গাজীপুরে শ্রমিক বিক্ষোভ-ভাঙচুর, ২০ কিলোমিটার যানজট
গাজীপুরের কালিয়াকৈর ও কোনাবাড়ী শিল্পাঞ্চলে ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে শ্রমিকদের দিনভর বিক্ষোভ, মহাসড়ক অবরোধ, অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। রোববার সকাল থেকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে অবরোধের কারণে উভয় পাশে প্রায় ২০ কিলোমিটার যানজট সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম ইটের আঘাতে আহত হয়েছেন। এ ছাড়া এক সংবাদকর্মীও মারধরের শিকার হয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রোববার সকালে বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা কাজে যোগ না দিয়ে মহাসড়কে নেমে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরে চন্দ্রা, পল্লী বিদ্যুৎ, সফিপুর, মৌচাক ও কোনাবাড়ী এলাকায় আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে শ্রমিকেরা মহাসড়কে টায়ার, মোটরসাইকেল ও কাঠের জিনিসপত্রে আগুন জ্বালিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেন।
চন্দ্রা পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় একটি প্রাইভেটকারসহ কয়েকটি যানবাহনে অগ্নিসংযোগ করা হয়। কোনাবাড়ী ফ্লাইওভারের নিচে পুলিশ বক্স ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। এ ছাড়া যমুনা ব্যাংক, বিভিন্ন কারখানার ফটক, মৌচাক পুলিশ বক্স এবং ট্রপিক্যাল নিটেক্স লিমিটেডের পাশের একটি মার্কেটে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ার গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এ সময় ইটের আঘাতে আহত ওসি মো. শহিদুল ইসলামকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন পোশাক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিজিবি, জেলা পুলিশ, মহানগর পুলিশ ও শিল্প পুলিশের সদস্যদের মোতায়েন করা হয়।
বিক্ষোভকারী শ্রমিকেরা জানান, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়লেও তাঁদের আয় সেই অনুপাতে বাড়েনি। একটি গ্যাসের সিলিন্ডার কিনতেই প্রায় আড়াই হাজার টাকা ব্যয় করতে হয়। তাঁদের দাবি, শুধু মজুরি বোর্ড গঠন করলেই হবে না, ন্যূনতম মজুরির পরিমাণও নির্দিষ্ট করে ঘোষণা করতে হবে। এজন্য মাসিক সর্বনিম্ন মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবি জানান তাঁরা।
আন্দোলনকারীদের কয়েকজনের অভিযোগ, তাঁদের কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ ছিল। বহিরাগতরা আন্দোলনের মধ্যে ঢুকে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করেছে।
গাজীপুর জেলা প্রশাসনের সিনিয়র সহকারী কমিশনার মাসুদুর রহমান রুবেল বলেন, সকাল থেকেই প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করেছেন। বিকেলে শ্রমিকেরা মহাসড়ক থেকে সরে গেলে যান চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করে।
গাজীপুর শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার মো. আমজাদ হোসেন বলেন, শ্রমিকদের আন্দোলনের কারণে রোববার ৩০ থেকে ৩৫টি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিজিবি, জেলা পুলিশ, মহানগর পুলিশ ও শিল্প পুলিশ সমন্বিতভাবে কাজ করেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
প্রায় সাত ঘণ্টা অবরোধের পর বিকেল ৩টার দিকে শ্রমিকেরা মহাসড়ক ছেড়ে দিলে যান চলাচল ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়।