ঢাকা,  মঙ্গলবার   ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ জাতীয় ]

বাল্যবিবাহ কমেছে ৫০ শতাংশ

ডেইলি-বাংলাদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত: ২০:১৪, ১১ এপ্রিল ২০২৩
বাল্যবিবাহ কমেছে ৫০ শতাংশ
ফাইল ফটো

আজকে বাংলাদেশের ডেমোগ্রাফিক এবং হেলথ সার্ভে ২০২২ এর প্রাথমিক ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে উপস্থাপন করা হলো। আগামীকালের খবরের কাগজগুলোতে এর বিস্তারিত জানা যাবে। উপস্থাপনায় গর্ব করার মতো বা ভালো লাগবে- এমন কয়েকটি অগ্রগতি দেখেছি; আবার কয়েকটি বিষয় উঠে এসেছে চিন্তিত হবার মতো। 

বাল্যবিবাহ কমে আসছে, কিন্তু এখনো ৫০% মেয়ের বিয়ে ১৮ বছরের আগেই হয়ে যাচ্ছে।

বাংলাদেশে ফার্টিলিটি এক যুগ ধরে ২.৩-এ আটকে আছে। সিলেট বিভাগের লোকজন গর্ব করতে পারে কারণ সিলেট বিভাগে অনেকদিন পরে ফার্টিলিটি কমেছে; কিন্তু খুলনা এবং রংপুর বিভাগে ফার্টিলিটি বেড়েছে এবং ময়মনসিংহ বিভাগে অনেক বেড়েছে। কি হচ্ছে এসব জায়গায়? জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রীর অধিকাংশটাই (৬০%) প্রাইভেট সেক্টর সরবরাহ করছে; সম্ভবত সোশ্যাল মার্কেটিং কোম্পানির জয়জয়কার। গর্ভকালীন স্বাস্থ্য পরিচর্যার হার অনেক বেড়েছে (৮৮%); কিন্তু গর্ভাবস্থায় চারবার পরীক্ষা করার হার আগের চেয়ে কমেছে; গুনগত মানও অনেক কম। উদ্বেগের বিষয় যে সরকারের অনেক বিনিয়োগের পরেও স্কিল্ড বার্থ এটেন্ডেন্টরা প্রসব করানোর ক্ষেত্রে গৌন ভূমিকা পালন করছেন। বরং ডাক্তার হাতেই এখন বেশিরভাগ প্রসব হচ্ছে। ৩৫% প্রসব বাড়িতে হচ্ছে; আর বাকি ৬৫%ই হচ্ছে কোনো না কোনো স্বাস্থ্য স্থাপনায় মানে সরকারি বা বেসরকারি ক্লিনিক বা হাসপাতালে। প্রাইভেট ক্লিনিক বা হাসপাতাল যেখানে মোট গর্ভবতী মায়েদের প্রায় অর্ধেক (৪৫%) যায়; সেখানে গেলেই হলো-  প্রতি পাঁচজনের চারজনকেই সিজারিয়ান অপারেশন করে দেবে তারা। ২০২২ সালে ১৬ লাখ গর্ভবতী মা গিয়েছিল প্রাইভেট ক্লিনিকে বা হাসপাতালে; তাদের মধ্যে ১৩.৫৩ লাখ মায়েরই সিজারিয়ান অপারেশন হয়েছে। এই হার পৃথিবীতে সর্বোচ্চ; কোনো যুক্তিতেই গ্রহণযোগ্য না; স্রেফ পয়সা কামানোর ধান্দা। 

Advertisement

খুবই আনন্দের খবর যে শিশু মৃত্যুহার ক্রমান্বয়ে কমেছে (৩১/১০০০); আগের বারের চাইতে এবার অনেক দ্রুত কমেছে। তবে উদ্বেগের বিষয় যে নিউমোনিয়া এখনো শীর্ষ কারণ; গর্ভস্থ অপুষ্টি ও অপরিণত শিশু এবং জন্মকালীন শ্বাসরোধ হলো দ্বিতীয় ও তৃতীয় শীর্ষ কারণ। তিনটি কারণই প্রতিরোধযোগ্য।

