ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩

[ আন্তর্জাতিক ]

কংগ্রেস হাতছাড়া হলে ‘মিস্টার ভেটো’ হবেন ট্রাম্প

ডেইলি-বাংলাদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১:২৮, ৩ নভেম্বর ২০২৬
কংগ্রেস হাতছাড়া হলে ‘মিস্টার ভেটো’ হবেন ট্রাম্প
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ পেলে তাদের পাঠানো সব বিলে ভেটো দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রিপাবলিকানরা কংগ্রেসের এক বা উভয় কক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারালে তিনি নিজেকে ‘মিস্টার ভেটো’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবেন বলেও মন্তব্য করেছেন।

নিউইয়র্ক পোস্টের সাংবাদিক মিরান্ডা ডিভাইনের পডকাস্ট ‘পড ফোর্স ওয়ান’-এ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন ট্রাম্প।

ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণে কংগ্রেস চলে গেলে পরিস্থিতি কীভাবে সামাল দেবেন—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘আমার মনে হয়, তখন আমি মিস্টার ভেটো হয়ে যাব। আমি তাদের সবকিছু ধ্বংস করতে দেব না।’

তিনি জানান, ডেমোক্র্যাটদের পাঠানো বিলগুলোতে ভেটো দেবেন। এভাবে এক-দুই মাস সব বিলে ভেটো দেওয়ার পর ডেমোক্র্যাটরা বুঝতে পারবেন যে এতে সময় নষ্ট হচ্ছে। তখন তারা আলোচনায় বসতে এবং সমঝোতায় পৌঁছাতে তার কাছে আসবেন বলে মনে করেন ট্রাম্প।

ট্রাম্পের ভাষ্য, এ ধরনের সমঝোতা যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে নতুন নয়। অতীতেও আইন পাসের জন্য রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে সমঝোতা করতে হয়েছে।

তবে কংগ্রেসে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা বজায় থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি। ট্রাম্প বলেন, ‘আমি আশা করি, আমরা নির্বাচনে ভালো করব। তবে যদি জিততে না পারি, তাহলে সবকিছুতেই ভেটো দেব। শুধু ভেটো আর ভেটো।’

যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটের তথ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় মেয়াদে এখন পর্যন্ত ট্রাম্প দুটি বিলে ভেটো দিয়েছেন। আর প্রথম মেয়াদে তিনি মোট ১০টি বিলে ভেটো প্রয়োগ করেছিলেন।

যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী, কংগ্রেসে পাস হওয়া কোনো বিলে প্রেসিডেন্ট অসম্মতি জানালে সেটিতে ভেটো দিতে পারেন। তবে প্রেসিডেন্টের ভেটো অকার্যকর করে আইনটি পাস করতে হলে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—উভয় কক্ষের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন।

সাক্ষাৎকারে তৃতীয়বারের মতো প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সম্ভাবনা নিয়েও কথা বলেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘সুযোগ পেলে আমি আবারও নির্বাচনে লড়তে চাই। কিন্তু সংবিধানের ভাষা এ বিষয়ে খুবই স্পষ্ট।’

যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ২২তম সংশোধনী অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি দুইবারের বেশি প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হতে পারবেন না।

এদিকে মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এবারের নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি আসনের সবকটিতে এবং সিনেটের ১০০টি আসনের মধ্যে ৩৫টিতে ভোট হচ্ছে।

নির্বাচনের আগে প্রতিনিধি পরিষদে অল্প ব্যবধানে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রেখেছে রিপাবলিকান পার্টি। অন্যদিকে, এ কক্ষের নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধারে লড়ছে ডেমোক্র্যাটরা। সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে তাদের আরও তিনটি আসন প্রয়োজন।

নির্বাচনের ফলাফলের ওপর নির্ভর করছে কংগ্রেসে ট্রাম্প প্রশাসনের আগামী দিনের আইন প্রণয়ন ও রাজনৈতিক কার্যক্রম কতটা সহজ হবে।

তথ্যসূত্র: এনডিটিভি, নিউইয়র্ক পোস্ট

ডেইলি-বাংলাদেশ/এআর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!