প্রাথমিকভাবে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় মোক্তারের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন- ২০০০ এর ৯(১) ধারায় অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেছেন সিআইডি। মোক্তার হোসেন পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আবেদন করা হয়েছে।
গত বছরের ১২ আগস্ট ঢাকার ৭নং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোছা. কামরুন্নাহারের আদালতে এসপি মোক্তার হোসেনের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেন তারই এক নারী সহকর্মী। আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে আবেদনটি উত্তরা পূর্ব থানাকে মামলা হিসেবে (এফআইআর) গ্রহণ করার নির্দেশ দেন। মামলাটি তদন্ত শেষে গত ৩০ জানুয়ারি মোক্তার হোসেনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দাখিল করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডি পুলিশের সিরিয়াস ক্রাইম স্কোয়ার্ডের পরিদর্শক জসিম উদ্দিন। মামলায় সাক্ষী করা হয়েছে ২০ জনকে।
.png)
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জসিম উদ্দিন বলেন, সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে এসপি মোক্তার হোসেনের বিরুদ্ধে নারী সহকর্মীকে ধর্ষণের অভিযোগ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে। তাই তার বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন- ২০০০ এর ৯(১) ধারায় অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেছি। মোক্তার হোসেন পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আবেদন করেছি।
মুখে কালেমা পড়ে মৌখিকভাবে বিয়ে করেন এসপি মোক্তার:
মামলার বাদীনি অভিযোগ করেন, ২০১৯ সালের ২০ ডিসেম্বর আসামি তার আবাসিকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। পরবর্তীতে ২০১৯ সালের ২২ ডিসেম্বর পুনরায় জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। ২০২০ সালের ৩০ জানুয়ারি তাকে ফুঁসলিয়ে, ভুল বুঝিয়ে, মুখে কালেমা পড়ে মৌখিকভাবে বিয়ে করেন এবং বিয়ে রেজিষ্ট্রি করার আশ্বাস দিয়ে ধর্ষণ করেন।
এছাড়া তাকে একইভাবে ২০২০ সালের ২৬ জুন থেকে ৩০ জুন হোটেল শ্যামলো, খার্তুন, সুদানে ধর্ষণ করেছেন বলে উল্লেখ করেন। অভিযোগে উল্লেখ্য দুইটি ঘটনাস্থল দেশের বাইরে হওয়ায় সরেজমিনে পরিদর্শন করা এবং সাক্ষ্য প্রমাণ সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি।
বিদেশে সংগঠিত ধর্ষণের বিষয় একই সময়ে কর্মরত বাংলাদেশী পুলিশ অফিসারদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে কেউ ঘটনার বিষয়ে অবগত নন মর্মে জবানবন্দি প্রদান করেন।
বিয়ের আশ্বাস পেয়ে বাদীনি ডিভোর্স দেন:
আসামি মোক্তারের পরিবার ঢাকায় সরকারি কোয়ার্টারে বসবাস করেন। আসামি ও বাদিনী দুইজনই বিবাহিত। আসামির দেওয়া প্রতিশ্রুতির পরিপ্রেক্ষিতে বাদীনি ২০২১ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি তার স্বামীকে ডিভোর্স দেন। তিনি ২০২১ সালের ১২ এপ্রিল স্ত্রীর দাবি নিয়ে আসামি মোক্তারের বাসায় গেলে তাকে নাজেহাল করা হয়।
মামলাটির তদন্তে সাক্ষ্য-প্রমাণ প্রকাশ পায় যে, মামলার আসামি মোক্তার হোসেন বিয়ের আশ্বাসে দীর্ঘদিন যাবৎ দৈহিক মোলামেলা করেন, যা ধর্ষণের শামীল। সব তথ্য প্রমাণে পর্যালোচনা করে দেখা যায়,আসামি মোক্তার প্রতারণা করে ধর্ষণ করার ঘটনা প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে। তাই মোক্তারের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন- ২০০০ এর ৯ (১) ধারায় অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করা হলো।
মামলার অভিযোগে যা বলা হয়:
২০১৯ সালে বাদী ও আসামি মোক্তার হোসেন দুজনই সুদানে কর্মরত ছিলেন। সেখানে তাদের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ২০১৯ সালের ২০ ডিসেম্বর দুপুরে আসামি বাদীর বাসায় তার ব্যবহৃত গাড়ির চাবি চান। বাদী চাবি ইউনিফর্মের পকেট থেকে আনতে গেলে আসামি পেছন থেকে তাকে জাপটে ধরে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন।
‘পরে এ ঘটনা কাউকে না জানাতে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি-ধামকি দেন। এর দুদিন পর ২২ ডিসেম্বর আসামি পুনরায় আগের ঘটনা ভুল বোঝাবুঝির কথা বলে বাদীর বাসায় যান। কিন্তু ঐদিনও বাদীকে তিনি জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। এ ঘটনাও কাউকে না জানাতে আসামি বাদীকে হুমকি দেন।’
অভিযোগে আরো বলা হয়, যদি বাদী কাউকে ধর্ষণের ঘটনা জানায়, তাহলে তার ক্ষতি করার হুমকি দেওয়া হয়। এছাড়া আসামি বাদীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করেন। বাদী বিষয়টি পুলিশ ডিপার্টমেন্টে অভিযোগ করেন। সেই অভিযোগের তদন্ত চলছে।