা ফ্লাইটঅ্যাওয়ারের তথ্য অনুযায়ী, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার আগে বিমানটির উচ্চতা দ্রুত কমে যায়। প্রায় ৭ হাজার ৩০০ মিটার উচ্চতা থেকে বিমানটি নেমে আসে প্রায় ৩ হাজার ৩০০ মিটারে।

এদিকে লাইভএটিসি ডটনেটের বেতার যোগাযোগের তথ্যের ভিত্তিতে বোস্টন গ্লোব জানিয়েছে, বিমানটির পাইলট ও নিয়ন্ত্রণকক্ষের কর্মকর্তার মধ্যে যোগাযোগে সমস্যা হচ্ছিল। নিয়ন্ত্রণকক্ষের এক কর্মকর্তা পাইলটকে জানতে চান, তিনি যোগাযোগের সংকেত ছাড়াই এগিয়ে আসছেন কি না এবং কোনো জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন কি না। তবে পাইলটের উত্তর স্পষ্টভাবে শোনা যায়নি।

পরে ওই কর্মকর্তা জানান, পাইলটের কণ্ঠ খুব দুর্বল শোনা যাচ্ছিল। এ কারণে তিনি জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন কি না, তা প্রথমে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পরে নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়, পাইলট জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছিলেন।

স্থানীয় সময় রাত ১টার কিছু পর একটি এলাকার দমকল বিভাগের জরুরি যোগাযোগ কর্মকর্তা উদ্ধারকারী দলকে বৈদ্যুতিক সমস্যায় পড়া একটি বিমানের জন্য প্রস্তুত থাকতে বলেন। পরে তিনি জানান, বিমানটি একই সঙ্গে বেতার ও রাডার যোগাযোগ হারিয়েছিল।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এআর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!