শিশুদের পুষ্টির বেলায় আনন্দের খবর হলো খর্বতা ক্রমান্বয়ে কমছে (২৪%), আগের চেয়ে এবার বেশ দ্রুত কমেছে, কিন্তু কম ওজনের শিশুর হার আগের বারের ৮% থেকে বেড়ে ১১%-এ এসেছে।  এর একটা সম্ভাব্য কারণ সাম্প্রতিক কালের কষ্ট কিনা তা খোজ নেয়া দরকার। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো মায়েদের শিশুদেরকে বুকের দুধ খাওয়ানোর হার আগের বারের ৬৫% থেকে ৫৫% তে কমে যাওয়া। এর কারণ অতিদ্রুত অনুসন্ধান করতে হবে। শিশুদেরকে অল্প অল্প করে বারবার খাওয়ানোর হার আগের চাইতে কমে এসেছে, যা উদ্বেগের কারণ। আরেকটি নতুন তথ্য বলছে- প্রায় এক-তৃতীয়াংশ শিশুকেই আজেবাজে খাবার খাওয়ানোর কারণে শিশুদের পেট ভরা থাকছে, ফলে প্রয়োজনীয় খাবার কম খাচ্ছে। তার মানে পুষ্টি খাতে শিশুদের খাদ্যাভ্যাসে মায়েদের জানাবার ও উদ্দীপ্ত করার অনেক বিষয় হাতে নিতে হবে। বিশেষ করে বুকের দুধ খাওয়ানোর অর্জনকে কোনোভাবেই বিসর্জন দেওয়া যাবে না। পিছিয়ে পড়েছি তো কি হয়েছে, আবার নতুন করে শুরু করতে হবে।  

এই সমীক্ষার ফলাফল থেকে আমরা সবাই যা নিয়ে গর্ব করতে পারবো- তা হলো দেশে শিশুমৃত্যু হ্রাস, অপুষ্টি হ্রাসে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি। আমাদের এসডিজির গাড়ি ট্র্যাকে ফিরে এসেছে; সময়মতো গন্তব্যেও পৌঁছাবে বলে আশা করা যায়। আর যা নিয়ে উদ্বেগ হওয়া উচিৎ, দ্রুত কাজ করা উচিৎ তা হলো-  মায়েদের শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানোর হার কমে যাওয়া এবং মায়েদের অযথা সিজারিয়ান অপারেশনের হার থেকে বাঁচানো; আর শিশুদের খাদ্যাভ্যাসে স্বাস্থ্যকর পরিবর্তন আনা। 

তিনটি ব্যক্তিগত অনুভূতির কথা বলে শেষ করি।

ডেমোগ্রাফিক অ্যান্ড হেলথ সার্ভে অত্যন্ত বিশ্বাসযোগ্য এবং নির্ভরশীল সার্ভে। বছরের পর বছর ধরে মিত্র অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটস এই সার্ভের কাজ বিশ্বাসযোগ্যতার সঙ্গে করে আসছেন; এর পেছনের মানুষ আমাদের মিত্র দা। তাকে আমার অভিবাদন! তাকে নিয়ে আমি আরেকপ্রস্থ লিখবো।

দ্বিতীয়ত- এর প্রচ্ছদগুলো সব সময় খুব ব্যতিক্রমী এবং বাংলাদেশ কেন্দ্রিক হয়; কখনো জামদানির মোটিফ এবার টেরাকোটা। জানিনা তিনিই করতেন কিনা; আমি আজ কান্তা জামিলের অনুপস্থিতি টের পাচ্ছিলাম।  

এই সার্ভের ফলাফলের জন্য আমরা জনস্বাস্থ্যর পেশাজীবিরা অপেক্ষা করি। এই সার্ভে আগে উপস্থাপন করতেন সাবির ভাইসহ জাদরেল সব লোকজন, নিকট অতীতে আমাদের আন্তর্জাতিক বিজ্ঞানী বন্ধুরা যাদের অন্যতম শামস, ইশতিয়াক প্রমুখ। আজকে ফলাফল উপস্থাপন করলো আইসিডিডিআরবির এক ঝাক তরুণ বিজ্ঞানী- মইনুল, সুস্মিতা, মীনা এবং এহসান।  চমৎকার লেগেছে সবার উপস্থাপনা। প্রশ্নোত্তর পর্বে এহসান যেভাবে সব সামাল দিল তাতে ভালোলাগায় ভেতরটা ভরে এলো।  যোগ্য নেতৃত্ব তৈরি হচ্ছে।

নিপোর্ট, মিত্র অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটস, আইসিডিডিআরবি এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা।

খাইরুল ইসলামের ফেসবুক পোস্ট থেকে নেয়া।

ডেইলি-বাংলাদেশ/আরএইচ
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!