ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ আইন-আদালত ]

নায়ক মান্নার মৃত্যু অবহেলায়, দ্রুত বিচার চান স্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৫:৩২, ৬ আগস্ট ২০২৩
নায়ক মান্নার মৃত্যু অবহেলায়, দ্রুত বিচার চান স্ত্রী
স্ত্রীর সঙ্গে নায়ক মান্না- ফাইল ফটো

জনপ্রিয় চিত্রনায়ক এস এম আসলাম তালুকদার মান্নার অবহেলাজনিত মৃত্যুতে করা মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি কামনা করেছেন তার স্ত্রী শেলী কাদের। রোববার সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি।

শেলী কাদের বলেন, ২০০৮ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর ইউনাইটেড হাসপাতালের ৬ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগে মামলা করেছি। এখনো নিষ্পত্তি হয়নি। আমি মান্না হত্যার বিচার চাই।

২০০৮ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর ইউনাইটেড হাসপাতালের ৬ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ এনে মামলা করেন নায়ক মান্নার শ্যালক রেজা কাদের। পরে এ মামলার বিচার বিভাগীয় তদন্ত হয়। তদন্তে প্রাথমিকভাবে চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ হওয়ায় ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম ২০০৯ সালের ২৮ জানুয়ারি ৬ ডাক্তারের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। পরদিনই তারা হাইকোর্টে জামিনের জন্য গেলে হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ তাদের আট সপ্তাহের মধ্যে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণের আদেশ দেন।

Advertisement

ঐ বছরের ১৬ মার্চ চিকিৎসকরা আত্মসর্মপণ করলে ৫০ হাজার টাকার বন্ডে সই করে জামিন পান। এরপর ২০০৯ সালের ১৮ অক্টোবর ৬ ডাক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন বিশেষ দায়রা জজ ফিরোজ আলম। এরপর এক, দুই ও তিন নভেম্বর সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করা হয়। সাক্ষ্যগ্রহণের দিনই সংশ্লিষ্ট বিচারক বদলি হয়ে যান। থেমে যায় সাক্ষ্যগ্রহণ।

এরপর আসামিপক্ষের আইনজীবীরা অভিযোগ গঠনের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট করেন। কিন্তু সেই রিট আবেদনের শুনানিও শুরু করছেন না তারা। এরই মধ্যে ২০১১ সালে শুনানির জন্য ১৫ কার্যদিবস ধার্য থাকলেও আসামিপক্ষ শুনানি না করে সময়ক্ষেপণ করছে বলে অভিযোগ করেন মান্নার মামলার আইনজীবী ড. ব্যারিস্টার খন্দকার মুহাম্মদ মুশফিকুল হুদা।

২০০৮ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি ভোর রাতে কিছুটা অসুস্থ বোধ করায় গাড়ি চালিয়ে গুলশানের ইউনাইটেড হাসপাতালে যান মান্না। সেদিন ঐ হাসপাতালে চিকিৎসকদের অবহলোয় তার মৃত্যু হয় বলে অভিযোগ করেন স্বজনরা।

মান্নার স্ত্রী বলেন, ২০০৮ সালে মামলা করেছি। সে সময় ভেবেছিলাম অচিরেই বিচার হবে। ২০০৮ থেকে ২০২৩; এতদিনেও মামলাটি শুনানি হয়নি। আমি একমাত্র সন্তানকে নিয়ে সাফার করছি।

তিনি আরো বলেন, যেভাবে মান্নার মৃত্যু হয়েছিল- তা পুরোপুরি নেগলেজেন্সি। সে হাসপাতালে গেছে ভোর ৫টা থেকে সাড়ে ৫টার মধ্যে। সেই ডকুমেন্ট আছে। তখন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার ছিল না। ডিউটি ডাক্তাররা ছিল। তারা ঐ সময় ব্যবস্থা নিলে হয়তো আমার স্বামী বেঁচে থাকতো। কারণ মান্নার বড় কোনো অসুস্থতা ছিল না। হাই কোলেস্টরেল ও এসিডিটি ছিল।

শেলী কাদের বলেন, আসামিপক্ষের অবহেলার কারণে মামলাটির কোনো অগ্রগতি হচ্ছে না। আমি চাই দ্রুত এ মামলার সুষ্ঠু বিচার হোক।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এআর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!