সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ, তার স্ত্রী জীশান মির্জা, বড় মেয়ে ফারহিন রিসতা বিনতে বেনজীর এবং ছোট মেয়ে তাহসিন রাইসা বিনতে বেনজীরের নামে বিভিন্ন সম্পত্তির ১৯৮টি দলিলে থাকা ১৯৯.০২ একর জমি অবৈধভাবে অর্জন করেছেন। যার বাজারমূল্য ২০ কোটি ২৬ লাখ ৯৪ হাজার টাকা। দুই দফায় তার এসব সম্পত্তি জব্দের (ক্রোক) আদেশ দিয়েছেন আদালত।
প্রথম দফায় গত ২৩ মে ৮৩টি দলিলে থাকা ১০৯.৬২ একর জমি জব্দের আদেশ দেওয়া হয়। যার বাজারমূল্য ১০ কোটি ৫ লাখ ৫৯ হাজার টাকা। এসব জমির সিংহভাগেরই অবস্থান ছিল গোপালগঞ্জ জেলায়। এছাড়া কক্সবাজারেও ছিল তার সম্পত্তি।
.png)
এদিকে দ্বিতীয় দফায় ২৬ মে তার ৮৯.৪০ একর জমি জব্দের আদেশ দেওয়া হয়। এসব জমির মধ্যে ৮৯.২৩ একরই মাদারীপুর জেলার রাজৈর থানার ডুমুরিয়া মৌজায়। এখান বেনজীরপত্নী জীশান মির্জার নামে থাকা ১১৩টি দলিলমূলে অর্জিত ৮৯.২৩ একর জমির দলিল জব্দের আদেশ দেওয়া হয়েছে। এসব জমির দলিলমূল্য ১০ কোটি ২১ লাখ ৩৫ হাজার টাকা। এ জমিগুলো ২০২১ সালের ২৪ জানুয়ারি থেকে ২০২২ সালের ১৬ আগস্টের মধ্যে ক্রয় করা হয়েছিল। এ সময়টাজুড়ে বেনজীর আহমেদ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ছিলেন। এ সময় ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতির মাধ্যমে তিনি এসব সম্পত্তি অর্জন করেছেন বলে দুদকের ধারণা। উল্লেখ্য, ২০২০ সালের ১৫ এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিনি পুলিশের আইজিপির দায়িত্ব পালন করেন।
এছাড়াও মাদারীপুরের শিবচরের ঠেঙ্গামারা মৌজায় থাকা ৮.২৫ শতক জমিও রয়েছে এ তালিকায়। তাছাড়া সাভারের মৈস্তাপাড়া মৌজার ৩ কাঠা জমি জব্দের আদেশের আওতায় রয়েছে। এ জমি ২০১২ সালের ২১ জুন ক্রয় করা হয়।
একদিনেই গুলশানে কেনেন চারটি ফ্ল্যাট :
আদেশ সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালের ৫ মার্চ একদিনেই বেনজীর আহমেদ তার পরিবারের সদস্যদের নামে কেনেন চারটি ফ্ল্যাট। ঢাকার গুলশানে অবস্থিত র ্যাংকন আইকন টাওয়ারে এ চারটি ফ্ল্যাটের অবস্থান। চারটি ফ্ল্যাটের মোট দলিলমূল্য ২ কোটি ১৯ লাখ টাকা।
এসব ফ্ল্যাটের তিনটি ফ্ল্যাট রয়েছে তার স্ত্রী জীশান মির্জার নামে। স্ত্রীর নামে ভবনটির ১৩ ও ১৪ তালায় থাকা তিনটি ফ্ল্যাটের দলিল মূল্য ১ কোটি ৬৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এছাড়াও মেয়ে যাহরা জারিন বিনতে বেনজীরের নামে ভবনটির ১৪ তলায় ৫৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা দলিলমূল্যের একটি ফ্লাটও রয়েছে জব্দের আদেশের তালিকায়।
অবরুদ্ধ (ফ্রিজ) করা অস্থাবর সম্পত্তি:
দ্বিতীয় দফায় অবরুদ্ধের (ফ্রিজ) আদেশ দেওয়া বেনজীরের অস্থাবর সম্পত্তির মধ্যে রয়েছে- সোনালী ব্যাংকের রমনা কর্পোরেট শাখায় থাকা ৩০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র, শান্তা সিকিউরিটিজ লিমিলেডে স্ত্রী জীশান মীর্জা ও মেয়ে তাহসিন রাইসা বিনতে বেনজীরের নামে থাকা দুইটি বিও অ্যাকাউন্ট, লঙ্কা সিকিউরিটিজ লিমিটেডে বেনজির আহমেদের নামে থাকা দুইটি বিও আইডি। এছাড়াও ফ্রিজের আদেশ দেওয়া অস্থাবর সম্পত্তির আওতায় রয়েছে তার মালিকানাধীন চারটি কোম্পানির শতভাগ শেয়ার। সেগুলো হলো- সাভান্না ন্যাচারাল পার্ক প্রাইভেট লিমিটেড, সাভান্না অ্যাগ্রো লিমিটেড, সাভান্না ইকো রিসোর্ট প্রাইভেট লিমিটেড ও একটি শিশির বিন্দু লিমিটেড।
এছাড়াও বেনজির আহমেদ ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে থাকা আংশিক শেয়ারসমূহ ফ্রিজের আদেশ দেওয়া হয়েছে। যেসব প্রতিষ্ঠানে তাদের আংশিক শেয়ার রয়েছে সেগুলো হলো- নর্থ চিকস্ রংপুর লিমিটেড, নর্দার্ন বিজনেস অ্যাসোসিয়েটস লিমিটেড, সেন্ট পিটার স্কুল অব লন্ডন লিমিটেড, স্টিলথ ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, বাংলা টি ম্যানুফ্যাকচারিং ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, ডেল্টা আর্টিসানস লিমিটেড, ইস্ট ভ্যালি ডেইরি লিমিটেড, গ্রিন মাল্টিমিডিয়া লিমিটেড, কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি, কমিউনিটি ব্যাংক ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড, সেন্টার ফর সিকিউরিটি এন্ড ল এনফোর্সমেন্ট রিসার্স ফাউন্ডেশন, পুলিশ ট্রাস্ট ইন্ডাস্ট্রিয়াল প্রোডাক্টস লিমিটেড, পুলিশ ট্রাস্ট সার্ভিস এন্ড এন্টারটেইনমেন্ট লিমিটেড, পুলিশ ট্রাস্ট কনস্ট্রাকশন এন্ড ডেভেলপমেন্ট লিমিটেড এবং এমএস সাউদার্ন বিজনেস ইনিশিয়েটিভস।
সার্বিক বিষয়ে দুদকের আইনজীবী মাহমুদ হোসেন জাহাঙ্গীর বলেন, বেনজীর ও তার পরিবারের সম্পত্তি জব্দের জন্য দুদকের পক্ষে আবেদন করা হয়। আদালত আবেদনটি মঞ্জুর করে আদেশ দেন। এখনই এসব সম্পত্তি জব্দ না করলে অভিযুক্তরা সম্পত্তি হস্তান্তর বা স্থানান্তর করতে পারেন বলে তদন্তে জানতে পেরেছেন তদন্ত কর্মকর্তা। স্থানান্তর বা হস্তান্তর করে ফেললে মামলা বা বিচারের উদ্দেশ্য পূরণ হবে না বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়।