ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ আইন-আদালত ]

নবাবগঞ্জে ইজিবাইক চালক হত্যা: তিনজনের যাবজ্জীবন 

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২১:২৪, ১৪ আগস্ট ২০২৩
নবাবগঞ্জে ইজিবাইক চালক হত্যা: তিনজনের যাবজ্জীবন 
ফাইল ফটো

ঢাকার নবাবগঞ্জে ইজিবাইক চালক মো. সাইদুল ইসলামকে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় তিন আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

তারা হলেন- মানিকগঞ্জের সিংগাইর থানার আটিপাড়া গ্রামের লালু মিয়ার ছেলে শাহ আলম এবং নবাবগঞ্জের কৈলাইল গ্রামের দারুগ আলীর ছেলে কাশিম ও রায়পুর গ্রামের পরশ বেপারীর ছেলে শহিদ মিয়া।

একইসঙ্গে আসামিদের প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো তিনমাসের কারাদণ্ড দেন আদালত। মামলায় অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় অপর দুই আসামি নবাবগঞ্জের রায়পুর গ্রামের আপন মিয়া ও আরিফ হোসেনকে খালাস দেওয়া হয়েছে। 

Advertisement

সোমবার ঢাকার সিনিয়র দায়রা জজ এ এইচ এম হাবিবুর রহমান ভূঁইয়া এ রায় ঘোষণা করেন। বিচারক পেনাল কোডের ৩০২/৩৪ ধারায় তিন আসামিকে যাবজ্জীবন দেন। বিচার চলাকালে আসামিদের হাজতবাসকালীন সময় সাজার মেয়াদ হতে বাদ যাবে বলেও রায়ে উল্লেখ করা হয়। 

মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২০১৫ সালের ৭ সেপ্টেম্বর এলাকায় আসামি শাহ আলম, কাশেম, শহিদ, আরিফ ও আপন পাঁচজন মিলে মো. সাইদুল ইসলামের ইজি বাইক ভাড়া করে ঢাকার নবাবগঞ্জের রূপারচর এলাকায় নিয়ে যায়। এরপর আসামিরা পাঁচজন মিলে এক লিটার মদ কিনে খান। আসামিরা সাইদুলকে মদ খেতে বললে গাড়ি চালাতে অসুবিধা হবে উল্লেখ করে মদ খেতে অস্বীকার করেন তিনি। তারপর তারা চলতি পথে নিরিবিলি জায়গায় পৌঁছে সবাই মিলে গামছা পেচিয়ে সাইদুলকে হত্যা ইজিবাইক চুরি করে। পরেরদিন বিকেলে আসামি শাহ আলম ঘোনাপাড়া গ্রামের মোক্তাজলের গ্যারেজে ৫৫ হাজার টাকায় ইজিবাইকটি বিক্রি করেন।

এদিকে সেদিন সন্ধ্যা হয়ে গেলেও সাইদুল বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের লোকেরা সম্ভাব্য স্থানে তাকে খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে নবাবগঞ্জ থানায় জিডি করেন তার বাবা মো. জাহাঙ্গীর। ঘটনার তিনদিন পর ৯ সেপ্টেম্বর দুপুর অনুমানিক ১টা ৩০ মিনিটের দিকে তাদের এলাকার দুই বখাটে আসামি শহিদ ও জাহিদুলকে আসামি শাহ আলমের বাড়ির সামনে দেখে সন্দেহ হওয়ায় তাদেরকে আটক করে পুলিশ।

পরে সিংগাইর এলাকার ইজিবাইক চালকদের জিজ্ঞাসাবাদ করে জানা যায়, ঘোনাপাড়া গ্রামের মোক্তাজল একটি ইজিবাইক ক্রয় করেছেন। উক্ত সংবাদের ভিত্তিতে মোক্তাজলের দোকানে গিয়ে নিহত সাইফুলের ইজিবাইক দেখা যায়। ঐ সময় মোক্তাজল জানান, আসামি কাশিম, সহিদ ও আরিফ হোসেনকে সাথে নিয়ে শাহ আলম তার কাছে উক্ত ইজিবাইকটি ৫৫ হাজার টাকায় বিক্রয় করেন। উক্ত বিক্রয়ে সাইফুল ও মনির হোসেন তাদেরকে সহায়তা করেন। পরে আসামিরা পুলিশের কাছে মো. সাইফুল ইসলামকে হত্যা করে ইজিবাইক চুরির ঘটনায় দোষ স্বীকার করে। 

পরে অপরাধ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আসামি শাহ আলম, কাশিম, শহিদ মিয়া, আপন মিয়া ও আরিফ মিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। অন্য দুই আসামি সাইফুল ও মনিরের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ প্রমাণ না হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে অব্যাহতির আবেদন করেন। এরপর বিজ্ঞ আমলী আদালত পুলিশ প্রতিবেদন গ্রহণে করে আসামি শাহ আলম, কাশিম, শহিদ মিয়া আপন মিয়া ও আরিফ মিয়ার বিরুদ্ধে পেনাল কোডের ৩০২/২০১/৩৭৯/৩৪ ধারায় অভিযোগ গঠন করেন।

ডেইলি-বাংলাদেশ/আরএইচ
ট্যাগ: যাবজ্জীবন
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!