সম্প্রতি সুবহার করা মামলায় কণ্ঠশিল্পী ইলিয়াসের বিরুদ্ধে পুলিশের দেওয়া অভিযোগপত্রে এসব তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা তেজগাঁওয়ের নারী সহায়তা ও তদন্ত বিভাগের এসআই মাসুমা আফ্রাদ আদালতে এ অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
.png)
সূত্রে জানা গেছে, এ মামলার অভিযোগ পত্রে ১১ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে। আগামী ২৭ এপ্রিল এ মামলার অভিযোগ পত্র গ্রহণের জন্য দিন রয়েছে।
এদিকে গত ২২ মার্চ ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৭ এর ভারপ্রাপ্ত বিচারক জুলফিকার হায়াতের আদালত এ মামলায় কণ্ঠশিল্পী ইলিয়াসের জামিন বাতিল করেন। একই সঙ্গে ইলিয়াসের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। এর আগে গত ৩ জানুয়ারি বনানী থানায় মামলাটি করেন সুবহা।
অভিযোগপত্রে যা বলা হয়েছে-
ফ্ল্যাট-গাড়ি কিনতে যৌতুক দাবি করেন ইলিয়াস:
‘সুবাহ একজন অভিনয় শিল্পী এবং আসামি ইলিয়াস একজন কণ্ঠশিল্পী। ২০২১ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তাদের উভয়ের মধ্যে পরিচয় হয়। এ সূত্র ধরে তাদের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। পরবর্তীতে উভয় সম্মতিতে একই বছরের ১ ডিসেম্বর তাদের ইসলামি শরীয়াহ মোতাবেক বিবাহ হয়। বিয়ের সময় আসামি ইলিয়াসের চাহিদা মোতাবেক যৌতুক হিসেবে ১২ লাখ টাকা মূল্যের রোলেক্স ব্রান্ডের একটি ঘড়ি, ২৫ হাজার টাকা মূল্যের আরেকটি ঘড়ি, এক লাখ টাকার গোল্ড আংকটি, গলার চেইনের জন্য ৫০ হাজার টাকা এবং দুই লাখ টাকা বিয়ের কাপড়-চোপড় বাবদ যৌতুক প্রদান করেন। এতে আসামি ইলিয়াস সন্তুষ্ট না হয়ে সুবাহের কাছে ফ্ল্যাট কেনার জন্য ৫০ লাখ টাকা ও গাড়ি কেনার জন্য ৩০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন। এছাড়া সুবাহের মায়ের কাছে যৌতুক হিসেবে ইউটিউব চ্যানেল কেনার জন্য ১০ লাখ টাকা দাবি করেন। এরপর আসামি ইলিয়াসকে আড়াই লাখ টাকা দেন।'
সুবাহকে মাসনিক ও শারীরিক নির্যাতন:
সুবাহ জানতে পারেন আসামি ইলিয়াস একাধিক বিয়ে করেছেন। এ বিষয়ে ইলিয়াসের কাছে সুবাহ জানতে চাইলে তাকে মাসনিক ও শারীরিক নির্যাতন করে। পুনরায় ২৭ ডিসেম্বর আসামি ইলিয়াস যৌতুক হিসেবে ৮০ লাখ টাকা দাবি করেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে ঝগড়া চলছিল। এর জের ধরে ইলিয়াস কাচের গ্লাসের ভাঙা অংশ দিয়ে সুবাহকে মারতে যান। তখন সুবাহ বাধা দিলে তার বাম হাত রক্তাক্ত জখম হয়। পরবর্তীতে ইলিয়াস বিষয়টি নিয়ে সুবাহের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। আর এ ধরনের ঘটনা ঘটবে না বলে সুবাহকে প্রতিশ্রুতি দেয়। পরের দিন ২৮ ডিসেম্বর ইলিয়াস আবার ৮০ লাখ টাকা সুবাহের কাছে দাবি করেন। তখন সুবাহ দিতে অস্বীকার করলে ইলিয়াস এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি, লাথি মারেন এবং চুলের মুঠি ধরে দেয়ালে সঙ্গে ঠুকে জখম করে। পরবর্তীতে সুবাহ অসুস্থ হয়ে পড়লে সে ঢাকা মেডিকেল কলেজে চিকিৎসা গ্রহণ করেন। প্রাপ্ত মেডিকেল সনদপত্রে সুবাহকে মারপিট করে সাধারণ জখম করার বিষয়টি প্রকাশ পায়।
তদন্তকালে ইলিয়াসের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন (সংশোধনী/২০০৩) এর ১১(গ) ধারা অপরাধ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগপত্রে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, বাদী সুবাহ মামলার এজাহারে উল্লেখ করেন আসামি ইলিয়াস তার আলমারিতে থাকা স্বর্ণালংকার যার আনুমানিক মুল্য ২০ লাখ টাকা এবং নগদ ৫০ হাজার টাকা নিয়ে চলে যায়। কিন্তু তদন্তকালে উক্ত বিষয়ে কোন সাক্ষ্যপ্রমাণ পাওয়া যায়নি। সুবাহকে এ বিষয়ে সাক্ষ্যপ্রমাণ উপস্থাপন করতে বললে সে নিজেও অভিযোগ প্রমাণের মতো কোনো সাক্ষ্যপ্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেনি।