শুক্রবার (৫মে) সন্ধ্যা সোয়া ৬ টার দিকে দেশে ফিরে এসেছে তারা।
জানা যায়, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে টেকনাফ ট্রানজিট ঘাট দিয়ে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে ২৪নং লেদা রোহিঙ্গা ক্যাম্পের চারজন, ২৬নং শালবাগান ক্যাম্পের ১৪জন এবং ২৭নং জাদিমোড়া ক্যাম্পের ২জনসহ মোট ২৭ সদস্যের প্রতিনিধি দল মিয়ানমারের মংডুর উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। সেখানে পৌঁছার পর মিয়ানমার প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সাক্ষাত করে প্রত্যাবাসন পরিবেশ পরিস্থিতি স্বরূপ রোহিঙ্গাদের জন্য তৈরিকৃত শেল্টারসমূহ পরিদর্শন শেষে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল সন্ধ্যা সোয়া ৬ টার দিকে দেশে ফিরে আসে।
.png)
মূলত রোহিঙ্গাদের স্বদেশ প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শীঘ্রই শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের পরিবেশ প্রত্যাবাসন উপযোগী কি না, মিয়ানমার সরকার কর্তৃক রোহিঙ্গাদের জন্য নির্মাণ করা শেল্টার পরিদর্শন এবং সে দেশের পরিবেশ-পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পর সন্ধ্যায় ফিরে এসে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে সফরের বিস্তারিত জানান। তিনি এই পরিবেশ পরিস্থিতি সন্তোষ প্রকাশ করলেও প্রতিনিধি দলের কয়েকজন রোহিঙ্গা সদস্য সরাসরি আগে ফেলে আসা তাদের বসত-বাড়িতে অবস্থানের পক্ষে মতামত প্রকাশ করেন। তবে বাংলাদেশ-মিয়ানমার প্রত্যাবাসন চুক্তি অনুযায়ী রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন হবে স্বেচ্ছায়, নিরাপদে এবং মর্যাদার সঙ্গে। কোন রোহিঙ্গাকে জোর করে প্রত্যাবাসন করা হবে না।
এদিকে চীনের কূটনৈতিক তৎপরতায় প্রত্যাবাসন শুরুর চেষ্টা চলছে। এরই অংশ হিসেবে গত ১৫ মার্চ মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মংডু আঞ্চলিক পরিচালক অং মা ইউয়ের নেতৃত্বে ১৭ সদস্যর প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ সফরে আসে। তখন সাত দিনে ১৪৭টি পরিবারের প্রায় ৫০০ রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ ও শিশুদের তথ্য যাচাই শেষে স্বদেশ ফিরে যান। মিয়ানমারের প্রতিনিধি দলের যাচাই-বাছাই করা ১ হাজার ১৭৬জন রোহিঙ্গাকে পাইলট প্রকল্পের আওতায় স্বদেশ প্রত্যাবাসনের প্রচেষ্টা চলছে।
প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট মিয়ানমারে সেনা অভিযান এবং রাখাইন প্রদেশে গণহত্যায় নির্যাতন-নিপীড়নের শিকার হয়ে লাখ লাখ রোহিঙ্গা প্রাণ রক্ষার্থে বাংলাদেশে পালিয়ে এসে আশ্রয় নেয়। এরপর ২০১৮ সালের ১৫ নভেম্বর রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের প্রথম সময়সীমা ঠিক হলেও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় রাখাইনে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি হয়নি বলে দাবি করায় সেই উদ্যোগ ব্যর্থ হয়।
২০১৯ সালের ২২ আগস্ট বাংলাদেশ দ্বিতীয়বারের মতো প্রত্যাবাসনের উদ্যোগ নিলেও এখন পর্যন্ত কোন অগ্রগতি হয়নি। তৃতীয়বারের মতো বিশাল রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে স্বদেশ প্রত্যাবাসনের জন্য এই প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।