এ হিসেব প্রতিটি পিস ডিমের দাম পড়ে ১২ টাকা। আর ১১০ টাকায় বিক্রি হওয়া সাদা ডিম ডজনে ১৫ টাকা বেড়ে প্রতি ডজন বিক্রি হচ্ছে ১২৫ টাকায়। এ হিসেবে প্রতিটি ডিমের খুচরা মূল্য পড়ে ১০ টাকা ৪১ পয়সা।
সোমবার রাজধানীর রায়ের বাজার ও মোহম্মদপুর বাজারের বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে।
.png)
ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে আরো জানা যায়, পাইকারিতে ১০০ বাদামি ডিম বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ২০ থেকে ১ হাজার ৩০ টাকায়। সাদা রঙের ১০০ ডিম পাইকারিতে ৯৬০ থেকে ৯৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, টানা তিন সপ্তাহের তীব্র তাপপ্রবাহে দেশে ডিমের উৎপাদনে ঘাটতি তৈরি হয়েছে। ফলে হঠাৎ বাজারে ডিমের দাম বাড়তে শুরু করেছে। আগামী সপ্তাহে দাম আরো বাড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে খামারি ও ব্যবসায়ীরা।
রাজধানীর মোহাম্মদপুর টাউনহল বাজারের ডিম ব্যবসায়ী আরাফাত মহামুদ বলেন, গত সপ্তাহে প্রতি ডজন ডিম বিক্রি করেছি ১২০ টাকায়। কিন্তু পাইকারি বাজারে ডিমের দাম বাড়ায় প্রতি ডজন ডিম বিক্রি করতে হচ্ছে ১৪০ টাকায়।
তবে প্রান্তিক খামারিরা ডিমের দাম কমা-বাড়া নিয়ে তেজগাঁও আড়তমালিকদের সিন্ডিকেটকে দায়ী করছেন। তারা বলছেন, কিছুদিন আগে ডিমের দাম অস্বাভাবিকভাবে কমিয়ে দেন আড়তমালিকরা। সুযোগ বুঝে তারা এখন দাম বাড়াচ্ছে।
বাংলাদেশ পোল্ট্রি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. সুমন হাওলাদার বলেন, সারাদেশে ডিমের দাম নির্ধারণ করে তেজগাঁও আড়তমালিকরা। হুট করে তারা দাম কমিয়ে দিয়ে খামারিদের থেকে ডিম নিয়ে হিমাগারে সংরক্ষণ করে, এরপর আবার দাম বাড়িয়ে মুনাফা করে।
তিনি বলেন, ঐ আড়তে প্রতিদিন ১৫ থেকে ২০ লাখ ডিম বিক্রি হলেও তারা সারাদেশে চার কোটি ডিমের বাজার নিয়ন্ত্রণ করে। প্রতিদিন তারা বাজারদর জানিয়ে দেয় সারাদেশের আরো বিক্রেতা এবং খামারিদের। তারাই এখন ডিমের বাজার নিয়ন্ত্রণ করে।
বাজার ঘুরে দেখা যায়, সোনালির পাশাপাশি এবার ব্রয়লার মুরগির দামও বৃদ্ধি। কেজি প্রতি সোনালি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৪০০ টাকা পর্যন্ত। গত সপ্তাহে ৩৪০-৩৫০ টাকা ছিল। এছাড়া ব্রয়লার মুরগির দামও কেজিতে কিছুটা বেড়ে ২২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা গত সপ্তাহে ১৯০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।
এদিকে ভারত সরকার পেঁয়াজ রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার খবরে রাজধানীর কাঁচা বাজারগুলোতে প্রভাব পড়েছে। এতে কেজিতে ১০ টাকা কমেছে দাম।
রাজধানীর হাতিরপুল বাজারে খুচরা পর্যায়ে পাবনার পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকায়। অথচ একদিন আগেও ৭০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। আর ফরিদপুর ও রাজবাড়ির পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৫৫ টাকায়। এর আগে কেজি প্রতি বিক্রি হয়েছে ৬৫ টাকা।
ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানির খবর শুনে খুশি ক্রেতারা। তারা বলছে, সবকিছুর দামই ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে থাকা ভালো। বাজারে স্বস্তি ফেরাতে আমদানির বিকল্প নেই। ভারতীয় পেঁয়াজ আশা শুরু হলে দাম আরো কমতে পারে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, ভারত থেকে দেশের বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহ শুরু হলে দাম নেমে আসবে ৫০ টাকার নিচে।
পাইকারি ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাড়তি দামের মজুত করা পেঁয়াজ এখন পুরোটাই বিক্রি করতে হবে লোকসানে।
আর আড়তদারদের দাবি, ভারতের পেঁয়াজ রফতানির ঘোষণায় দাম কমে এসেছে। তবে ভারতীয় পেঁয়াজ দেশের বাজারে আসতে আরো ৭-১০ দিন সময় লাগবে। এসব পেঁয়াজ বাজারে এলে দাম আরো কমে যাবে।
