ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ আইন-আদালত ]

স্ত্রী হত্যায় স্বামীর মৃত্যুদণ্ড, শ্বশুর-শাশুড়ি ও দেবরের কারাদণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৬:৫০, ২৫ অক্টোবর ২০২৩
স্ত্রী হত্যায় স্বামীর মৃত্যুদণ্ড, শ্বশুর-শাশুড়ি ও দেবরের কারাদণ্ড
সংগৃহীত ছবি

পাঁচ বছর আগে ঢাকা জেলার দোহার উপজেলায় শিখা আক্তার নামে এক গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগে করা মামলায় স্বামী রুহুল আমিনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। হত্যার পর লাশ গুমে সহায়তা করায় শিখার শ্বশুর মনোয়ার হোসেন, শাশুড়ি আছমা বেগম ও দেবর মারুফ খানকে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। 

একইসঙ্গে তাদের প্রত্যেককে পাঁচ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরো তিন মাস কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

বুধবার ঢাকার অতিরিক্ত প্রথম দায়রা জজ মোহাম্মদ শফিকুল ইসলামের আদালত এ রায় দেন।

Advertisement

রায় ঘোষণার সময় আসামিরা আদালতে হাজির হন। রায় শেষে সাজা পরোয়ানা দিয়ে তাদের কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর দীপক কুমার দেব সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানিয়েছেন। 

রায়ে সন্তুষ্টি জানিয়ে নিহত শিখার মা রুনু আক্তার বলেন, আমি শিখার খুনি রুহুলের মৃত্যুদণ্ডে সন্তুষ্ট। তবে এ রায় যেন বহাল থাকে, আপিলে পরিবর্তন না হয়। আমার মেয়ের খুনির ফাঁসি না হওয়া পর্যন্ত আমার আত্মা শান্তি পাবে না। 

তিনি আরো বলেন, রুহুল আমিনের মা শিখার শাশুড়ি  আছমা বেগম হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী। কম করে হলেও তার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হলে আরো খুশি হতাম।

জানা যায়, ২০১৮ সালের ১৬ মে রুহুল আমিনের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধন হন শিখা। ৩ আগস্ট বিভিন্ন মালামাল দিয়ে তাকে শ্বশুর বাড়িতে পাঠানো হয়। তবে উপহারের মালামাল দেখে পছন্দ হয় না শিখার শ্বশুরবাড়ির লোকজনের। এজন্য তারা শিখার মা রুনু আক্তারের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করে না। রুনু আক্তার তার মেয়েকে বাড়িতে নিয়ে আসেন। পরদিন স্বামীকে নিয়ে শশুর বাড়ি আসে শিখা। রাতে মায়ের সাথে ফোনে অনেকক্ষণ কথা হয় তার। এরপর ৬ আগস্ট শিখার বাবা নাস্তা নিয়ে তার শ্বশুরবাড়ি যায়। তখন শিখার শাশুড়ি আছমা বেগম তাকে জানান শিখাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। শিখার স্বামী রুহুল শিখার বাবাকে জানায়, রাতে শিখার সঙ্গে ঝগড়া হয়েছে। শিখার মায়ের সন্দেহ হয়, শ্বশুর বাড়ির লোকজন তাকে হত্যা করে লাশ গুম করেছে।

পরে রুহুল আমিনের বাড়ির পাশের পুকুর থেকে ৬ আগস্ট বেলা পৌনে ৪টার দিকে শিখার লাশ পায় পরিবার। এ সময় শিখার গলা ওড়নার কাপড় দিয়ে সিলভারের কলসির সঙ্গে বাঁধা ছিল।

এ ঘটনায় শিখার মা রুনু আক্তার ৬ আগস্ট দোহার থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলাটি তদন্ত করে ২০১৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর আদালতে চার জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন দোহার থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) ইয়াসিন মুন্সী। ২০১৯ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জগঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। মামলার বিচার চলাকালে আদালত ১৪ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করেন।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমএস
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!