২০২৩ সালের ১৬ নভেম্বর একমাত্র আসামির আপিল এবং জেল আপিল খারিজ এবং মৃত্যুদণ্ডাদেশ অনুমোদন (ডেথ রেফারেন্স গ্রহণ) করে বিচারপতি এস এম কুদ্দুস জামান ও বিচারপতি মো. আমিনুল ইসলামের হাইকোর্ট বেঞ্চ রায় দেন।
রোববার এ রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশ করেন হাইকোর্ট। ৫২ পৃষ্ঠার রায়টি লিখেছেন বিচারপতি মো. আমিনুল ইসলাম। তার সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন বিচারপতি এস এম কুদ্দসু জামান।
.png)
রায়ে বলা হয়, ১৪ বছরের ছোট মেয়েকে প্রকাশ্যে দিনের আলোতে হত্যা করা হয়েছিল। পূর্ব পরিকল্পনামতো উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয়। এই অভিযুক্তকে দয়া দেখানোর যৌক্তিক কোনো কারণ নেই। এ ছাড়া তার সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন করারও সুযোগ নেই। বিচারিক আদালত যথাযথভাবে সর্বোচ্চ সাজা দিয়েছেন। ওই সাজা আইনগতভাবে সঠিক এবং গ্রহণযোগ্য। তাই মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে আপিল খারিজ করা হলো।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সুজিত চ্যাটার্জি বাপ্পী। আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী এস এম শাহজাহান।
২০১৬ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার নবগ্রাম গ্রামের নির্মল মণ্ডলের মেয়ে নিতু স্কুলে যাওয়ার জন্য সকালে বাড়ি থেকে বের হয়। এ সময় প্রতিবেশী বীরেন মণ্ডলের ছেলে মিলন মণ্ডল তার পিছু নেয়। পরে বাড়ি থেকে আধা কিলোমিটার দূরে নবগ্রাম উত্তরপাড়া ঠাকুরবাড়ি নামক স্থানে গ্রামের একটি রাস্তায় সে নিতুকে কুপিয়ে হত্যা করে লাশ পাশের একটি নালায় ফেলে রাখে। এরপর পালিয়ে যাওয়ার সময় গ্রামবাসী মিলনকে ধরে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে দেয়।
ঘটনার দিন রাতে নিতুর বাবা নির্মল মণ্ডল বাদী হয়ে কালকিনির ডাসার থানায় মিলনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন।
২০১৭ সালের ২১ আগস্ট মাদারীপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক শরীফ উদ্দিন আহমেদ মিলন মণ্ডলকে মৃত্যুদণ্ড দেন। পরে মিলন আপিল এবং জেল আপিল করেন। পাশাপাশি মৃত্যুদণ্ডাদেশ অনুমোদনের জন্য ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে আসে। এরপর শুনানি শেষে ২০২৩ সালের ১৬ নভেম্বর মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে আপিল খারিজ করে দেওয়া হয়।