ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ আইন-আদালত ]

৫৪৯ দিনের মাথায় হচ্ছে সিনহা হত্যা মামলার রায়

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৮:৫০, ৩০ জানুয়ারি ২০২২
৫৪৯ দিনের মাথায় হচ্ছে সিনহা হত্যা মামলার রায়
অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান- ফাইল ফটো

কক্সবাজারের টেকনাফে পুলিশের গুলিতে অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান নিহতের ঘটনায় করা মামলার রায় ৫৪৯ দিনের মাথায় আগামীকাল সোমবার ঘোষণা করা হবে। 

এদিন কক্সবাজারের জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ ইসমাইলের আদালত আলোচিত এ হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করবেন।

এ হত্যা মামলার প্রধান দুই আসামি প্রদীপ কুমার দাশ-লিয়াকত আলীর সর্বোচ্চ সাজা চেয়েছেন সিনহার পরিবার। এদিকে এ রায় দেশে একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে বলে প্রত্যাশা করেছে রাষ্ট্রপক্ষ।

Advertisement

২০২০ সালের ৩১ জুলাই রাতে টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের বাহারছড়া শামলাপুর তল্লাশি চৌকিতে নিহত হন সিনহা মো. রাশেদ খান। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে টেকনাফ থানায় দুটি এবং রামু থানায় একটি মামলা করে। সরকারি কাজে বাধা প্রদান এবং মাদক আইনে এসব মামলা করা হয়। টেকনাফ থানায় দায়ের করা দুই মামলায় নিহত সিনহার সঙ্গী সাইদুল ইসলাম সিফাতকে আসামি করা হয়। আর রামু থানায় মাদক আইনে করা মামলায় আসামি করা হয় সিনহার অপর সঙ্গী শিপ্রা দেবনাথকে। 

নিহত সিনহার বড় বোন শারমিন শাহরিয়ার ফেরদৌস ২০২০ সালের ৫ আগস্ট বাদী হয়ে কক্সবাজার আদালতে টেকনাফের বাহারছড়া পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক লিয়াকত আলীকে প্রধান করে নয় পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। মামলায় টেকনাফ মডেল থানার তৎকালীন ওসি প্রদীপ কুমার দাশকে ২ নম্বর আসামি করা হয়। 

মামলার অপর সাত আসামি হলেন-বাহারছড়া পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) নন্দ দুলাল রক্ষিত, কনস্টেবল সাফানুর করিম, কনস্টেবল কামাল হোসেন, কনস্টেবল আবদুল্লাহ আল মামুন, সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) লিটন মিয়া, এসআই টুটুল ও কনস্টেবল মোহাম্মদ মোস্তফা। 

মামলাটির তদন্তভার পায় র‍্যাব-১৫ কক্সবাজার। একইসঙ্গে পুলিশের করা তিনটি মামলার তদন্তও র‍্যাবের ওপর ন্যস্ত করেন আদালত।

২০২০ সালের ১৩ ডিসেম্বর র‍্যাব-১৫ কক্সবাজার ব্যাটালিয়নের জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. খাইরুল ইসলাম ওসি প্রদীপসহ ১৫ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। অভিযুক্ত আসামিদের মধ্যে ১৪ জন কারাগারে থাকলেও টেকনাফ থানার কনস্টেবল সাগর দেব তখন পলাতক ছিলেন। অভিযোগপত্রে সাক্ষী করা হয় ৮৩ জনকে। একই দিন পুলিশের দায়ের করা মামলা তিনটির চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। ২০২০ সালের ৩১ ডিসেম্বর আদালত অভিযোগপত্রটি গ্রহণ করে পলাতক আসামি কনস্টেবল সাগর দেবের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। সেই সঙ্গে পুলিশের দায়ের করা তিনটি মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে মামলা থেকে সাইদুল ইসলাম সিফাত ও শিপ্রা দেবনাথকে অব্যাহতি দেন আদালত। এরপর মামলার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য কক্সবাজার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম তামান্না ফারাহর আদালত থেকে জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ ইসমাইলের আদালতে স্থানান্তর হয়। ২০২১ সালের ২৪ জুন পলাতক আসামি কনস্টেবল সাগর দেব আদালতে আত্মসমর্পণ করেন।

আরো পড়ুন> সিনহা হত্যা: প্রদীপ ও লিয়াকতের দৃষ্টান্তমূলক সাজা চায় পরিবার

২০২১ সালের ২৭ জুন আদালত ১৫ আসামির বিরুদ্ধে বিচারকাজ শুরুর আদেশ দেন। সেই সঙ্গে সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য ২৬ থেকে ২৮ জুলাই পর্যন্ত দিন ধার্য করেন। কিন্তু করোনা মহামারির কারণে আদালতের বিচার কার্যক্রম স্থগিত থাকায় ধার্য দিনগুলোয় সাক্ষ্য গ্রহণ সম্ভব হয়নি। পরে ২০২১ সালের ২৩ আগস্ট থেকে ১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৮ দফায় ৮৩ জনের মধ্যে ৬৫ জন সাক্ষ্য প্রদান করেন। এরপর ৬ ও ৭ ডিসেম্বর আসামিরা ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় আদালতে জবানবন্দি দেন। সর্বশেষে ৯ থেকে ১২ জানুয়ারি পর্যন্ত মামলায় উভয় পক্ষের আইনজীবীরা যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের শেষ দিনে আদালত ৩১ জানুয়ারি মামলার রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেন।

এ বিষয়ে আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ফরিদুল আলম বলেন, আমরা আদালতে সিনহা হত্যার বিষয়টি প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছি। আমাদের আশা, সর্বোচ্চ শাস্তি হবে ওসি প্রদীপ কুমার দাশ, পরিদর্শক লিয়াকত আলীসহ অভিযুক্ত আসামিদের। করোনা মহামারির মধ্যেও স্বল্প সময়ে সিনহা হত্যার রায় দেশে একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে। এ রায়ের মধ্যে দিয়ে বন্ধ হবে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড।

আসামিপক্ষের আইনজীবী মহিউদ্দিন খান বলেন, আসামিদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ অভিযোগ প্রমাণে ব্যর্থ হয়েছে। আমরা চাই এই মামলায় ন্যায় বিচার নিশ্চিত করা হোক।

মামলার বাদী ও নিহত সিনহার বড় বোন শারমিন শাহরিয়ার ফেরদৌস বলেন, সিনহাকে পরিকল্পিতভাবেই হত্যা করা হয়েছে। হত্যার মূলে থাকা প্রধান দুই আসামি প্রদীপ-লিয়াকতের সর্বোচ্চ সাজা চান তিনি। বাকি আসামিদের সাজা হোক যাঁর যাঁর অপরাধের ভিত্তিতে। অভিযুক্ত আসামিদের শাস্তি নিশ্চিত হলে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বন্ধ হবে। এ রায়ের মাধ্যমে দেশের মানুষ জানবে, অপরাধী যে-ই হোক না কেন, অপরাধ করলে শাস্তি ভোগ করতেই হবে। কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়।

ডেইলি-বাংলাদেশ/ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!