ঢাকা,  মঙ্গলবার   ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ জাতীয় ]

রাজধানীতে নার্সারি ব্যবসায় ‘সবুজ কার্ড’

সজীবুল ইসলাম
প্রকাশিত: ১৪:৩৯, ২ এপ্রিল ২০২৩
রাজধানীতে নার্সারি ব্যবসায় ‘সবুজ কার্ড’
গ্রাফিক্স: ডেইলি বাংলাদেশ

নীরবে বাড়ছে সবুজ-সৌন্দর্যবর্ধক নার্সারি ব্যবসা। রাজধানীর পথে পথে দেখা মিলছে গাছগাছালি বিক্রির দোকান। বর্ষাকালকে সামনে রেখে বেড়েছে বেচা-বিক্রিও।

শ্যামলশোভা বাড়াতে বাসাবাড়ির বেলকুনি, ঘর, অফিস ও ছাদ সাজাতে মানুষের এখন প্রথম পছন্দেই থাকে গাছ। এমনকি সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক, সরকারিসহ বিভিন্ন ধরনের অনুষ্ঠানেও বেড়েছে সৌন্দর্যবর্ধক গাছের ব্যবহার। অল্প পুঁজি দিয়ে শুরু করা যায়, এছাড়া লাভজনক হওয়াই দিন দিন বাড়ছে এর ব্যবসা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঢাকা সিটি কর্পোরেশন এলাকায় নার্সারি আছে প্রায় ৩০০টি। অধিকাংশ নার্সারি ঢাকার মিরপুর, আগারগাঁও, তিনশ’ ফুট, একশ’ ফুট, দিয়াবাড়ী, দোয়েল চত্বর, বেইলি রোড ও কাকরাইল এলাকায়। এছাড়া বিক্ষিপ্তভাবে বেশ কিছু নার্সারি আছে ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুরেও। 

Advertisement

এর সঙ্গে গাছ পরিচর্যার বিভিন্ন উপকরণ ও যন্ত্রপাতির ব্যবসাও হয় নার্সারি। সব মিলিয়ে এই খাতে প্রতিবছর বাণিজ্য হয় কয়েকশ’ কোটি টাকার।

রাজধানীর পথে পথে গড়ে উঠছে নার্সারি

সরেজমিনে ঘুরে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলাপ করেন এই প্রতিবেদক। আলাপে উঠে এসছে, ছোট আকারের একটি নার্সারিতে দৈনিক গড়ে ৪ হাজার টাকা বিক্রি হয়। মাঝারি নার্সারিতে ৮ হাজার টাকা। আর বড় নার্সারিতে ৩০ হাজার টাকার বেশি গাছ বিক্রি হয়। 

সব মিলিয়ে ঢাকার প্রায় ৩০০ নার্সারিতে দৈনিক গড়ে ৪০ লাখ টাকা বেচা-বিক্রি হয়, যা বছরে প্রায় ২০০ কোটি টাকা।

আগারগাঁওয়ের এক নার্সারির বিক্রয়কর্মী হুসেইন মোহাম্মদ। তিনি জানান, বর্ষাকাল গাছ লাগানোর মৌসুম। এই মৌসুমকে কেন্দ্র করে আমরা আগে থেকেই বিভিন্ন ধরনের গাছ বাড়ায়। এবার বিদেশি অনেক গাছ এনেছি। 

তিনি আরো বলেন, এখন মানুষ রোজা রেখে বের হচ্ছে কম। ঈদের আগে বিক্রি আরো বাড়বে। আমাদের মাঝারি ধরনের নার্সারি। তাও প্রতিদিন গড়ে ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।

রাজধানীতে বেড়েছে নার্সারি ব্যবসা

সেখানকার আরেকটি নার্সারি সবুজ বাংলা। কথা হয় এর ব্যবস্থাপক মামুন আহমেদের সঙ্গে। তিনি জানান, মানুষ এখন অনেক বেশি গাছ লাগায়। প্রতিদিন ২০ থেকে ২৫ ট্রাক গাছ ও চারা আনা হয় তার নার্সারিতে। এসবের বেশির ভাগই বিক্রি হয়ে যায়। 

