এর আগে, ১৯ জানুয়ারি ফাঁসির দণ্ড থেকে খালাস চেয়ে হাইকোর্টে আপিল করেন মিন্নি।
২০২০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় মিন্নিসহ প্রাপ্তবয়স্ক ৬ আসামিকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন বরগুনার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. আছাদুজ্জামান।
.png)
রায়ে মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্তদের ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা ও বাকি ৪ জনকে খালাস দেওয়া হয়। পরে নিয়ম অনুযায়ী একই বছরের ৪ অক্টোবর ৬ আসামির ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে পৌঁছায়। এর দুইদিন পর (অক্টোবর) আপিল করেন আসামিরা।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বাকি আসামিরা হলেন- মো. রাকিবুল হাসান রিফাত ওরফে রিফাত ফরাজী, আল কাইয়ুম ওরফে রাব্বী আকন, মোহাইমিনুল ইসলাম সিফাত, রেজোয়ান আলী খান হৃদয় ওরফে টিকটক হৃদয় ও মো. হাসান।
প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালের ২৬ জুন সকালে বরগুনা সরকারি কলেজ প্রাঙ্গণে মিন্নির সামনেই স্বামী রিফাত শরীফকে কুপিয়ে জখম করে নয়ন বন্ড ও রিফাত ফরাজীরা। গুরুতর অবস্থায় রিফাতকে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে নেয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান রিফাত।
এরপর রিফাতের বাবা দুলাল শরীফ বাদী হয়ে সাব্বির আহম্মেদ ওরফে নয়ন বন্ডকে প্রধান আসামি করে ১২ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত ৫-৬ জনের বিরুদ্ধে বরগুনা থানায় হত্যা মামলা করেন। এ মামলায় মিন্নিকে প্রথমে প্রধান সাক্ষী করা হয়েছিল।
মামলার পর (২ জুলাই) বরগুনা সদরের বুড়িরচর ইউনিয়নের পুরাকাটা ফেরিঘাট এলাকায় পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ প্রধান আসামি নয়ন বন্ড নিহত হন। হত্যাকাণ্ডের ২০ দিন পর (১৬ জুলাই) মিন্নিকে তার বাবার বাসা থেকে বরগুনা পুলিশ লাইনে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে হত্যাকাণ্ডে তার সংশ্লিষ্টতা রয়েছে সন্দেহ হওয়ায় ঐ রাতেই মিন্নিকে গ্রেফতার দেখায় পুলিশ। একই বছরের ২৯ আগস্ট মিন্নিকে জামিন দেন হাইকোর্ট।
১ সেপ্টেম্বর ২৪ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়। তাদের মধ্যে প্রাপ্তবয়স্ক ১০ জন এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক ১৪ জন। ২০২০ সালের ১ জানুয়ারি প্রাপ্তবয়স্ক ১০ আসামির বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করা হয়। পরে সাক্ষ্যগ্রহণ, যুক্তিতর্ক শেষে ৩০ সেপ্টেম্বর রায় ঘোষণা করা হয়।
অপরদিকে ২০২০ সালের ২৭ অক্টোবর অপ্রাপ্তবয়স্ক ১৪ জনের বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা করেন বরগুনা জেলা নারী ও শিশু আদালতের বিচারক মো. হাফিজুর রহমান। রায়ে ছয়জনকে ১০ বছরের কারাদণ্ড, চারজনকে পাঁচ বছর, একজনকে তিন বছরের কারাদণ্ড এবং বাকি তিনজনকে খালাস দেওয়া হয়।