রোববার ঢাকা মহানগর হাকিম মোর্শেদ আল মামুন ভূঁইয়ার আদালতে মুনিয়ার ভাই আশিকুর রহমান বাদী হয়ে এ মামলার আবেদন করেন।
এদিন মামলার বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করেন আদালত। এরপর শুনানি শেষে আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে আদেশে উল্লেখ করেন, মুনিয়ার ‘আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ এনে’ গুলশান থানায় একটি মামলা হয়েছে। ওই মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন। এ মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত হত্যা মামলার আবেদনটি স্থগিত থাকবে।
.png)
এদিকে গত ২৬ এপ্রিল সন্ধ্যার পর গুলশান-২-এর ১২০ নম্বর রোডের ১৯ নম্বর ফ্ল্যাট থেকে মোসারাত জাহান মুনিয়ার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় গুলশান থানায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সায়েম সোবহান আনভীরকে আসামি করে মুনিয়ার বোন নুসরাত জাহান বাদী হয়ে মামলা করেন। তার পরের দিন গত ২৭ এপ্রিল ঢাকা মহানগর হাকিম শহিদুল ইসলামের আদালত সায়েম সোবহান আনভীরের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।
বাদী আশিকুর রহমান মামলার এজাহারে বলেন, মুনিয়ার সঙ্গে সায়েম সোবহান আনভীরের কেবল বন্ধুত্বের সম্পর্ক ছিল। এখানে উল্লেখ্য যে, সায়েম সোবহান আনভীর এবং নাজমুল করিম শারুনের মধ্যে ব্যবসায়িক দ্বন্দ্ব ছিল। আসামি শারুন তার বোন মুনিয়ার মাধ্যমে আনভীরের ব্যবসায়িক ও ব্যক্তিগত অনেক গোপন তথ্য কৌশলে মুনিয়াকে ব্যবহার করে জেনে নেয়। বাদীর সরল ও কোমলমতি বোন মুনিয়া উক্ত বিষয়ে প্রথম অবস্থায় কিছু বুঝতে না পারলেও পরবর্তীতে সে সম্পূর্ণ বিষয়টি বুঝতে পেরে একপর্যায়ে শারুনের অসৎ উদ্দেশ্যে ও অনৈতিক কাজে সহযোগিতা করতে অসম্মতি জ্ঞাপন করে, তাতে করে শারুন মুনিয়ার ওপর চরমভাবে ক্ষিপ্ত হয় এবং প্রতিশোধ নেয়ার সুযোগ খুজতে থাকে এবং মানসিকভাবে ভীষণ চাপ প্রয়োগ করতে থাকে।
বিষয়টি বাদীসহ পরিবারের সবাইকে মুনিয়া অবগত করেন। এর বাদী তার মেজো বোন তানিয়ার সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করলে সে বলে এমন কিছুই হবে না, সব ঠিক হয়ে যাবে। এ ঘটনার জন্য বাদীর মনে দৃঢ় বিশ্বাস জন্মেছে যে, মুনিয়াকে আনভীরের বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে না পেরে শারুনই বাদীর বোনকে তার সহযোগীদের নিয়ে হত্যা করে। বাদীর বোনকে হত্যা করে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে এ আত্মহত্যার মিথ্যা নাটক উপস্থাপন করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে আরো উল্লেখ করা হয়, আসামি শারুন বাদীর বোনকে অসৎ উদ্দেশ্যে ব্যবহার ও ভোগ করেছে। বাদীর বোন মুনিয়া যখনই এ ঘৃণ্য চক্রান্ত থেকে বের হয়ে ফেরত আসতে চেয়েছে তখনই শারুন মুনিয়ার ওপর চরম ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে। আসামি শারুন সুকৌশলে বাদীর বোনের ফ্ল্যাটে ঢুকে অজ্ঞাতনামা আসামিদের সহযোগিতায় নির্মমভাবে হত্যা করে মৃতদেহ ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে এবং কৌশলে বাসা থেকে বেরিয়ে যায়।
এখানে উল্লেখ্য যে, উক্ত ফ্ল্যাটের ডুপ্লিকেট চাবি শারুনের নিকটও থাকতো এবং মূল দরজার তালা উভয়দিক দিয়ে লাগানো যায়।
এজাহার উল্লেখ করা হয়েছে, যেহেতু আসামি উল্লেখিত ঘটনা ঘটিয়ে ৩০২/৩৪ ধারায় অপরাধ করেছে। অতএব ন্যায়বিচারের স্বার্থে বাদীর আনীত অভিযোগটি গ্রহণ করে আসামির বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় অপরাধ আইনে আমল গ্রহণের মাধ্যমে আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করতে যেন আদালতের মর্জি হয়।