শ্রমিক আন্দোলনে উত্তপ্ত গাজীপুর, মহাসড়কে সতর্ক অবস্থানে পুলিশ
টানা কয়েক দিনের শ্রমিক আন্দোলন, বিক্ষোভ ও সহিংসতায় উত্তপ্ত গাজীপুরের ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে আজ মঙ্গলবার সকাল থেকে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। সকাল ৯টা পর্যন্ত মহাসড়কের কোথাও অবরোধের ঘটনা ঘটেনি। তবে শ্রমিকদের মধ্যে উত্তেজনা থাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে মহাসড়ক ও আশপাশের এলাকায় সতর্ক অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকাল থেকে শিল্পাঞ্চলের পল্লীবিদ্যুৎ ও আশপাশের এলাকার অধিকাংশ পোশাক কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। শ্রমিক অসন্তোষকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিশৃঙ্খলা এড়াতে কারখানা কর্তৃপক্ষ এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানা গেছে।
তবে সাধারণ ছুটি ঘোষণার পরও পল্লীবিদ্যুৎ এলাকার ইন্টারস্টফ অ্যাপারেলস ও ডিভাইন কারখানার কিছু শ্রমিক কাজে যোগ দেওয়ার কথা বলে মহাসড়কে এসে জটলা তৈরির চেষ্টা করেন। এ সময় সকাল ৯টার দিকে ওই এলাকায় বিএনপির কয়েকজন কর্মী-সমর্থক উপস্থিত হলে শ্রমিকদের সঙ্গে উত্তেজনা দেখা দেয়। একপর্যায়ে শ্রমিকদের পক্ষ থেকে ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এতে কিছু সময়ের জন্য পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে বিপুলসংখ্যক পুলিশ, বিজিবি ও এসআরবি সদস্য ঘটনাস্থলে গিয়ে শ্রমিকদের বুঝিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
মহাসড়কে যান চলাচল নির্বিঘ্ন রাখতে পুলিশের পাশাপাশি ২৫ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও বিজিবির ১১ প্লাটুন সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের মহাসড়কে অবস্থান নেওয়া ঠেকাতে বিএনপি ও পরিবহন সমিতির নেতাকর্মীরাও মাঠে রয়েছেন। এদিকে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক ছিল।
এদিকে চলমান শ্রমিক আন্দোলন ঘিরে সহিংসতা, ভাঙচুর ও নাশকতার ঘটনায় পৃথক তিনটি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় প্রায় চার হাজার ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। এ পর্যন্ত ৪৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের পরিচয় শনাক্তের পাশাপাশি তারা নাশকতার ঘটনায় জড়িত কি না, তা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে শিল্প পুলিশ।
গাজীপুর শিল্প পুলিশ-২-এর পুলিশ সুপার আমজাদ হোসাইন বলেন, সকাল থেকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ শক্ত অবস্থানে রয়েছে। কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে, সে জন্য সবাই সচেষ্ট রয়েছেন।