এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে রোববার চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ এলাকায় কেএসআরএমের কর্পোরেট কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে জাহাজের মালিকপক্ষ। এতে কথা বলেন কেএসআরএমের মালিকানাধীন এসআর শিপিংয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মেহেরুল করিম।
তিনি বলেন, ১৩ বছর আগে আমাদের মালিকানাধীন এমভি জাহান মণি দস্যুদের কবলে পড়েছিল। তখন আমাদের জ্ঞানের অভাব ছিল। এ কারণে ঐ জাহাজ উদ্ধারে বেশি সময় লেগেছিল। এমভি আব্দুল্লাহর ক্ষেত্রে আমরা অতীত অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে যেটা যেভাবে করা দরকার সেভাবে করেছি। জাহাজটা ওরা নিয়ন্ত্রণে নিয়ে প্রথমে সোমালিয়ার উপকূলে নিয়ে যায়। এরপর থেকে জাহাজে থাকা যন্ত্রের মাধ্যমে আজ পর্যন্ত আমরা সব লোকেশন ট্র্যাক করতে পারি। দস্যুদের কমান্ডারের সহকারী ইংরেজিতে কথা বলতে পারতেন। শুরুতে তার সঙ্গে আমাদের কথা হয়। প্রথম দিনে আমরা মোটামুটি একটা সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলি, তাদের পক্ষ থেকে কে যোগাযোগ করবে এবং আমাদের পক্ষ থেকে কে যোগাযোগ করবে। এরপর প্রতিদিন ওদের সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে। কথার মূল উদ্দেশ্য ছিল নাবিকরা কেমন আছে এবং কত তাড়াতাড়ি আমরা মুক্ত করতে পারবো?
.png)
মেহেরুল করিম আরো বলেন, যেহেতু আমরা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে জাহাজ পরিচালনা করি সেহেতু সবকিছু আমাদের আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনে কাজ করতে হয়। এক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের অর্গানাইজেশনের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ মেইনটেইন করতে হয়েছে। প্রতিদিন আমাদের সঙ্গে কথা হতো জুমে এবং টেলিফোনে। আমরা আমাদের প্রস্তাবগুলো একজন আরেকজনের সঙ্গে শেয়ার করতাম। এভাবে আমরা পুরো প্রক্রিয়াটি এগিয়ে নেই।
এর আগে, ১২ মার্চ দুপুরে কেএসআরএমের মালিকানাধীন এসআর শিপিংয়ের জাহাজটি জিম্মি করে সোমালিয়ান দস্যুরা। সেখানে থাকা ২৩ নাবিককে একটি কেবিনে আটকে রাখা হয়। আটকের পর জাহাজটিকে সোমালিয়ার উপকূলে নিয়ে যাওয়া হয়।
৫৮ হাজার মেট্রিক টন কয়লা নিয়ে গত ৪ মার্চ আফ্রিকার মোজাম্বিকের মাপুটো বন্দর থেকে যাত্রা শুরু করে এমভি আবদুল্লাহ। ১৯ মার্চ সেটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের হারমিয়া বন্দরে পৌঁছানোর কথা ছিল।