মঙ্গলবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিচারপতি নজরুল ইসলাম তালুকদারের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করেন।
এর আগে সরকারি-বেসরকারি সব চাকরি থেকে বরখাস্ত করতে হলে নিজস্ব আইনের পাশাপাশি ১২টি নতুন নির্দেশনা মানতে হবে বলে জানিয়েছেন আপিল বিভাগ।
.png)
বুধবার (২০ ডিসেম্বর) দুদক কর্মকর্তা শরীফের চাকরিচ্যুতি বৈধ জানিয়ে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয়। ৪৭ পাতার এ চূড়ান্ত রায় লিখেছেন আপিল বিভাগের তিন বিচারপতি।
এতে কোনো ধরনের কারণ দর্শানো ছাড়াই কোনো কর্মীকে চাকরি থেকে অপসারণ-সংক্রান্ত দুদকের বিধিটি বহাল থাকছে। দুদক (কর্মচারী) চাকরি বিধিমালার ৫৪ (২) বিধি অনুসারে, কোনো ধরনের কারণ দর্শানো ছাড়া কোনো কর্মীকে চাকরি থেকে অপসারণ করা যায়। কিন্তু বিধিটি বাতিল ঘোষণা করে রায় দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। বিধিটি নিয়ে হাইকোর্টের রায় বাতিল করে আপিল বিভাগ।প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এ রায় দেন। হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে দুদকের করা আপিল মঞ্জুর করে এ রায় দেওয়া হয়। একই সঙ্গে বিধিটি নিয়ে দুদকের চাকরিচ্যুত উপসহকারী পরিচালক মো. শরীফ উদ্দিনের করা রিটটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করে সর্বোচ্চ আদালত।
পরে দুদকের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী খুরশীদ আলম খান বলেন, আপিল বিভাগের রায়ে বিধিটি বৈধতা পেল। বিধিটি বহাল থাকছে। তবে পূর্ণাঙ্গ রায় পেলে এ বিষয়ে আরো বিস্তারিত বলা যাবে। বিধিটির ক্ষমতাবলে ২০২২ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি শরীফকে চাকরি থেকে অপসারণ করে দুদক। এরপর ৫৪ (২) বিধি ও বিধিটির ক্ষমতাবলে চাকরিচ্যুতির বৈধতা নিয়ে শরীফ গত বছর হাইকোর্টে রিট করেন।
প্রসঙ্গত, দুদক কর্মকর্তা শরীফ উদ্দিন পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) ভেটেরিনারি মেডিসিন বিভাগের তৃতীয় ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) উপসহকারী পরিচালক (ডিএডি) শরীফ উদ্দিন প্রায় সাড়ে ৩ বছর দুদকের চট্টগ্রাম সমন্বিত কার্যালয়ে কর্মরত ছিলেন। সে সময় এনআইডি সার্ভার ব্যবহার করে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশি ভোটার করার অভিযোগে ২০২১ সালের জুনে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) একজন পরিচালক, ৬ কর্মীসহ আরও ১০ জনের বিরুদ্ধে তিনি মামলা করেছিলেন। এ মামলার পরপর ১৬ জুন তাকে চট্টগ্রাম থেকে পটুয়াখালীতে বদলি করা হয়। পরে দুদক চেয়ারম্যান মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহর সই করা এক অফিস আদেশে শরীফ উদ্দিনকে অপসারণ করা হয়।