বৃহস্পতিবার ময়নাতদন্ত শেষে সার্জারি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. জামিল হোসেন এ তথ্য জানান।
তিনি জানান, রিফাতের গলায়, মাথায়, বুকে ও হাতে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। আঘাতগুলোর মধ্যে গলায়, মাথায় ও বুকে তিনটি গুরুতর জখম রয়েছে, বাকি ৩/৪ টি আঘাতের চিহ্ন ততটা গুরুতর নয়।
.png)
তিনি আরো বলেন, বিশেষ করে গলার আঘাতের কারণে বিভিন্ন ধরনের শরীরের গুরুত্বপূর্ণ রগ কেটে গেছে। এর ফলে এতটাই রক্তক্ষরণ হয়েছে, এ জন্য অল্প সময়ের মধ্যেই রিফাত মারা গেছে বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
বিস্তারিত বিষয়গুলো ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে নিশ্চিত করে উল্লেখ করা হবে বলেও জানান ওই চিকিৎসক।
এদিকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজের মর্গ সূত্রে জানা গেছে, ৬ টি আঘাতের (ধারালো অস্ত্রের) চিহ্ন সনাক্ত করা হয়েছে, যার মধ্যে তিনটি গুরুতর।
এর আগে বেলা ১১ টার দিকে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডে নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কমিটি গঠন করে। শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. জামিল হোসেনকে প্রধান করে তিন সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়।
কমিটির বাকি দুই সদস্য হলেন- ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের প্রভাষক ডা. মাইদুল হোসেন ও ডা. সোহেলী আক্তার তন্নী।
এর আগে শেবাচিম হাসপাতালের মরচুয়ারি (লাশ রাখার কক্ষ) থেকে সকাল ১০ টার দিকে নিহত রিফাত শরীফের মরদেহ মর্গে নিয়ে আসা হয়। সেখানে বেলা ১১ টা ১০ মিনিট থেকে পৌনে ১২ টা পর্যন্ত চলে ময়নাতদন্তের কার্যক্রম। ময়নাতদন্ত শেষে নিহত রিফাতের মরদেহ নিয়ে দুপুর ১ টার দিয়ে স্বজনরা সড়কপথে বরগুনার উদ্দেশে যাত্রা করে।
এদিকে বুধবার রিফাতের মৃত্যুর পরপরই বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার এসআই সাইদুল ইসলাম মরদেহের সুরতহাল করেন। সুরতহাল ওই প্রতিবেদনে নিহতের মাথার ওপর কোপের জখম, গলার ডান পাশে লম্বা কোপের জখম (সেলাই করা), বুকের ডান পাশে কাঁধ সংলগ্ন কোপের জখম (সেলাই করা), বামহাতের কনুইয়ের নিচে কোপের জখম এবং বৃদ্ধা আঙ্গুলে কোপের জখমের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
উল্লেখ্য, বুধবার সকালে বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে স্ত্রীর সামনে প্রকাশ্যে কয়েকজন যুবক বরগুনা সদর উপজেলার বুড়িরচর ইউনিয়নের মাইঠা-লবনগোলা এলাকার বাসিন্দা রিফাতকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে জখম করে। বিকেল চারটার দিকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রিফাতের মৃত্যু হয়।
ডেইলি বাংলাদেশ/এমআরকে