ঢাকা,  মঙ্গলবার   ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ জাতীয় ]

শীত-গরমের লুকোচুরি, মৌসুম তুমি কার?

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৫:০৩, ১১ জানুয়ারি ২০২২
শীত-গরমের লুকোচুরি, মৌসুম তুমি কার?
ঢাকায় এবার শীতের দেখা নেই। ছবি : সংগৃহীত

পৌষ মাস এখন যাই যাই করছে। কদিন পরেই শুরু হবে মাঘ। এ সময়টাতে তীব্র শীত অনুভূত হওয়ার কথা। অথচ এখন বসন্তের মতো গরম-গরম ভাব ঢাকায়। দেশের প্রান্তিক গ্রামাঞ্চলে শীত থাকলেও রাজধানীতে দিনে রোদ ও গরম, আর মাঝরাত থেকে ভোর পর্যন্ত হালকা শীত। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন শহরে চলছে শীত-গরমের এমন লুকোচুরি। জনমনে প্রশ্ন জেগেছে- মৌসুম তুমি কার?

ঢাকায় এবার শীতের দেখা নেই। রাতে গ্রামে কিছুটা শীত পড়লেও ঢাকার আবহাওয়া উষ্ণই আছে। নগরীর অনেকের ঘরে রাতের বেলা ঘুরছে পাখা। শুধু ঢাকা নয়, দক্ষিণাঞ্চলের অনেক নগরীর অবস্থা এমনই। ঢাকায় তাপমাত্রা না কমার পেছনে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবকে দায়ী করছেন পরিবেশবিদরা। এ ছাড়াও এর অন্যতম কারণ হিসেবে দায়ী করা হচ্ছে অপরিকল্পিত নগরায়ণকে। গাছপালা-জলাশয় কমে যাওয়া, ঘনবসতি, এসি ব্যবহার ও যান্ত্রিক যানবাহন বেড়ে যাওয়াকেও দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, ঢাকায় শেষ কনকনে শীতের দেখা মিলেছিল ২০১৩ সালে। ওই বছরের ৯ জানুয়ারি সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ৭ দশমিক ২ ডিগ্রি। এরপর ২০১৮ সালের ৮ জানুয়ারি সারাদেশে হাড়কাঁপানো শীত পড়লেও ঢাকার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা হয় ৯ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। কিন্তু বিশাল এই নগরে শীত এবার এর ধারেকাছেও নেই। উত্তরাঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকায় যখন শৈত্যপ্রবাহ চলছিল, তখনও ঢাকায় কনকনে শীত ছিল না।

Advertisement

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পর্যবেক্ষণ বলছে, গত শনিবারের তুলনায় রোববার মধ্যরাত থেকে রাতে তাপমাত্রা ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়ে গেছে। উত্তরাঞ্চলসহ দেশের বেশিরভাগ এলাকায় সোমবার সকাল থেকে দিনে তাপমাত্রা এক লাফে ২ থেকে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বেড়ে গেছে।

আরো পড়ুন : মসজিদে নামাজের বিষয়ে বিধি-নিষেধে যা আছে

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পর্যবেক্ষণ বলছে, গত রোববারের মতো  সোমবারও রাজধানীর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৬ দশমিক ৫ ডিগ্রি ছিল, যা গত পাঁচ বছরের জানুয়ারির ১০ তারিখ পর্যন্ত সময়ের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা। রোববার রাজধানীতে দিনের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি ছিল, যা গত ৪৩ বছরের মধ্যে ৯ জানুয়ারির সবচেয়ে বেশি তাপমাত্রা।

সোমবার দেশের উত্তরাঞ্চলের বেশির ভাগ এলাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১২ থেকে ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত রেকর্ড করা হয়েছে। রোববার যা ছিল ১০ থেকে ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। শ্রীমঙ্গলে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১১ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। রোববার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল কক্সবাজারে ৩১ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

গত পাঁচ বছরের ডিসেম্বর জুড়ে ঢাকার তাপমাত্রার যে হিসেব রয়েছে তাতে দেখা যায়, দিনের তাপমাত্রা ২০ থেকে ২৯ ডিগ্রির মধ্যে ওঠানামা করেছে। রাতে ১১ থেকে ১৯-এর মধ্যে থাকে।

পরিবেশবিদরা বলছেন, বিশ্বজুড়ে উষ্ণতা বৃদ্ধির প্রভাবে বাংলাদেশের তাপমাত্রাও বেড়েছে। তবে দেশের অন্যান্য অংশের তুলনায় ঢাকার তাপমাত্রা কিছুটা বেশি- প্রায় দুই থেকে তিন ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর কারণ এখানে কংক্রিট স্থাপনা বেশি। সে তুলনায় গাছপালা ও জলাশয় কম।

ঘনবসতিপূর্ণ, যানবাহন, শিল্পকারখানা, গাছপালা-জলাশয় কমে যাওয়া এবং জ্বালানির ব্যবহার বেশি হওয়ায় দেশের শহরগুলোকে সাধারণত 'হিট আইল্যান্ড' বলা হয়। একই কারণে ঢাকা, চট্টগ্রামসহ অন্য বড় শহরের তাপমাত্রা খুব একটা কমে না।

আরো পড়ুন : উন্মুক্ত স্থানে সভা-সমাবেশ, ধর্মীয় অনুষ্ঠান বন্ধ

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, পৌষ মাসে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০ থেকে ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করে থাকে। সর্বোচ্চ তাপমাত্রা থাকে ২২ থেকে ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তাই দেশের উত্তর ও মধ্যাঞ্চলে শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যায়। এবার পৌষ মাসে প্রকৃতির বৈরী আচরণ লক্ষ্য করা গেছে। বায়ুর আচরণে পরিবর্তন ঘটেছে।

আবহাওয়াবিদরা বলছেন, এ বছর জানুয়ারিতে আকাশে মেঘের আনাগোনা বেশি ছিল। যে কারণে পুরোদমে শীত নামতে পারছে না। ভূমধ্যসাগর পেরিয়ে আসা মেঘের দল উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল দিয়ে দেশের সীমানায় প্রবেশ করেছে। ওই পথ দিয়ে শীতের হিমেল বাতাস এত দিন দেশে প্রবেশ করছিল। মেঘ এসে ওই পথে বাধার প্রাচীর তৈরি করেছে। ফলে শীতের ঠান্ডা বাতাস দেশের ভেতরে প্রবেশ করতে পারছে না। এতে তাপমাত্রা দ্রুত বাড়তে শুরু করেছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্র বলছে, মঙ্গলবার থেকে দেশের বেশির ভাগ এলাকায় মেঘ এসে পড়বে। ফলে রোদের দাপট কমে দিনের তাপমাত্রা কিছুটা কমতে পারে। বৃষ্টি চলে গেলে কিছুটা ঠান্ডা বাতাসও এর সঙ্গে যোগ দেবে। ফলে মধ্যরাত থেকে ভোর পর্যন্ত ঠান্ডার অনুভূতি বেড়ে যেতে পারে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/কেবি
ট্যাগ: আবহাওয়া
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!