গাজী নজরুল ও গাড়িচালকের জামিন নামঞ্জুর
দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম আক্তারের আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলায় সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম ও তার গাড়িচালক ওবায়দুর রহমানের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত।
বুধবার (৭ অক্টোবর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলামের আদালত বাদীপক্ষের আপসনামা ও আসামিপক্ষের জামিন আবেদনের ওপর শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন অর রশিদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
শুনানিতে গাজী নজরুলের আইনজীবী মাহবুবুর রহমান বলেন, বাদীপক্ষের সঙ্গে আপস হয়েছে এবং আসামির জামিনে তাদের কোনো আপত্তি নেই। পাশাপাশি গাজী নজরুলের অসুস্থতার বিষয়টি উল্লেখ করে জামিনের আবেদন করা হয়। তিনি জানান, তার মক্কেল ৭৫ বছর বয়সী, একজন মুক্তিযোদ্ধা এবং হৃদরোগে আক্রান্ত।
অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষ জামিনের বিরোধিতা করে। আইনজীবী হারুন অর রশিদ বলেন, মামলায় অনাপসযোগ্য ধারা রয়েছে। এ ধরনের মামলায় আপসের সুযোগ নেই। তদন্তও এখনো শেষ হয়নি। তদন্ত শেষে এটি আত্মহত্যা নাকি হত্যা, তা স্পষ্ট হবে।
উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত বলেন, ‘এ ধরনের অনাপসযোগ্য মামলায় একটা আপসনামার ওপরে ভিত্তি করে জামিন দিলে সমাজে ন্যায়বিচার নিয়ে বিরূপ ধারণা সৃষ্টি হবে।’ পরে গাজী নজরুল ও তার গাড়িচালক ওবায়দুরের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন আদালত।
এর আগে বাদীপক্ষের সঙ্গে আপসের পর এ মামলায় গাজী নজরুলের স্ত্রী মাকছুদা ইসলামের জামিন মঞ্জুর হয়। তবে গাজী নজরুলের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহর আদালত। পরে বুধবার পুনরায় জামিনের আবেদন করা হয়।
আপসনামায় মরিয়মের বাবা ও মামলার বাদী এস এম মাসুম বিল্লাহ উল্লেখ করেন, মামলা দায়েরের পর বিভিন্ন মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন যে তার মেয়ের জামাই গাজী নজরুল ইসলাম ও প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামের প্ররোচনা কিংবা তাদের সঙ্গে রাগ-অভিমানের কারণে মরিয়ম আত্মহত্যা করেননি। দুই পক্ষের মধ্যে শান্তি বজায় রাখার লক্ষ্যে আলোচনা করে আপসনামায় স্বাক্ষর করা হয়েছে বলেও এতে উল্লেখ করা হয়।
আপসনামার শর্ত অনুযায়ী, গাজী নজরুল ও মাকছুদা জামিনে মুক্তি পেলে বাদীপক্ষের কোনো আপত্তি থাকবে না। পাশাপাশি উভয় পক্ষ ভবিষ্যতে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা করবে এবং বিচারাধীন বিষয়ে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে।
এর আগে গত ২০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় সংসদ ভবনের বিপরীতে ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই রাতেই সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদাকে হেফাজতে নেওয়া হয়।
পরে মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে গাজী নজরুল ইসলাম, মাকছুদা ইসলাম ও নিহতের মামা ওবায়দুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
পরদিন শেরেবাংলা নগর থানার এসআই মো. শামসুজ্জোহা সরকারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গাজী নজরুলের চার দিন এবং মাকছুদার এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। একই দিন রাতে মামলাটির তদন্তভার গোয়েন্দা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। রিমান্ড শেষে ২২ সেপ্টেম্বর মাকছুদাকে কারাগারে পাঠানো হয়। পরে ২৩ সেপ্টেম্বর ওবায়দুর রহমানকেও কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।