ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ সাক্ষাৎকার ]

ফেডারেশনে ফেরার ইচ্ছা আর নেই: ছোটন

আসমাউল মুত্তাকিন
প্রকাশিত: ২২:১০, ২৮ মে ২০২৩
ফেডারেশনে ফেরার ইচ্ছা আর নেই: ছোটন
বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের কোচ গোলাম রাব্বানী ছোটন

বাংলাদেশ নারী ফুটবলের যাত্রা শুরু হয় দেশি কোচ গোলাম রাব্বানী ছোটনের হাত ধরে। এই কোচের অধীনে গতবছর নেপালে অনুষ্ঠিত সাফে প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন হয় বাংলাদেশের মেয়েরা। নারী ফুটবলে বয়সভিত্তিক দলের যত সাফল্য এসেছে তার সবই ছোটনের কোচিংয়ের অধীনে। গত শুক্রবার হঠাৎ তিনি নারী ফুটবল দলের কোচিং ছাড়ার ছাড়ার ঘোষণা দেন। এতে ফুটবল অঙ্গনে নানা প্রশ্ন ছড়িয়ে পড়ে। কী কারণে তিনি টিম ছাড়ছেন-সেসব বিষয় নিয়ে ডেইলি বাংলাদেশের সঙ্গে একান্তভাবে কথা বলেছেন-

ডেইলি বাংলাদেশ: বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের শুরুটা আপনার হাত ধরে। বয়সভিত্তিক দলের সাফল্যের পেছনেও আপনার বড় অবদান। দীর্ঘদিন পালন করা নারী ফুটবলের দায়িত্ব ছাড়ছেন। খারাপ লাগছে না?

ছোটন: অবশ্যই। ছোটবেলা থেকে আমার বৈশিষ্ট্য হলো আমি যেখানে শুরু করি সেখানেই সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা করি। তারপর সেখান থেকে আমি চলে যাই। সেখানে আমার অধ্যায় শেষ হয়। সেটা নিয়ে আমি আর ভাবি না। আবার যখন নতুন করে শুরু করি, তখন শতভাগ দেওয়ার চেষ্টা করি। যেটা ছাড়ছি। সেদিকে আর ফেরার সুযোগ নেই। ভাবারও সুযোগ নেই।

Advertisement

ডেইলি বাংলাদেশ: আপনাকে ছাড়াই শনিবার প্রথমদিন  অনুশীলন করল বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। ফুটবলাররা কি আপনাকে ব্যক্তিগতভাবে ফোন দিয়েছিলেন?

ছোটন: না...। কেউ ফোন দেয়নি। এ বিষয়ে কোনো কথা হয়নি, আলোচনা হয়নি। কোনো নারী ফুটবলারও অনুরোধ করেনি।

ডেইলি বাংলাদেশ: জাতীয় নারী ফুটবল দলের কোচিং ছেড়ে দিলেন। বিকল্প কোনো চিন্তা রেখেছেন কিনা?

ছোটন: এখন আপতত আমি বিশ্রাম নেব। বিশ্রাম নেয়ার পর চিন্তা করব। সবাই জানে, আমি বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলে স্থায়ী কোচ ছিলাম। গণমাধ্যমের কল্যাণে সবাই জেনে গেছে, আমি বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল থেকে অব্যাহতি নিচ্ছি। আমার প্রথম লক্ষ্য হচ্ছে বিশ্রাম নেয়া এবং পরিবারকে সময় দেওয়া। তারপর যদি কোনো ক্লাব কিংবা একাডেমি থেকে অফার আসে, অথবা সুযোগ হয়, তাহলে সেখানে যোগ দেব।

বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের কোচ গোলাম রাব্বানী ছোটন

ডেইলি বাংলাদেশ: দল গঠনের সময়ে বাফুফে আপনাকে কোনো চাপ দিয়েছিল?

ছোটন: না। সব থেকে ভালো বিষয় হলো বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সঙ্গে ১৪ বছর ছিলাম, এটি আমার ক্যারিয়ারের বিশাল প্রাপ্তি। আর এখানে ধন্যবাদ দিতে চাই মাহাফুজা আক্তার কিরণকে (বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের উইংয়ের চেয়ারম্যান)। তিনি আমার কোনো বিষয়ে হস্তক্ষেপ করেননি। সব সময় সহযোগিতা করেছেন। আর এজন্য আমি নিরবছিন্নভাবে কাজ করতে পেরেছি। যার কারণে বাংলাদেশ নারী ফুটবল আজ এ পর্যন্ত আসতে পারছে।

ডেইলি বাংলাদেশ: সাফের শিরোপা জয়ে পর পুরস্কারের অর্থ সঠিকভাবে পেয়েছিলেন কিনা?

