সোমবার আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনিরের মাধ্যমে গণমাধ্যমকে পাঠানো বার্তায় জাপানি মা নাকানো এরিকো বলেন, আমি নাকানো এরিকো। একজন অসহায় জাপানি মা। আজ এখানে আমি কঠিন সময়ের মুখোমুখি। ইমরান শরীফ (শিশুদের বাংলাদেশি বাবা) ২৩ ডিসেম্বর রাতে আমার ছোট মেয়ে লাইলা লিনাকে আমার কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে গেছে। আমি তার হদিস জানি না। বারবার ই-মেইল করেও জবাব পাচ্ছি না।
তিনি বলেন, আমার মা ৭৬ বছর বয়সী এবং তিনি তীব্র শ্বাসযন্ত্রের রোগে ভুগছেন। সম্প্রতি তার স্বাস্থ্যের অবনতি হয়েছে এবং তিনি জাপানে চিকিৎসাধীন আছেন। তিনি অধীর আগ্রহে শেষবারের মতো আমার এবং নাতনিদের সঙ্গে দেখা করার জন্য অপেক্ষা করছেন। আমার মায়ের অসুস্থতার কারণে আমার তৃতীয় মেয়ে সোনিয়া কার্যত একা এবং সে আমার জন্য প্রতিনিয়ত কাঁদছে।
.png)
সুপ্রিম কোর্ট ও পারিবারিক আদালতে এখন ছুটি চলছে এবং পারিবারিক আদালতে মামলার পরবর্তী তারিখ ১১ জানুয়ারি উল্লেখ করে লিখিত বক্তব্যে এরিকো বলেন, তাই আমি মৌখিকভাবে ইমরান শরীফের সঙ্গে শেয়ার করেছি যে, আমি এই ছুটিতে অল্প সময়ের জন্য মেয়েদের সঙ্গে নিয়ে জাপান যেতে চাই এবং ১০ জানুয়ারির মধ্যেই ফিরে আসতে চাই।
তিনি বলেন, গত ১৩ ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্ট পারিবারিক আদালতকে ৩ মাসের মধ্যে মামলাটি শেষ করার নির্দেশ দেন। কিন্তু ইমরান বিলম্ব করছে এবং প্রায় এক বছর হয়ে গেছে, এখনো বিচার চলছে। তাই আমার মা এবং তৃতীয় মেয়ে সোনিয়ার সঙ্গে দেখা করা আমার জন্য অত্যাসন্ন। এখানে আমার অবর্তমানে মেয়েদের দেখাশোনার জন্য আমার কেউ নেই। এ অবস্থায় তাদের সঙ্গে নিয়ে আমার মুমূর্ষু মাকে দেখতে যেতে চেয়েছিলাম। এছাড়া ইমরান আমার ব্যক্তিগত জীবন সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করার জন্য বেশকিছু গুপ্তচর নিযুক্ত করেছে। এমনকি আমরা কাছাকাছি শপিং মলেও যেতে পারি না। বিষয়টি আমি থানা ও পারিবারিক আদালতকে জানালেও তারা কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করেনি।
‘ইমরান আমার ড্রাইভার, অনুবাদক, বন্ধু এবং আইনজীবীর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা-অভিযোগ দায়ের করেছে। এমনকি সে আমার বাসার রিয়েল এস্টেট ম্যানেজারকে হুমকি দিয়েছে। ইমরান মেয়েকে আদালত কর্তৃক নির্ধারিত সময় ও স্থানের বাইরে নিয়ে ক্রমাগত আদালতের আদেশ অমান্য করেছে। এমনকি বেশ কয়েকবার আমাকে প্রকাশ্যে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিতও করেছে। ভিসা কর্তৃপক্ষ আমাকে সহযোগিতা করেনি। তারা মূলত আমার ভিসা প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত করার চেষ্টা করে এবং অপ্রয়োজনে বিভিন্ন প্রমাণপত্র দেখতে চায়।’
এদিকে গত শুক্রবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে দুই সন্তান নিয়ে জাপানে যাওয়ার চেষ্টার সময় এরিকোকে ঢাকায় হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ফিরিয়ে দেয় পুলিশ। সোমবার বেলা দুইটার দিকে রাজধানীর ধানমন্ডিতে আইনজীবীর চেম্বারে এরিকো গণমাধ্যমকে ব্রিফিং করেন। পরে বেলা সাড়ে তিনটায় সুপ্রিম কোর্ট অঙ্গণে ব্রিফিং করেন ইমরান।
প্রসঙ্গত, জাপানের নাগরিক এরিকো ও বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ইমরানের ২০০৮ সালের ১১ জুলাই বিয়ে হয়। তাদের ৩ মেয়ে সন্তান রয়েছে। গত বছরের ১৮ জানুয়ারি এরিকোর সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন করেন ইমরান। এরপর গত বছরের ২১ ফেব্রুয়ারি দুই মেয়েকে নিয়ে বাংলাদেশে চলে আসেন তিনি। ছোট মেয়ে জাপানে রয়েছে। তবে ইমরানের কাছ থেকে দুই মেয়েশিশুকে ফিরে পেতে ঢাকায় এসে গত ১৯ আগস্ট রিট করেন এরিকো।
অন্যদিকে ছোট মেয়েকে ফিরে পেতে আরেকটি রিট করেন ইমরান। পৃথক রিটের ওপর শুনানি নিয়ে দুই শিশু তাদের বাবা ইমরানের।