মামলার বিচার শেষে গত সোমবার (২৭ মে) আসামি লেসেডি মোলাপিসিকে মৃত্যুদণ্ড দেন বিচারক। একইসঙ্গে তাকে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডও দেন বিচারক। এদিকে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় এ মামলার অন্য আসামি মো. মহিবুল ইসলাম মাসুদকে খালাস দেওয়া হয়। এ মামলার রায় ঘোষণা করেন ঢাকার অষ্টম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. আমিনুল ইসলাম।
মঙ্গলবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী মিলন ইসলাম। তিনি জানান, সোমবার আসামির উপস্থিতিতে বিচারক এ রায় দেন। রায় শেষে আসামিকে সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়।
.png)
রায়ের সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ৩৬(১) এর ৮(গ) ধারায় এ মৃত্যদণ্ড দেওয়া হয়। এ ধারা অনুযায়ী ২৫ গ্রামের বেশি পরিমাণ হেরোইন পরিবহনের দায়ে আসামিকে মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়ার বিধান রয়েছে।
মামলার সূত্রে জানা যায়, আসামি লেসেডি মোলাপিসি ২০২২ সালের ২৩ জানুয়ারি দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানসবার্গ থেকে কাতারের দোহা হয়ে ঢাকাগামী ফ্লাইটে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। সেদিন বিকেল ৫.৩০ মিনিটে লেসোডি গ্রিন চ্যানেল অতিক্রমকালে তার সঙ্গে থাকা ট্রলি ব্যাগ স্ক্যানিং করা হয়। এ সময় তার ব্যাগের মধ্যে পাউডার বা দানাদার পদার্থের অস্বিত্ব পাওয়া যায়। পরে ব্যাগের মধ্যে ৩টি লেডিস ভ্যানিটি ব্যাগ ও একটি ফাইল ব্যাগ হতে ৩ হাজার ১৪৫ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার করা হয়। পরে রাসায়নিক পরীক্ষাতেও আসামির নিয়ন্ত্রণ হতে পাওয়া ৩ কেজি ১৪৫ গ্রাম হেরোইন ছিল মর্মে প্রতীয়মান হয়।
মামলাটি তদন্ত শেষে আসামি লেসেডি ও মহিবুলকে অভিযুক্ত করে ২০২২ সালের ৮ আগস্ট আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা।
চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়, আসামি লেসেডি মোলাপিসি ও মো. মহিবুল ইসলাম একে অপরের সহযোগিতায় হেরোইনের ব্যবসা করতো। এরপর ২০২৩ সালের ২০ জুলাই মামলার অভিযোগ গঠন করে আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু করেন আদালত। মামলার বিচারকালে রাষ্ট্রপক্ষে মোট ছয়জন সাক্ষী সাক্ষ্য দেন।
রায়ের সূত্রে জানা যায়, আসামি লেসেডি মোলাপিসি অল্প অল্প বাংলা বুঝতে ও বলতে পারে। তাকে সাক্ষীদের বক্তব্য পড়ে শুনানো ও ইংরেজিতে বুঝিয়ে বলা হয়। সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে তিনি সাফাই সাক্ষ্য দেবেন না বলে জানান এবং আত্মপক্ষ সমর্থনের দিন নিজেকে নির্দোষ বলেও দাবি করেন তিনি।