এ নিয়ে প্রথমে হত্যাচেষ্টা মামলা হলেও তিনি মারা যাওয়ায় এটি হত্যা মামলায় রূপান্তর হয়। এরপর ২০১২ সালের ১০ সেপ্টেম্বর এ মামলায় আসামিদের বিচার শুরু হয়। কিন্তু দীর্ঘ সময়েও মামলাটির বিচার শেষ হয়নি। তবে অতি শিগগিরই মামলার বিচার শেষ হবে, এমন প্রত্যাশা করছে রাষ্ট্রপক্ষ।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর বিপুল দেবনাথ বলেন, ‘আসামিপক্ষের আইনজীবীদের গাফিলতির কারণে মামলাটির বিচার এতদিনে শেষ হয়নি। তারা মামলার বিচারে বিলম্ব করছেন। তবে হত্যা মামলাটি প্রায় শেষের পর্যায়ে। আশা করি শিগগিরই মামলাটির রায় ঘোষণা হবে। রাষ্ট্রপক্ষ আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ করতে পরেছে। আশা করছি, তাদের সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড হবে।’
.png)
বর্তমানে ঢাকার ৪র্থ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আল-মামুনের আদালতে মামলা দুটি বিচারাধীন। হত্যা মামলাটি গত ২২ ফেব্রুয়ারি যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য ধার্য ছিল। কিন্তু ঐদিন তা হয়নি। আদালত আগামী ২ মার্চ যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের তারিখ ধার্য করেছেন। একই ঘটনার বিস্ফোরক আইনের মামলাটি গত ১৭ জানুয়ারি সাক্ষ্যের জন্য ধার্য ছিল। ঐদিন সাক্ষ্য হয়নি। আদালত আগামী ২৮ মার্চ মামলাটির পরবর্তী সাক্ষ্য গ্রহণের তারিখ ধার্য করেছেন।
আরো পড়ুন>>> দুদকের মামলায় পিকে হালদারসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র গ্রহণ ২৭ মার্চ
মামলা সূত্রে জানা যায়, হুয়ায়ুন আজাদের ওপর হামলায় ঘটনায় তার ভাইয়ের দায়ের করা মামলাটি তদন্ত করে ২০০৭ সালের ১৪ নভেম্বর সিআইডির পুলিশ কাজী আবদুল মালেক পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে আদালতে হত্যা ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে দুটি চার্জশিট দাখিল করেন। ২০১২ সালের ১০ সেপ্টেম্বর হত্যা মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করেন আদালত। এ মামলায় মোট ৪১ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে। আত্মপক্ষ শুনানি শেষে মামলাটি যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের পর্যায়ে রয়েছে। অন্যদিকে বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের মামলায় ২০০৯ সালের ৭ অক্টোবর আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জগঠন করেন আদালত। মামলাটি সাক্ষ্য গ্রহণের পর্যায়ে রয়েছে। এ মামলায় ৪৯ জন সাক্ষীর মধ্যে মাত্র ১৩ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে। সর্বশেষ আগামী ২৮ মার্চ পরবর্তী সাক্ষ্য গ্রহণের তারিখ ধার্য করা হয়েছে।
মামলাটিতে ২০০৭ সালের ১৪ নভেম্বর হত্যাচেষ্টার অভিযোগে জেএমবি নেতা শায়খ আব্দুর রহমান, আতাউর রহমান সানি, নূর মোহাম্মদ সাবু ওরফে শামীম, মিনহাজ ওরফে শফিক, আনোয়ার ওরফে ভাগ্নে শহিদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করে সিআইডি। ২০০৯ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি ঢাকা সিএমএম আদালত শায়খ আব্দুর রহমান ও আতাউর রহমান সানির ঝালকাঠির বিচারক হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ড হওয়ায় তাদের অব্যাহতি দিয়ে অপর আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জগঠন করেন। এরপর মামলার সাক্ষ্যগ্রহণের পর্যায়ে বাদী মামলাটি বর্ধিত তদন্তের আবেদন করেন।
২০১২ সালের ৩০ এপ্রিল সিআইডি পরিদর্শক লুৎফর রহমান পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার পরিবর্তে হত্যার অভিযোগে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। এরা হলেন- জেএমবির সূরা সদস্য আনোয়ারুল আলম ওরফে ভাগ্নে শহিদ, সালাহউদ্দিন ওরফে সালেহীন, মিজানুর রহমান ওরফে মিনহাজ ওরফে শাওন, রাকিবুল হাসান ওরফে হাফিজ মাহামুদ ও নুর মোহাম্মদ ওরফে সাবু।
মামলা সম্পর্কে হুমায়ুন আজাদের ছোট ভাই মো. মঞ্জুর কবির বলেন, ‘ভাইকে হারিয়েছি, তাকে তো আর ফিরে পাবো না। তার অভাব তো পূরণ হবে না। তাকে যারা হত্যা করেছে তাদের দৃষ্টান্তমূলক সাজা চাই। তবে আশা করবো, প্রকৃত দোষীরা যেন সাজা পায়। যারা নির্দোষ তারা যেন সাজা না পায়।’
তিনি আরো বলেন, ‘বিচারের জন্য চাওয়া পাওয়ার কিছু আমাদের নেই। এর চেয়ে বড় চাওয়া তার সমাধিস্থলে রাষ্ট্রীয় অর্থায়নে কিছু একটা করা হোক। যাতে তার একটা স্মৃতি থাকে। এর চেয়ে বড় চাওয়ার কিছু আমাদের নেই। মানুষ সেখানে যাবে। তাকে স্মরণ করবে। এটাই আমাদের এখন বড় চাওয়া।’
আসামিপক্ষের আইনজীবী ফারুক আহাম্মদ বলেন, ‘ন্যায় বিচার পাওয়া সকলের অধিকার। মামলাগুলোতে দীর্ঘদিনেও বিচার শেষ হয়নি। আসামিরা যে হত্যার সাথে জড়িত এমন কিছু সাক্ষ্য প্রমাণে আসেনি। তাই আসামিরা খালাস পাবেন।’