মঙ্গলবার ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৭ এর বিচারক সাবেরা সুলতানা খানমের আদালত এ রায় দেন। যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি তাকে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে তাকে আর ৬ মাস কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
সাজু বড়ুয়া জামিনে ছিলেন। অসুস্থ থাকায় এদিন তিনি আদালতে হাজির হতে পারেননি। এজন্য তার আইনজীবী সময় আবেদন করেন। আদালত সময় আবেদন নামঞ্জুর করে রায় ঘোষণা করেন। তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।
.png)
সংশ্লিষ্ট আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর আফরোজা ফারহানা আহম্মেদ (অরেঞ্জ) এসব তথ্য জানান।
চট্টগ্রামের পটিয়া থানার নাইখাইন গ্রামের বাবু বিন্দু ভূষণ বড়ুয়ার ছেলে সাজু বড়ুয়া।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, ২০০৭ সালের ২০ এপ্রিল সাজু বড়ুয়া ও মৌসুমি বড়ুয়ার বিয়ে হয়। এরপর থেকে মৌসুমির শ্বশুড় বাড়ির লোকজন যৌতুক দাবি করে। এরজন্য শ্বশুড় বাড়ির লোকজন তার ওপর নির্যাতন চালায়। ৩০ এপ্রিল সাজু তার শ্বশুড়ের কাছে ৮০ হাজার টাকা যৌতুক চান। শ্বশুর দরিদ্র হওয়ায় তা দিতে ব্যর্থ হন। ২০০৮ সালের ৯ জানুয়ারি সকাল সাড়ে ৬টার দিকে তুচ্ছ বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে ঝগড়া হয়। এক পর্যায়ে সাজু তার স্ত্রীর গায়ের কাপড়ে দিয়াশলাই দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেন। কাউকে সেই আগুন নেভাতেও দেননি। এতে মৌসুমির শরীর ঝলসে যায়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সে মারা যায়।
এ ঘটনায় মৌসুমির বাবা উত্তম বড়ুয়া ৩১ জানুয়ারি বাড্ডা থানায় প্রথমে যৌতুকের জন্য নির্যাতনের অভিযোগে মামলা করেন। পরে তা হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়।
মামলাটি তদন্ত করে ২০০৮ সালের ২৯ মার্চ বাড্ডা থানার সাব-ইন্সপেক্টর শেখ মাহবুবুর রহমান আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। ঐ বছরের ১৫ অক্টোবর আসামির বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। মামলার বিচার চলাকালে আদালত ১৪ জন সাক্ষীর মধ্যে ৯ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করেন।