ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ আইন-আদালত ]

সাত দেহরক্ষীসহ জিকে শামীমের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ হয়নি 

অর্থপাচার মামলা
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৬:০০, ২৪ ডিসেম্বর ২০২০
সাত দেহরক্ষীসহ জিকে শামীমের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ হয়নি 
এসএম গোলাম কিবরিয়া শামীম- ফাইল ছবি

অর্থপাচার মামলায় সাত দেহরক্ষীসহ এসএম গোলাম কিবরিয়া শামীমের বিরুদ্ধে সাক্ষী অনুপস্থিত থাকায় সাক্ষ্যগ্রহণ হয়নি। পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী বছরের ৭ জানুয়ারি দিন ধার্য করা হয়েছে। 

বৃহস্পতিবার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত -১০ এর ভারপ্রাপ্ত বিচারক হাফিজুর রহমানের আদালত নতুন এ দিন ধার্য করেন।

এ মামলার অন্য আসামিরা হলেন- দেলোয়ার হোসেন, মুরাদ হোসেন, মো. জাহিদুল ইসলাম, শহিদুল ইসলাম,  জামাল হোসেন, সামসাদ হোসেন ও আমিনুল ইসলাম। 

Advertisement

এর আগে আসামি জিকে শামীমসহ অন্য আসামিদের আদালতে হাজির করা হয়। তবে এদিন সাক্ষী অনুপস্থিত থাকায় রাষ্ট্রপক্ষ সময়ের আবেদন করেন। এরপর আদালত আবেদন মঞ্জুর করে আগামী বছরের ৭ জানুয়ারি পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য দিন ধার্য করেন।

এর আগে গত ১০ নভেম্বর অব্যাহতির আবেদন খারিজ করে আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। এর মধ্য দিয়ে এ মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার কাজ শুরু হয়। গত ১৯ নভেম্বর মামলার বাদী নায়েব সুবেদার মিজানুর রহমান আদালতে সাক্ষ্য দেন।

গত ৫ অক্টোবর ঢাকা মহানগর আদালতের জজ কে এম ইমরুল কায়েশের আদালত এ অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে মামলাটি বিচারের জন্য ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-১০ এ বদলি করেন। গত ৪ আগস্ট সিআইডির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইকোনমিক ক্রাইম স্কোয়াড আবু সাঈদ ৮ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এ মামলায় মোট ২৬ জনকে সাক্ষী করা হয়।

২০১৯ সালের ২১ সেপ্টেম্বর র‍্যাব-১ এর নায়েব সুবেদার মিজানুর রহমান বাদী হয়ে গুলশান থানায় আসামিদের বিরুদ্ধে অর্থপাচার প্রতিরোধ আইনে মামলাটি করেন। 

গত বছরের ২০ সেপ্টেম্বর রাজধানীর নিকেতনে শামীমের বাড়ি ও অফিসে র‍্যাব অভিযান চালিয়ে আটটি আগ্নেয়াস্ত্র, বিপুল পরিমাণ গুলি, ১৬৫ কোটি টাকার এফডিআর এবং নগদ প্রায় এক কোটি ৮১ লাখ টাকা, বিপুল পরিমাণ বিদেশি মুদ্রা এবং মদ উদ্ধার করে।

মামলার অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, এজাহারনামীয় অন্যান্য আসামি জি কে শামীমের দেহরক্ষী হিসেবে কর্মরত থেকে অস্ত্র প্রকাশ্যে বহন, প্রদর্শন ও ব্যবহার করে লোকজনের মধ্যে ভয়ভীতি প্রদর্শন, পরস্পর যোগসাজশে সংঘবদ্ধ অপরাধ করার মাধ্যমে টেন্ডারবাজিতে সহায়তা এবং বিভিন্ন টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে রয়্যালিটি ফি গ্রহণ করে ও জুয়ার ব্যবসাসহ স্থানীয় বাস টার্মিনাল, গরুর হাটবাজারে চাঁদাবাজি করে অপরাধলব্ধ এই অর্থ আয় এবং বিদেশে পাচারের লক্ষ্যে মজুত করেছেন। যা মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের ৪(২) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

অভিযোগপত্রে আরো বলা হয়েছে, জি কে শামীম ২০০৯ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত তার জিকেবি অ্যান্ড কোম্পানি প্রাইভেট লিমিটেডের একক ও যৌথ নামে ১৫৪টি প্রকল্প পরিচালনা করে। এর মধ্যে ৬১টি প্রকল্প সমাপ্ত করে। ৯৩টি প্রকল্প চলমান রয়েছে। 

গণপূর্ত বিভাগের বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ পর্যালোচনা করে জানা যায়, গত ১০ বছরে শামীমের কোম্পানির নামে ১৫৪টি প্রকল্প অনুমোদন হয়। যার চুক্তিমূল্য ৫ হাজার ৫৩১ কোটি টাকা। এর মধ্যে ৬১টি প্রকল্পে ৭৪৩ কোটি ৭৭ লাখ টাকার কাজ সমাপ্ত হয়েছে। এখনো ৯৩টি প্রকল্পে ৪ হাজার ৮১০ কোটি টাকার কাজ চলমান রয়েছে। 

ব্যাংক হিসাব পর্যালোচনা করে অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, জি কে শামীমের ব্যাংক লেনদেনে সর্বমোট ক্রেডিট হয়েছে ৩ হাজার ৪২ কোটি ৮৩ লাখ ৪৮ হাজার ৯১ টাকা। আর ডেবিট হয়েছে ৩ হাজার ১৫ কোটি ৬৬ লাখ ৩ হাজার ৭৫১ টাকা। আর ১৮০টি ব্যাংক হিসাবে এফডিআরসহ ৩৩৬ কোটি ৩০ লাখ ৫১ হাজার ৬০০ টাকা স্থিতি রয়েছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!