দালালদের শাস্তির আওতায় আনতে আইন হয়েছে: প্রবাসীকল্যাণ সচিব
প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব রুহুল আমিন বলেছেন, দেশে বিদেশগামী কর্মী সংগ্রহ করা হয় দালালদের মাধ্যমে। তাদের খপ্পরে পড়ে অনেকে সর্বস্বান্ত হয়ে গেছেন। বিগত সময় এসব প্রতারক মিডলম্যানদের জন্য কোনো শাস্তির ব্যবস্থা ছিল না। সম্প্রতি এদের শাস্তির আওতায় আনতে আইন করা হয়েছে। আমরা বিদেশগামী ও প্রত্যাগতদের সেবার জন্য ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত আমাদের সেবা নিশ্চিতে কাজ শুরু করেছি।
বৃহস্পতিবার রংপুর আরডিআরএস বেগম রোকেয়া মিলনায়তনে প্রত্যাগত অভিবাসী কর্মীদের সুরক্ষা কার্যক্রমে অংশীজনদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
সচিব বলেন, দেশে রিক্রুটিং প্রক্রিয়ার প্রাতিষ্ঠানিক কোনো কাঠামো নেই। রিক্রুটিং এজেন্টরা মিডলম্যান বা দালালের মাধ্যমে বিদেশগামী কর্মী সংগ্রহ করে। আমরা চেষ্টা করছি বিদেশে যেতে ইচ্ছুক মানুষেরা যেন সরাসরি রিক্রুটিং এজেন্সি কিংবা নিয়োগকারী কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। এছাড়া দেশে দক্ষ জনবলের ডাটাবেজের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে যারা বিদেশে কর্মী পাঠাতে চায়, তারা সরাসরি সেই ডাটাবেজ থেকে কর্মী সংগ্রহ করতে পারবে।
তিনি বলেন, দক্ষ জনবল বিদেশে পাঠাতে বিনামূল্যে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছে সরকার। এতে করে বিদেশে গিয়ে প্রবাসীরা ভালো বেতন-ভাতায় কাজ করতে পারবে। তাই জেলা-উপজেলা পর্যায়ে কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নির্মাণের মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ে দক্ষ জনবল তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা সাধারণ জ্ঞানের পাশাপাশি যেকোনো একটি কারিগরি ট্রেডে প্রশিক্ষিত হয়ে দেশের জনসম্পদে রূপান্তর হবে। প্রত্যেকে আত্মনির্ভরশীল হয়ে উঠবে।
মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন, রংপুর বিভাগীয় কমিশনার হাবিবুর রহমান, রাইসা প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক সুরেন্দ্র নাথ সাহা, সহকারী পরিচালক নাজমুল হক, ইন্টারন্যাশনাল অরগানাইজেশন ফর মাইগ্রেশন-আইওএম-এর সিনিয়র স্পেশালিস্ট নাসরিন জাহান, আইওএমের চিফ অব মিশন আব্দুস সাত্তার ইসোভ, রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার আবু বকর সিদ্দিকী, রংপুর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোবাশ্বের হাসান।