জানা গেছে, বেক্সিমকো ফার্মা, ওরিয়ন ফার্মা, লিব্রা ইনফিউশন, পপুলার ফার্মা, অপসো স্যালাইনের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো স্যালাইন উৎপাদন করে থাকে। এর মধ্যে ওরিয়ন ফার্মা সরকারি হাসপাতালে স্যালাইন সরবরাহ করছে। বেসরকারি হাসপাতালগুলো পপুলার, বেক্সিমকো ফার্মা থেকে কিছু কিছু স্যালাইন পাচ্ছে।
সরেজমিন রাজধানীর মিরপুর, উত্তরা, মহাখালী, গুলশান, বাড্ডা এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, সাধারণ ফার্মেসিতে আইভি ফ্লুইড স্যালাইন পাওয়া যাচ্ছে না। বেশিরভাগ মানুষই স্যালাইন কিনতে এসে না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন। পেলেও দিগুণ দামে কিনতে হচ্ছে। তবে হাসপাতালের ফার্মেসিতে স্যালাইনের সরবরাহ কম থাকলেও নির্ধারিত মূল্যে পাওয়া যাচ্ছে।
.png)
রাজধানীর উত্তরা আধুনিক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ফার্মেসিতে স্যালাইন কিনতে আসেন তানভীর চৌধুরী। তিনি জানান, তার ছোট ভাই ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত। বাসায় থেকেই চিকিৎসা নিচ্ছে। আগের তুলনায় সুস্থ। প্লাটিলেট আগের তুলনায় বাড়ছে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শে স্যালাইন দিতে হচ্ছে। অনেক চেষ্টা করেও আশপাশের ফার্মেসিতে স্যালাইন পাওয়া যায়নি। অনেক ঘুরে হাসপাতালের এক ফার্মেসিতে স্যালাইন পেয়েছি।
উত্তরা আধুনিক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পাশে অবস্থিত আব্দুল্লাহ ফার্মার স্বত্বাধিকারী মো. সবুজ উদ্দীন বলেন, কোম্পানিগুলো সরবরাহ করতে পারছে না। চাহিদা থাকলেও পর্যাপ্ত জোগান নেই। অনেক সময় ইমারজেন্সি রোগীদের জন্য অনেক চেষ্টার পর এক-দুই ব্যাগ স্যালাইন কোনোরকমভাবে সংগ্রহ করা সম্ভব হচ্ছে।
উত্তরা আধুনিক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অনেক ডেঙ্গুরোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন। বর্তমানে ২০ জনেরও বেশি ডেঙ্গুরোগী সেখানে ভর্তি। হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের ঠিকমতো স্যালাইন দেওয়া সম্ভব হচ্ছে কি না জানতে চাইলে হাসপাতালের ম্যানেজার নজরুল ইসলাম বলেন, আমরা কোম্পানিগুলো থেকে পেয়ে থাকি। কম পেলেও হাসপাতালে রোগীদের জন্য সংকট নেই। আমরা নির্ধারিত দামেই কোম্পানি থেকে নিচ্ছি।
উত্তরার জসিমউদদীনে মহিলা মেডিকেলের ফার্মেসিতে গিয়েও একই চিত্র দেখা যায়। কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ডেঙ্গুরোগী ভর্তি হলে কোনোরকমে স্যালাইন ব্যবস্থা করে দিতে হচ্ছে। কিন্তু সরবরাহকারী কোম্পানিগুলোর কাছে ৪০০ স্যালাইনের চাহিদা দেওয়া হলে পাওয়া যায় মাত্র ৩০টি। কোম্পানিগুলো স্যালাইন সরবরাহ করতে পারছে না।

মিরপুর ও মহাখালী এলাকার ফার্মেসি ঘুরেও স্যালাইন সংকট পাওয়া গেছে। তবে মিরপুরের আলোক হাসপাতালের পাশে অবস্থিত একটি ফার্মেসিতে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সেখানে ৫টি স্যালাইন আছে। দোকান কর্মচারী জানান, আমরা অনেক চেষ্টা করে কোম্পানির কাছ থেকে এক কার্টন স্যালাইন কিনতে পেরেছি। তা দিয়েই চলছি। ৮০ টাকার স্যালাইন কিনেছি ২২০ টাকা করে।
জানা গেছে, ঐ ফার্মেসি ৮০ টাকার স্যালাইন ২২০ টাকায় কিনছে। আবার বিক্রি করছে সরকার নির্ধারিত দর ৮০ টাকায়। এক্ষেত্রে তারা লোকশানে বিক্রি করছে। কিন্তু অন্য সরঞ্জাম বিক্রির মধ্যে এই লোকশান তারা পুষিয়ে নিচ্ছে।
ঐ দোকান কর্মচারী বলেন, কারখানা থেকে ডিপোতেই স্যালাইন কম আসছে। কোম্পানিগুলো সরকারি হাসপাতালগুলোতে সরবরাহ করছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন ফার্মেসি কর্মচারী বলেন, কিছু কিছু প্রতিষ্ঠান সরকারি হাসপাতালগুলো থেকে বেশি দামে স্যালাইন সংগ্রহ করে বেশি দামে বিক্রি করছে। অনেক কোম্পানি ফার্মেসিতে স্যালাইন না দিয়ে হাসপাতালে দিচ্ছে। কারণ, সেখানে ক্রিটিকাল রোগী ভর্তি থাকে। তাদের জন্য এ স্যালাইন বেশি জরুরি।
তারা আরো জানান, কিছু ব্যবসায়ী বিভিন্ন পন্থা অবলম্বন করে স্যালাইন সংগ্রহ করে তা খুচরা দোকানিদের কাছে বেশি দামে বিক্রি করেন। পরে খুচরা পর্যায়েও বেশি দাম রাখা হচ্ছে।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সেখানে স্যালাইন সংকট নেই। ভর্তি রোগীরা ঠিকমতো স্যালাইন পাচ্ছেন। ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান এসেনশিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেড (ইডিসিএল) বিভিন্ন কোম্পানি থেকে স্যালাইন সংগ্রহ করে সরকারি হাসপাতালে সরবরাহ করছে।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের মহাপরিচালক এ এইচ এম সফিকুজ্জামান বলেন, এমনিতে স্যালাইনের সংকট নেই। কোম্পানিগুলো ২৪ ঘণ্টা উৎপাদন করছে। সারাদেশে ডেঙ্গুরোগী বেড়ে যাওয়ায় মূল্যবৃদ্ধিসহ স্যালাইনের কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হয়েছে। এক্ষেত্রে
এ বিষয়ে ঔষধ প্রশাসন অধিদফতরের পরিচালক আশরাফ উদ্দিন বলেন, স্যালাইন সংকট হওয়ার কথা নয়। কিছু অসাধু ব্যবসায়ী কৃত্রিম সংকট তৈরি করতে পারে। দেশের বিভিন্ন জায়গায় আমাদের অভিযান চলছে। যারা এমনটি করছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।