সোমবার ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েশের আদালতে সাক্ষ্য দেন তিনি।
এদিন কারাগারে আটক থাকা তিন আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় জামিনে থাকা আসামি সায়েদাতুল মাহমুদা ওরফে শাহীন আদালতে উপস্থিত হন। এরপর আসামিদের উপস্থিতিতে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। সাক্ষী আব্দুস সালাম চৌধুরীর জবানবন্দি শেষ হলে আসামি পক্ষের আইনজীবীরা জেরা শুরু করেন। জেরা শেষ না হওয়ায় আদালত পরবর্তী জেরা ও সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ২০ জানুয়ারি দিন ধার্য করেন।
.png)
এ মামলার আসামিরা হলেন- নিহত সগিরা মোর্শেদের ভাসুর ডা. হাসান আলী চৌধুরী, তার স্ত্রী সায়েদাতুল মাহমুদা ওরফে শাহীন, হাসান আলীর শ্যালক আনাস মাহমুদ ওরফে রেজওয়ান এবং ভাড়াটে খুনি মারুফ রেজা।
গত ২ ডিসেম্বর সগিরা মোর্শেদের ভাসুরসহ চারজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন আদালত। এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘ ৩১ বছর পর এ মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়। একইসঙ্গে আদালত আসামিদের অব্যাহতির আবেদন খারিজ করে সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য ১১ জানুয়ারি দিন ধার্য করেন।
গত বছরের ২৬ নভেম্বর নিহত সগিরা মোর্শেদের ভাসুর আসামি ডা. হাসান আলী চৌধুরী, তার স্ত্রী সায়েদাতুল মাহমুদা ওরফে শাহীন, হাসান আলীর শ্যালক আনাস মাহমুদ ওরফে রেজওয়ানের পক্ষে তাদের আইনজীবী মামলা থেকে অব্যাহতির আবেদন করেন।
এ সময় অন্য আসামি মারুফ রেজার পক্ষে তার আইনজীবী সময়ের আবেদন করেন। পরে আদালত আংশিক শুনানি মুলতবি রেখে গত বছরের ২ ডিসেম্বর অধিকতর শুনানির জন্য দিন ধার্য করেন। গত বছরের ১৬ জানুয়ারি ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে সগিরার ভাসুরসহ চারজনকে আসামি করে ১ হাজার ৩০৯ পৃষ্ঠার একটি অভিযোগত্র দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইয়ের পরিদর্শক রফিকুল ইসলাম। এরপর গত বছরের ৯ মার্চ ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েশ পিবিআইয়ের দেয়া অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন।
মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, সাগিরা মোর্শেদ সালাম ১৯৮৯ সালের ২৫ জুলাই ভিকারুননিসা নূন স্কুল থেকে মেয়েকে আনতে যান। বিকেল ৫টার দিকে সিদ্ধেশ্বরী রোডে পৌঁছালে মোটরসাইকেলে আসা ছিনতাইকারীরা তার হাতে থাকা স্বর্ণের চুড়ি ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে।
এ সময় তাকে গুলি করা হয়। পরে হাসপাতালে নেয়ার পথেই মারা যান তিনি। এ ঘটনায় ওই দিনই রমনা থানায় মামলা করেন তার স্বামী আব্দুস সালাম চৌধুরী।