এদিকে, রান্নার অন্যতম উপাদান এলাচ ৩০০ বেড়ে কেজি প্রতি বিক্রি হচ্ছে ৩৮০০ টাকা দরে। তবে কমেছে জিরা ও লবঙ্গের দাম। প্রতি কেজি জিরা বিক্রি হচ্ছে ৬৮০ টাকায়। আগে বিক্রি হয়েছে ৭০০ টাকায়। লবঙ্গ বিক্রি কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ১৮০০ টাকা।
সূত্রে জানা যায়, প্রতিকেজি এলাচ ১৫ শতাংশ মুনাফাসহ বিক্রয়মূল্য হওয়ার কথা ১৬০০-১৭০০ টাকা। কিন্তু ৩৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
খুচরা বাজারে প্রতিকেজি দেশি আদা ৪৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা এক মাস আগে ২৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। আমদানি করা আদা বিক্রি হচ্ছে ২৫০ টাকায়, যা এক মাস আগে ২২০ টাকা ছিল। প্রতিকেজি দেশি রসুন বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকা দরে। প্রতি কেজি হলুদ বিক্রি হচ্ছে ৪২০ টাকায়।
প্রতি কেজি দারুচিনি ৬২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা এক মাস আগে ৫২০ টাকা ছিল। ছোট দানার এলাচের কেজি সর্বোচ্চ ৩৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে; যা এক মাস আগে ৩৫০০ টাকা ছিল।
এ প্রসঙ্গে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান বলেন, প্রতিবছর কোরবানির ঈদ আসার আগেই অসাধুরা মসলা পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেয়। কারণ কোরবানির ঈদ ঘিরে এই পণ্যের চাহিদা বেশি থাকে। কয়েকবার অসাধুদের চিহ্নিত করলেও পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। তাই এখনই পদক্ষেপ না নিলে ঈদের আগেই মূল্য ক্রেতার নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে।
আটা (প্যাকেট) কেজি ৫ টাকা কমে ৫৫ টাকা, পাম অয়েল (লুজ সুপার) কেজিতে ৫ টাকা কমে ১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আগে বিক্রি হয়েছে ১৩৫ টাকায়। শুকনা মরিচ (দেশি) ও চিনির দাম।
হাওর এলাকায় বোরো ধান উঠতে শুরু করেছে। তার পরও চালের বাজারে প্রভাব পড়েনি। এক পয়সাও কমেনি চালের দাম। আগের মতোই প্রতিকেজি নাজিরশাইল মানভেদে ৭০-৮০ টাকা, মিনিকেট ৭২-৭৫ টাকা, আটাশ চাল ৫৫-৫৮ টাকা ও মোটা চাল ৪৮-৫২ টাকা কেজি। নামিদামি ব্র্যান্ডের পোলাওয়ের প্যাকেট চাল ১৭০-১৮০ টাকা কেজি এবং বস্তার পোলাওয়ের চাল ১৪০-১৪৫ টাকা কেজি। দামের ব্যাপারে কারওয়ান বাজারের মেসার্স হাজি রাইস এজেন্সির মাঈন উদ্দিন বলেন, ধান উঠে গেছে। তারপরও এক পয়সা কমেনি চালের দাম। আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে চাল।
বেশি দর তেল বাজারে
সয়াবিন পাঁচ লিটার ৮১৮ দরে বিক্রি হচ্ছে। অথচ এক সপ্তাহ আগে বিক্রি হয়েছে ৭৮০ টাকায়।
বাজারে দেখা গেছে, আগের মতোই খোলা চিনি ১৪০, প্যাকেট চিনি ১৪৫, দুই কেজি আটা ১১০-১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কিশমিশের কেজি ৫৮০-৭০০ টাকা কেজি, কাঠবাদাম ১ হাজার ১০০, দারুচিনি ৫৫০, লবঙ্গ ১ হাজার ৭০০ ও জিরার কেজি ৭৫০ টাকা।
কমেনি সবজির দাম
দেশের বিভিন্ন স্থানে কম দামে বিক্রি হলেও রাজধানীতে চলমান তীব্র তাপপ্রবাহের অজুহাতে বেশি দামেই ভোক্তাদের কিনতে হচ্ছে সবজি।
বিভিন্ন বাজারে দেখা গেছে, বেগুন ৭০-৮০ টাকা। টমেটোর কেজি ৪০-৫০ টাকা, করলা ৬০-৭০, ঢেঁড়শ ৪০, শিম ৪০, পেঁপে ৪০-৫০, মিষ্টিকুমড়া ৩০-৪০, শসা ৪০-৬০, ঝিঙে ও ধুন্দুল ৬০, সজনে ডাঁটা ৮০-১২০, পটল ৫০-৬০, গাজর ৫০, কাঁচামরিচ ১২০-১৪০, বরবটি ৫০ টাকা কেজি।
স্থিতিশীল মাছ-মাংসের দাম
বর্তমানে প্রতিকেজি গরুর মাংস ৭৫০ টাকা, খাসির মাংস ১ হাজার ৫০ থেকে ১ হাজার ১০০ টাকা কেজি।
আগের মতো দামেই রুই, কাতলা, ট্যাংরা, পাবদা মাছ বিক্রি হচ্ছে বলে মাছ বিক্রেতারা জানান। টাউনহল বাজারের আবু তাহের বলেন, রুই ও কাতলা ৩৫০-৫০০ টাকা কেজি, চিংড়ি ৬০০ থেকে ১ হাজার ২০০, পাবদা ৫০০-৭০০, পাঙ্গাশ ২০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।