ছোটন: জি, পুরোপুরিভাবে পেয়েছিলাম। যেসব প্রতিষ্ঠান কথা দিয়েছিল কিংবা এ বিষয়ে পত্র-পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ হয়েছিল। সেসব প্রতিষ্ঠানের অর্থ ফেডারেশন সংগ্রহ করে আমাদের দিয়েছিল।

ডেইলি বাংলাদেশ: সাফ জেতার আগে আপনাকে বাফুফে থেকে কোনো প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল কিনা?

ছোটন: আমাদের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, এগুলো দেশে আসার পর ফেডারেশন পূরণ করার চেষ্টা করেছে। যেমন- মেয়েদের বেতন বৃদ্ধি,  কোচিং স্টাফদের বেতন বৃদ্ধি, ওনারা চেষ্টা করছেন।

ডেইলি বাংলাদেশ: আপনার বেতন ঠিকঠাকভাবে বাফুফে থেকে পেয়েছেন?

ছোটন: দুই...এক মাস পেন্ডিং ছিল। তাছাড়া সবকিছুই ঠিকঠাকভাবে দিয়েছে ফেডারেশন।

গোলাম রাব্বানী ছোটন ও বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের কিছু সাফল্যের মুহূর্ত

ডেইলি বাংলাদেশ: আপনার পর ২০১৬ সালে বাফুফের টেকনিক্যাল ডিরেক্টর পল স্মলিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। তিনি আপনার সঙ্গে কাজ করেছিলেন। তিনি কখনো কি আপনার সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করেছিলেন?

ছোটন: তিনি (পল স্মলি) আলাপ-আলোচনা করেই সবকিছু করেছিলেন। তারপরও যেহেতু তিনি একটা বিশেষ দায়িত্বে আছেন। তার কথাতো... মাঝে মাঝে আমাকে শুনতে হয়।

ডেইলি বাংলাদেশ: আপনার বয়স ৫৪ বছর। জাতীয় দলের কোচিং ছাড়লে বাফুফে থেকে সভাপতি অনুরোধ করেছিলেন, তবুও আপনি সিদ্ধান্তে অটল?

ছোটন: জি, আমি আমার সিদ্ধান্তে অটল। সোমবার আমি পদত্যাগপত্র বাফুফেতে জমা দেব। সময়টা ১১টা কিংবা সাড়ে ১১টার দিকে হতে পারে।

ডেইলি বাংলাদেশ: আপনি বলছিলেন, বিশ্রামের কারণে ছাড়ছেন। আবার কখনো কি ফেডারেশনে ফিরবেন?

ছোটন: কখনো ফেডারেশনে ফেরার ইচ্ছা নেই। এতবড় পর্যায়েও কাজ করারও ইচ্ছা নেই। ক্লাব লেভেলে কিংবা ক্লাব পর্যায়ে কাজ করার ইচ্ছা আছে। এখন বয়স হয়েছে, শরীরটাকে বিশ্রাম দিতে চাই। পরিবারকে সময় দিতে হবে। আমি বাংলাদেশের ফুটবলে সব সময় কাজ করেছি। কখনো ছুটি নেইনি। আমার ব্যক্তিগত জীবন ছিল না। একটা ক্লাব থেকে গত নভেম্বরে অফার পেয়েছিলাম। ফেডারেশনের রিকয়েস্টে আমি সেই অফার গ্রহণ করিনি। এখন কোনো ক্লাবের অফার নেই। আমি বিশ্রাম নেব। তারপর এগুলো নিয়ে ভেবে দেখব।

ডেইলি বাংলাদেশ: জাতীয় নারী ফুটবল দলের কোচিং ছাড়লেন, পরিবার থেকে কিছু বলছে কিনা?

ছোটন: না, তারা দেখছে, আমি পরিবারকে সময় দিতে পারিনি। নিজেকে সময় দেইনি। শুধু নারী ফুটবল নিয়ে কাজ করেছি। তারা এ বিষয়ে কথা বলে না।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এআর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!