কোন ধরনের গাছের চাহিদা বেশি জানতে চাইলে তিনি ফল, ফুল, সবজি ও ইনডোর সজ্জায় ভাগ করেন। ফলের ক্ষেত্রে বলেন, আম, আমড়া, বরই, লেবু, কামরাঙা, মাল্টা, কতবেল, পেয়ারা, আমলকী, চেরি, ইত্যাদি গাছ ভালো বিক্রি হয়। 

‘ফুলের মধ্যে গোলাপের চাহিদাই সবচেয়ে বেশি পছন্দ ক্রেতাদের। সেই সঙ্গে কাঠগোলাপ, হাসনাহেনা, বেলি, জুঁই, জবা, চামেলি, ডালিয়া, চন্দ্রমল্লিকা, জারবেরা, কসমস, পিটুনিয়া বেশি জনপ্রিয়।’

বর্ষাকালকে সামনে রেখে নার্সারিতে বেড়েছে বেচাকেনা

সবজিজাতীয় উদ্ভিদের মধ্যে অ্যালোবেরা, মরিচ, টমেটো, ঢ্যাঁড়স ও পুদিনার চাহিদা বেশি বলে জানান তিনি। আকারভেদে এসব গাছের দাম ৫০ টাকা থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে।

ঘরসজ্জার ক্ষেত্রে মামুন আহমেদ বলেন, এক্ষেত্রে খরচ বেশি পড়ে। আকার ও প্রজাতিভেদে এসব গাছের একেকটির দাম আড়াইশ’ থেকে এক হাজার টাকা। তবে বনসাই ১৫ হাজার থেকে ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত পড়ে। দেশি গাছের পাশাপাশি বিদেশি গাছও বিক্রি করি। ভারত, ইতালি ও থাইল্যান্ড থেকে গাছের চারা আনা হয় বেশি।

ইনডোরের জন্য কোন গাছের চাহিদা বেশি জানতে চাইলে তিনি বলেন, ক্যাকটাস, অর্কিড, সাকুল্যান্ট, বিভিন্ন বনসাই, পাইকাস, মনস্টেরা, মানিপ্ল্যান্ট, বিভিন্ন প্রজাতির ফার্ন, এরিকা পাম, অগ্নিশ্বর, অ্যাগলোনিমা ইত্যাদির চাহিদা বেশি।

বর্ষাকালকে সামনে রেখে নার্সারিতে বেড়েছে বেচাকেনা

এ সময় কথা হয় মোহাম্মদ আলী নামে এক ক্রেতার সঙ্গে। তিনি বাসার ইনডোর সাজাতে ক্যাকটাস, অর্কিড ও পাইকাস গাছ কিনেছেন। তবে তাকে আলাদা করে টব ও পাথর কিনতে দেখা যায়। জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি গাছ কিনেছি। এখন পছন্দ মতো টব কিনছি। তাই আলাদা দাম দিতে হচ্ছে। আকার ভেদে এটি ২৫০ টাকাও আছে। আমি মাঝারি সাইজের ২০০ টাকারগুলো কিনছি। পাথরও কিনেছি, প্রতি প্যাকেট ৫০ টাকা করে। এগুলো টবের উপরে দিবো। এতে সৌন্দর্য বাড়ে, এছাড়া মাটিও কম ক্ষয় হয়।

গাছ পরিচর্যার জন্য অনেক যন্ত্রপাতিসহ বীজ, সার, মাটি ও বিভিন্ন পুষ্টি উপাদানসহ নানা কৃষি উপকরণের প্রয়োজন হয়। এ বিষয়ে সবুজ বাংলার নার্সারি ব্যবস্থাপক মামুন জানান, বাগান তৈরিতে মাটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ। তারা ঢাকার আশপাশ থেকে মাটি কিনে আনেন। এরপর তাতে গোবর মেশান। সব ধরনের গোবর ভালো সার হয় না। তাই গোবরও দেখেশুনে কিনতে হয়। গোবর মেশানো এক ব্যাগ মাটি বিক্রি করেন ৮০ টাকায়। আবার অনেক সময় মাটিতে টিএসপি, পটাশের মতো রাসায়নিক সারও মেশাতে হয়। ক্রেতার চাহিদা অনুযায়ী তা করা হয়ে থাকে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমএস
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!