শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটির দিনে কেরাণীগঞ্জের জিনজিরা, আগানগর এবং রাজধানীর কারওয়ান বাজার ও হাতিরপুল কাঁচাবাজারসহ বেশ কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা যায়, সপ্তাহ ব্যবধানে ব্রয়লার মুরগির দাম বেড়েছে ১০ টাকা, আর ডিমের ডজনে বেড়েছে ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত।
বাজারে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ২২০-২৩০ টাকা, সোনালি মুরগি ৪০০ টাকা, দেশি মুরগি ৭২০-৭৫০ টাকা, সাদা লেয়ার ২৯০ টাকা ও লাল লেয়ার ৩৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া জাতভেদে প্রতি পিস হাঁস বিক্রি হচ্ছে ৬০০-৭০০ টাকায়।
.png)
বিক্রেতারা জানান, গরমে মুরগি মরার প্রভাব পড়েছে বাজারে, যে কারণে দাম বাড়ছে। রাজধানীর কারওয়ান বাজারের কিচেন মার্কেটের মামা ভাগিনা চিকেন ব্রয়লার হাউসের ব্যবসায়ী মো. দিদার হোসেন বলেন, তীব্র গরমে খামারে প্রচুর মুরগি মারা গেছে। এতে বাজারে সরবরাহ সংকট তৈরি হয়েছে। যার ফলে বাড়ছে ব্রয়লার ও সোনালিসহ অন্যান্য মুরগির দাম।
আর কেরাণীগঞ্জের আগানগর বাজারের মুরগি বিক্রেতা রিপন বলেন, বাজারে সোনালি মুরগির সরবরাহে সংকট চলছে, যার কারণে দাম বেড়েছে। গত সপ্তাহ থেকেই প্রতি কেজি সোনালি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩৯০-৪০০ টাকায়, যা সামনে আরো বাড়তে পারে।
এদিকে, ডিমের বাজারেও দেখা দিয়েছে অস্থিরতা। সপ্তাহ ব্যবধানে ডজনে দাম বেড়ে গেছে ২০ টাকা পর্যন্ত। মুরগির প্রতি ডজন লাল ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৪৫ টাকা, আর সাদা ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকায়। আর প্রতি ডজন হাঁসের ডিম ২০০ টাকা ও দেশি মুরগির ডিম ২৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বিক্রেতারা জানান, তীব্র গরমে মরে যাওয়ার হাত থেকে বাঁচাতে অনেকেই আগেভাগে বিক্রি করে দিচ্ছেন মুরগি। এতে ব্যাহত হচ্ছে উৎপাদন ব্যবস্থা। এর প্রভাব পড়ছে ডিমের দামেও।
ক্রেতারা জানান, দিনকে দিন সাধ্যের বাইরে চলে যাচ্ছে ডিম-মুরগির দাম। এখনই দামের লাগাম টেনে না ধরলে ডিম-মুরগি কেনা অসম্ভব হয়ে উঠবে।
ডিম-মুরগির দাম বাড়ার পেছনে সিন্ডিকেটকে দায়ী করে প্রান্তিক খামারিদের সংগঠন বাংলাদেশ পোলট্রি অ্যাসোসিয়েশন (বিপিএ) এর সভাপতি সুমন হাওলাদার বলেন, গরমের তীব্রতা কমার সঙ্গে সঙ্গে প্রান্তিক খামারিদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করে মুরগি ও ডিম উৎপাদনে বিশেষ নজর দিতে হবে। এছাড়া দীর্ঘ মেয়াদে ক্রেতাদের নাগালের বাইরে চলে যেতে পারে এগুলোর বাজার। কারণ ক্ষুদ্র খামারিরা উৎপাদনে না ফিরতে পারলে বাজারে অস্থিরতা আরো বাড়বে।
তিনি আরো বলেন, বড় বড় কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানের সিন্ডিকেটের কারণে ক্ষতির মুখে পড়েছে প্রান্তিক খামারিরা। মূলত তেজগাঁও ডিম ব্যবসায়ী সমিতির নির্দেশে সারাদেশে এর দাম নির্ধারণ হয়। আগের দিন রাতেই মেসেজের মাধ্যমে দাম চলে যায় দেশের ডিম ব্যবসায়ীদের কাছে। সে দাম অনুযায়ী ডিম বিক্রি হয়।
তবে দেশের বাজারে ডিমের বর্তমান দাম যৌক্তিক দাবি করে সুমন বলেন, উৎপাদন খরচ বাড়ায় বেড়ে গেছে ডিম-মুরগির দাম। বর্তমানে যৌক্তিক দামে বিক্রি হচ্ছে। খামারিরা ন্যায্য দাম পাচ্ছেন। তবে এটিকে পুঁজি করে ডিম-মুরগির বাজার অস্থির করে তুলতে পারে অসাধু সিন্ডিকেট। এদিকে সরকারের বিশেষ নজর দিতে হবে। নইলে সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি হয়ে পড়বেন সাধারণ ভোক্তারাও।
এদিকে, বাজারে বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে মাংসও। প্রতি কেজি গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৭৮০-৮০০ টাকায়। এছাড়া প্রতি কেজি খাসির মাংস এক হাজার ৫০ টাকা থেকে এক হাজার ২০০ টাকা।
বিক্রেতারা বলেন, কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে গরু বিক্রি করছেন না খামারিরা। এতে সরবরাহ ঘাটতিতে দাম বেড়ে গেছে গরুর। এ দাম না কমলে মাংসের দাম সামনে আরো বাড়বে।