শনিবার রাজধানীর রায়ের বাজার, টাউন হল বাজার, ধানমন্ডি ১৫ নম্বরের মাছ বাজারসহ শিয়া মসজিদ বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বাজারে ক্রেতা কম, এরপরও গরু মাংসের দাম চড়া। একই অবস্থা ব্রয়লার ও সোনালি মুরগির ক্ষেত্রেও।
এখনও গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৭৮০ টাকায়। ব্রয়লার মুরগির দামেও একই অবস্থা। পাড়া মহল্লার দোকানগুলোতে এখনও ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২৪০-২৫০টাকায়। বাজার গুলোতে ১০/২০টাকা কমে পাওয়া যাচ্ছে। শুধু ব্রয়লারই নয়, এখনো বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে সোনালি মুরগি। রোজার মধ্যে সোনালি মুরগির দাম কেজিতে ২০-৩০ টাকা বেড়ে বিক্রি হয়েছে ৩৪০ টাকায়, যা ঈদের আগে ৩৬০-৩৮০ টাকায় উঠেছিল। এখন অবশ্য ৩৪০-৩৫০ টাকায় নেমে এসেছে।
.png)
রায়ের বাজারের মুরগি বিক্রেতা শরিফুল ইসলাম বলেন, ঢাকার বাইরে বাড়তি চাহিদা থাকায়, ঢাকায় সরবরাহ কমে যায়। যে কারণে দাম একটু বেড়ে যায়। সরবরাহ স্বাভাবিক হলে ব্রয়লার মুরগির দাম দ্রুত কমবে বলেও জানান তিনি।
এদিকে, প্রতি ডজন ব্রয়লার মুরগির ডিম ১২০-১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে এবং পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৬০-৬৫ টাকা কেজি দরে।
এদিকে নতুন করে বাড়তে শুরু করেছে আলুর দাম। কেজি প্রতি ১০/১২ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। ঈদের আগে যে আলু ৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে, সেটি এখন বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকায়।
এ নিয়ে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কোল্ড স্টোরেজে প্রতি বছর যেখানে ১১-১২ টাকায় আলু রাখা হয়, সেটি এবার ৩০ টাকায় উঠেছে। তাছাড়া কৃষক পর্যায়ও আলুর দাম বাড়তি।
আজকের বাজারে ভোজ্যতেল সয়বিন (বোতল) এক লিটারে ৪টা বেড়ে ১৬৭ টাকা বিক্রি হচ্ছে। খোলা সয়াবিন লিটার প্রতি ২ টাকা কমে ১৪৯ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া ৫ লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ৮০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৮১৮ টাকা এবং লিটার প্রতি বোতল জাত পাম অয়েলের ১৩৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
রাজধানীর একাধিক বাজার ঘুরে দেখা যায়, এখনও সবজিতেই স্বস্তি, তবে চড়া মাছের বাজার। গত সপ্তাহের তুলনায় আজকের বাজারে অধিকাংশ সবজিতে কেজি প্রতি ১০ থেকে ২০ টাকা দাম কমেছে। মটরশুঁটি ৮০-৯০ টাকা, গোল আলু ৩০ টাকা, টমেটো ৩০-৪০ টাকা, গোল বেগুন ৬৫ টাকা, লম্বা বেগুন ৪০ টাকা, করলা (বড়)-৬০ টাকা, করলা (ছোট) ৪০ থেকে ৫০ টাকা, কাঁচা পেঁপে ৪০-৫০ টাকা, শসা ৫০-৬০ টাকা, গাজর ৩০-৪০ টাকা, বরবটি ৮০ টাকা, চিচিঙ্গা ৪৫ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৩০ টাকা, কচুর লতি ৮০ টাকা, ঢেঁড়স ৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া, লাউ আকারভেদে ৫০ টাকা এবং ফুলকপি-পাতাকপি ৩৫-৪০ টাকায় প্রতি পিস বিক্রি হচ্ছে।
এ নিয়ে বিক্রেতারা বলছেন, বাজারে মানুষের আনাগোনা অন্য সময়ের তুলনায় অনেকটা কম। ফলে সবজির চাহিদা কম থাকায় প্রভাব পড়েছে সবজি বাজারে। কমেছে দামও।
অন্যদিকে বাজারে মাছের সরবরাহ কম থাকায় বেড়েছে দাম। বেশিরভাগ মাছ কেজিতে দাম বেড়েছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা। ধানমন্ডি ১৫ নম্বরের ফুটপাত জুড়ে বসা বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি কেজি বড় রুই ৪৫০ টাকা, মাঝারি রুই ৩৫০ টাকা, তেলাপিয়া ২৫০ টাকা, বড় পাঙাশ ২৮০-৩০০ টাকা, আকার ভেদে ইলিশ মাছ ১০০০-১২০০ টাকা, বড় কৈ ৬০০ টাকা, শিং ৮৫০ টাকা, বোয়াল ৫০০-৭০০ টাকা, কালবাউশ ৪৫০ টাকা ও আইড় ৬০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া, ছোট চিংড়ি ৩০০ টাকা, বড় চিংড়ি ৮০০ টাকা, মলা ৩০০ টাকা, পাবদা ৫০০ টাকা ও লৈট্টা ৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
এ নিয়ে বিক্রেতারা বলছেন, বাজারে মানুষের আনাগোনা অন্যান্য সময়ের তুলনায় অনেকটা কম। তাছাড়া সরবরাহ কম। যার প্রভাব পড়েছে মাছ বাজারে। যার কারণে মাছের দামও বাড়তি।