ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ আইন-আদালত ]

বুড়িগঙ্গায় লঞ্চডুবিতে ৩৪ যাত্রীর মৃত্যু: এ বছরই বিচার সমাপ্তির প্রত্যাশা

মিনহাজুল ইসলাম
প্রকাশিত: ১৭:৫৩, ৮ জুলাই ২০২৩
বুড়িগঙ্গায় লঞ্চডুবিতে ৩৪ যাত্রীর মৃত্যু: এ বছরই বিচার সমাপ্তির প্রত্যাশা
বুড়িগঙ্গায় লঞ্চ দুর্ঘটনায় লাশের সারি- ফাইল ছবি

২০২০ সালের ২৯ জুন মুন্সীগঞ্জ থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে আসে মর্নিং বার্ড নামের একটি যাত্রীবাহী লঞ্চ। সদরঘাটে পৌঁছানোর আগেই চাঁদপুরগামী ময়ূর-২ লঞ্চের ধাক্কায় ডুবে যায় মর্নিং বার্ড। দুর্ঘটনায় লঞ্চটির ৩৪ যাত্রীর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় ময়ূর-২ লঞ্চের মালিকসহ সাতজনের বিরুদ্ধে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় মামলা করে নৌ-পুলিশ। মামলাটি তদন্ত করে গত বছর ১১ জনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দাখিল করা হয়। মামলাটি বর্তমানে সাক্ষ্যগ্রহণের শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

এরই মধ্যে ৪২ জন সাক্ষীর মধ্যে ৩৪ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষ আশা করছে, আলোচিত মামলাটির বিচার এ বছর শেষ হবে। এদিকে আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক সাজার অপেক্ষায় দিন গুনছে নিহত হওয়া যাত্রীদের পরিবারগুলো।

এ মামলাটি বর্তমানে ঢাকার জেলা ও দায়রা জজ এ এইচ এম হাবিবুর রহমান ভূঁইয়ার আদালতে বিচারাধীন। সর্বশেষ গত ৬ জুন মামলাটির তারিখ ধার্য ছিল। ঐদিন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সদরঘাট নৌ-থানা পুলিশের সাব-ইন্সপেক্টর শহিদুল আলম ও গাজীপুর জেলা দায়রা জজ আদালতের সিনিয়র সহকারী জজ মিশকাত শুকরানা সাক্ষ্য দেন। মিশকাত শুকরানা লঞ্চডুবির ঘটনায় গ্রেফতার আসামিদের জবানবন্দি গ্রহণ করেছিলেন। তখন তিনি ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন।

Advertisement

এদিন তারা সাক্ষ্য দেওয়ার পর আসামিপক্ষের আইনজীবীরা দুই সাক্ষীকে জেরা করার আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করেন। আগামী ২০ জুলাই মামলার পরবর্তী তারিখ ধার্য রয়েছে। 

মামলা সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বিমল সমাদ্দার বলেন, এটা একটি চাঞ্চল্যকর মামলা। মামলাটি নিয়ে আমরা আন্তরিক। মামলাটি যেন দ্রুত শেষ করা যায় আমরা সেই চেষ্টা করছি। এরই মধ্যে ৪২ জন সাক্ষীর মধ্যে ৩৪ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে। সাক্ষ্যগ্রহণের শেষ পর্যায়ে এসে দুইজন সাক্ষীকে জেরার আবেদন করা হয়েছে। দুই সাক্ষীকে জেরা শেষে আত্মপক্ষ শুনানি, এরপর যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করা হবে। তারপর আদালত এ মামলার রায় ঘোষণা করবেন।

তিনি আরো বলেন, সাক্ষীরা মাঝেমধ্যে আসে না। আবার এসেও ঠিকঠাক সাক্ষী দেয় না। এজন্য কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। তবে মামলা শেষে পর্যায়ে নিয়ে এসেছি। আশা করছি, এ বছর মামলার বিচার শেষ হবে। ভুক্তভোগী পরিবারগুলো ন্যায় বিচার পাবে।

মামলা সম্পর্কে জানতে অভিযুক্ত ময়ূর-২ লঞ্চের মালিক মোসাদ্দেক হানিফ ছোয়াদের আইনজীবী সুলতান নাসেরের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলেও তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজী হননি। 

উল্লেখ্য, মামলাটি তদন্ত করে ২০২১ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি সদরঘাট নৌ-থানা পুলিশের সাব-ইন্সপেক্টর শহিদুল আলম ১১ জনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দাখিল করেন। এরপর ২০২২ সালের ১৮ জানুয়ারি আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করে আনুষ্ঠানিক বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। 

আসামিরা হলেন- ময়ূর-২ লঞ্চের মালিক মোসাদ্দেক হানিফ ছোয়াদ, মাস্টার আবুল বাশার মোল্লা, সহকারী মাস্টার জাকির হোসেন, চালক শিপন হাওলাদার, শাকিল হোসেন, সুকানি নাসির হোসেন মৃধা, গিজার হৃদয় হাওলাদার, সুপারভাইজার আব্দুস সালাম, সেলিম হোসেন হিরা, আবু সাঈদ ও দেলোয়ার হোসেন সরকার।

ডেইলি-বাংলাদেশ/আরএইচ
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!