ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ জাতীয় ]

সিভিল এভিয়েশনের পরিচালকসহ ২ কর্মকর্তার নামে কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২১:১৫, ২০ এপ্রিল ২০২৪
সিভিল এভিয়েশনের পরিচালকসহ ২ কর্মকর্তার নামে কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ
ফাইল ফটো

প্রশিক্ষণ কোর্সের নামে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সিভিল এভিয়েশন একাডেমির পরিচালকসহ দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ অভিযোগ দুর্নীতি দমন কমিশনেও (দুদক) জমা পড়েছে।

সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্তরা আত্মসাতের টাকা দিয়ে রাজধানীতে বিপুল সম্পদ গড়েছে। এর মধ্যে উত্তরায় আবাসিক এলাকায় ফ্ল্যাট ও নিজস্ব গাড়ি কেনার অভিযোগও দুদকে রয়েছে। এ নিয়ে দুদকের চিঠি পেয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে বেবিচককে নির্দেশও দিয়েছে। 

অভিযোগ ওঠা দুই কর্মকর্তা হলেন- সিভিল এভিয়েশন একাডেমির পরিচালক প্রশান্ত কুমার চক্রবর্তী ও সাবেক প্রশাসনিক কর্মকর্তা মামুনুর রশিদ। 

Advertisement

বেবিচক কর্মকর্তারা জানান, ঐ দুই কর্মকর্তার বিষয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব অনুপ কুমার তালুকদার বেবিচক চেয়ারম্যানকে চিঠি দিয়েছেন। চিঠিতে প্রশিক্ষণের নামে কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। আগামী ২৫ এপ্রিল মন্ত্রণালয়কে এ বিষয়ে জানাতে নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। 

অভিযোগ থেকে জানা যায়, বেবিচকের ট্রেনিং একাডেমিতে সিএফআর, সিএনএস ইঞ্জিনিয়ারিং, অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ, এভিয়েশন সিকিউরিটি কোর্সের মতো একাধিক প্রশিক্ষণ কোর্স রয়েছে। চার দিন থেকে ৩০ দিন পর্যন্ত এসব কোর্সপ্রতি সর্বনিম্ন ৫০ হাজার থেকে চার লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়। পরিচালক প্রশান্ত কুমার গত দুই অর্থবছরে এমন অন্তত ৩৫০টি কোর্সের ব্যবস্থা করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। 

এতে আরো বলা হয়, এসব কোর্সে প্রশিক্ষণার্থীদের দুপুরের খাবারের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছিল জনপ্রতি ২৫০ থেকে ৩৫০ টাকা। পরিচালক প্রশান্ত একাডেমির ঝাড়ুদারকে দিয়ে সেই খাবার রান্না করিয়ে মোটা অংকের টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এছাড়া কোর্সের অন্যান্য খাতেও খরচ কমানো হয়। নিম্নমানের এসব কোর্স তাই বেবিচক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের তেমন কোনো উপকারেই আসেনি। অথচ প্রতিবছর প্রশিক্ষণের নামে ১০ থেকে ১৫ কোটি টাকার বড় অংশই গেছে পরিচালক প্রশান্ত কুমার ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা মামুনুর রশিদের পকেটে। 

অবৈধভাবে অর্জন করা এসব টাকায় রাজধানীতে জমি, উত্তরা আবাসিক এলাকায় ফ্ল্যাট, সন্তানকে ইংলিশ মিডিয়ামের ব্রিটিশ কারিকুলামে পড়ানোসহ বিভিন্ন অভিযোগও আনা হয়েছে এতে। 

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে পরিচালক প্রশান্ত কুমার চক্রবর্তী গণমাধ্যমকে বলেন, প্রশিক্ষণার্থীদের দুপুরের খাবারের বিষয়টি বেবিচক কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিয়েই করা হয়েছে। অথচ একটি চক্র দুদকে মিথ্যা অভিযোগ দিয়েছে। বেবিচক এখন বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করেছে। 

সিভিল এভিয়েশনের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মামুনুর রশিদ অবসরে গেছেন বলে জানান তিনি।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমএস
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!