সিনেমাটির বিরুদ্ধে আলাদা আলাদাভাবে আইনগত পদক্ষেপ নেয়ার হুমকিও দিয়েছেন তারা।
নিহত রিফাত শরিফের বাবা দুলাল শরিফ বলেন, রিফাতকে হত্যার চাঞ্চল্যকর বিষয়টি নিয়ে সিনেমা নির্মাণে অনুমতি নেওয়া তো দূরে থাক, একবারও সিনেমা নির্মাতা কথাও বলেননি।
.png)
এরই মধ্যে সিনেমাটির ট্রেইলার বের হয়েছে। সেটা দেখে সবাই বলছেন রিফাত হত্যাই এই সিনেমার মূল কাহিনী। অথচ রিফাতের বাবা হয়েও দুলাল শরিফ জানেন না রিফাতকে সেখানে কীভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘ঘটনাকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করলে অবশ্যই মামলা করবো।’
নির্মাতা রায়হান রাফি সাংবাদিকদের বলেন, ‘একটি সত্য ঘটনা থেকে তিনি উৎসাহ পেয়েছেন পরাণ সিনেমা নির্মাণের। তবে সিনেমাটি বরগুনার রিফাত হত্যাকাণ্ড বা মিন্নিকে নিয়ে নয়।’
রিফাতের স্ত্রী মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোর জানিয়েছেন, তার আইনজীবী জেডাই খান পান্না তাকে নিশ্চিত করেছেন মিন্নি চরিত্রকে অবলম্বন করে সিনেমার মাধ্যমে বাজে কিছু উপস্থাপন করা হলে সাইবার ট্রাইব্যুনালে মামলা করা হবে। বিচার চলাকালীন একটি বিষয়কে নিয়ে সিনেমা নির্মাণ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।
মামলায় এক কিশোর অপরাধীর বাবা মনির খান বলেন, ‘মামলায় কিশোরদের মধ্যে অনেকেই আছে যারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত না। ঘটনার সময় উৎসুক অন্য সাধারণ মানুষের মতোই দাঁড়িয়ে ছিল। আদালত দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে গিয়ে তাদেরও সর্বোচ্চ সাজা দিয়েছে। যা উচ্চ আদালতে প্রমাণের চেষ্টায় আছেন তারা। এ সময় একটি সিনেমার মাধ্যমে এ হত্যাকাণ্ডকে উপস্থাপন তাদের জন্য ক্ষতিকর বলে মন্তব্য করেন তিনি।
২০১৯ সালের ২৬ জুন বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে স্ত্রী মিন্নির উপস্থিতিতে রিফাত শরীফকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে সন্ত্রাসীরা। এরপর তাকে বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর ওইদিন বিকেলে মারা যান রিফাত।
পরদিন ২৭ জুন রিফাতের বাবা দুলাল শরীফ বরগুনা থানায় ১২ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা করেন। এ মামলায় প্রধান সাক্ষী করা হয় মিন্নিকে। পরে পুলিশের অভিযোগপত্রে ৭ নম্বর আসামি হিসেবে নাম আসে মিন্নির।
২০২০ সালের ১ জানুয়ারি রিফাত হত্যা মামলার প্রাপ্তবয়স্ক ১০ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন বরগুনা জেলা ও দায়রা জজ আদালত। ৮ জানুয়ারি থেকে প্রাপ্তবয়স্ক ১০ আসামির বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়।
আসামিদের বিরুদ্ধে ৭৬ জন সাক্ষ্য দেন। এরপর দুই পক্ষের যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে বরগুনার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. আছাদুজ্জামান মামলার রায় ঘোষণার জন্য ৩০ সেপ্টেম্বর তারিখ ধার্য করেন।
রায়ে রিফাতের স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা ওরফে মিন্নিসহ ছয়জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। মামলার বাকি চার আসামিকে দেওয়া হয় খালাস।
মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা উচ্চ আাদালতে আপিল করেছেন। যা এখনো চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়নি।